- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

১৫ জানুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শুরুর নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সব প্রকল্পে আগামি ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গঠিত জেলা কমিটির সভাপতি ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা কমিটির এক সভায় এই নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা শিগগিরই মাঠে নামব। প্রতিটি প্রকল্পে আমাদের পা পড়বে। প্রতিটি কাজ যাচাই-বাছাই করা হবে। বাঁধের কাজে অবহেলা বা অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ সভাপতিত্ব করেন।
হাওরে বাঁধ নির্মাণের নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। পানি উন্নয়ন বোডের্র কর্মকর্তা বলছেন, হাওর থেকে পানি ধীরে নামায় প্রকল্প নির্ধারণে সমস্যা হওয়ায় কিছু প্রকল্পে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
সভায় জানানো হয়, সোমবার পর্যন্ত হাওরে বাঁধের কাজের জন্য ৭২০টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭৮টি প্রকল্প জেলা কমিটিতে অনুমোদন হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে ৬৭৮টি। এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়েছে ৩২৯টি প্রকল্পে। প্রতিটি প্রকল্পে একটি পিআইসি কাজ করবে। নীতিমালা অনুযায়ী, হাওরের প্রকৃত কৃষক ও সুবিধাভোগীদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি পিআইসি গঠন করা হয়। বাঁধের কাজে এ পর্যন্ত ৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বরাদ্দের চাহিদা আছে ১২৭ কোটি টাকা।
সভায় বক্তারা বলেন, বাঁধের কাজে গতি বাড়াতে হবে। যেসব স্থান ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলোর কাজ আগে শেষ করতে হবে। এ জন্য প্রতিটি উপজেলা কমিটিকে সক্রিয় হতে হবে। পিআইসি যাতে সময় মতো টাকা পায় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, সুনামগঞ্জের মানুষ বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ যথাযথভাবে নির্মাণ না হলে কৃষকের ফসল ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই যথাসময়ে নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, সুনামগঞ্জে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের দুই নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান ও মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. শফিকুল আলম, প্রবীণ আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজাদ, প্রবীণ আইনজীবী রইছ উদ্দিন আহমদ, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম বাবলু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী মো. শামছুল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সমকালের জেলা প্রতিনিধি পঙ্কজ কান্তি দে, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, প্রথম আলো’র স্টাফ রিপোর্টার খলিল রহমান, জেলা কৃষকলীগের সদস্যসচিব বিন্দু তালুকদার প্রমুখ।

  • [১]