- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

১৫ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ

সিলেট অফিস
আলোচিত খাদিজা বেগম হত্যাচেষ্টা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ১৫ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। রবিবার সিলেটের মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো আগামী ১৫ ডিসেম্বর সম্ভব হলে খাদিজাকেও আদালতে এসে সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে খাদিজাকে আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন কি না, এ বিষয়টি আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেছেন বিচারক।
জানতে চাইলে আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান জানান, অবশিষ্ট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত ১৫ ডিসেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। সর্বশেষ পর্যায়ে পাঁচ সাক্ষীর মধ্যে খাদিজাও একজন সাক্ষী। আদালত তাঁকে সাক্ষ্য দিতে বলায় তখন চিকিৎসকের সঙ্গে তাৎক্ষনিক যোগাযোগ করা হয়। চিকিৎসক খাদিজাকে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেন। তখন বিষয়টি আদালতকেও জানানো হয়। এপিপি বলেন, ১৫ ডিসেম্বর খাদিজা পারলে সাক্ষ্য দেবেন, না হলে অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ গ্রহণ করে সমাপ্ত করা হবে।
আদালত সূত্র জানায়, গতকাল ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। এরমধ্যে বদরুলের স্বীকারোক্তমূলক জবাবন্দি গ্রহণকারী বিচারক উম্মে সরাবতন তহুরা, খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া, মা মনোয়ারা বেগম, মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল মুন্সি, তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের নিওরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক আতিকুল গণিসহ নয়জন পুলিশসদস্য।
আদালত সূত্র জানায়, এর আগে ৫ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ের ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত মামলার ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া সাক্ষ্য দিতে গিয়ে খাদিজার শারীরিক অবস্থারও বর্ণনা দেন।  তিনি আদালতকে খাদিজার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে দিন দিন উন্নতি হওয়ার বিষয়টিও জানান।
সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজাকে গত ৩ অক্টোবর বিকেলে এমসি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে বিএ (পাস) পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বদরুল। ঘটনার পরপরই জনতা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে দেন। খাদিজাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।  
৪ অক্টোবর এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একমাত্র বদরুলকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় বদরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে পরদিন আদালতে বদরুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হামলার পর মামলা হওয়ার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ গত ৮ নভেম্বর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোপত্রের শুনানি শেষে তা গৃহীত হলে ২৯ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য হয়।
সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামে খাদিজার বাড়ি। খাদিজাকে বদরুলের কোপানোর ভিডিওচিত্র মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। বদরুলের দ্রুত বিচারের দাবিতে গত প্রায় এক মাস সিলেটসহ সারা দেশে প্রতিবাদী নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
অভিযুক্ত বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মনিজ্ঞাতি গ্রামে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী (অনিয়মিত) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদরুলকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।

  • [১]