ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের দাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা চৌধুরী বিনানুমতিতে ১৪ দিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। এদিকে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যেমন অজানা তেমনি অনুপস্থিতর কারণ সম্পর্কেও তথ্য নেই সহকারী শিক্ষকদের কাছে। সহকারী শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, তাদের সাথে প্রধান শিক্ষককের কোনো যোগাযোগ নেই। কিন্তু প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন হামিদা আক্তার নামের সহকারী শিক্ষককে তিনি (সাজেদা) তাঁর অবর্তমানে দায়িত্ব পালনের জন্য বলে এসেছেন। তবে হামিদা আক্তার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক তাকে (হামিদা) ফোন করে দায়িত্ব পালনের জন্য বলেছেন।
দাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এ বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক গত ২৫ মে থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ১৪ দিন ধরে টানা অনুপস্থিত রয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককের সাথে কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেননি ও বিদ্যালয়ের কোনো খোঁজ খবর নেননি। এতে করে বিদ্যালয় পরিচালনায় সহকারী শিক্ষকের বেগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক সাজেদা চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক হামিদা আক্তারকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছি। আমার শরীর বেশি অসুস্থ্য। ডাক্তার দেখিয়েছি। এছাড়াও এক আত্মীয় মারা গেছে। শরীর ভালো লাগলে দুয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যালয়ে যাবো। চিকিৎসাজনিত ছুটি নিবো।’
বিদ্যালয় পরিচালনা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে জানিয়ে সহকারী শিক্ষক হামিদা আক্তার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ১৪ দিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থি। আজ (মঙ্গলবার) আমাকে ফোন করে দায়িত্ব পালনের জন্য বলেছেন।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (অ্যাডহক) দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ মুকুল বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক দুই দিনের জন্য ছুটি নিয়েছিলেন। এখন বিনানুমতিতে অনুপস্থিত। তিনি জানিয়েছেন তিনি অসুস্থ। তবে অসুস্থ্যতাজনিত ছুটির জন্য এখনও আবেদন করেননি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন ‘প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি জানিনা। শিক্ষক যেহেতু ছুটির আবেদন করেনি তাই তিনি বিনানুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জেনেছি প্রধান শিক্ষকের মানসিক সমস্যা রয়েছে। তিনি অসুস্থতাজনিত ছুটি নিবেন।’