- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

২০ বছর পর ডেমি ধান কাটলেন জামালগঞ্জের কৃষকরা

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
ধান কাটার পর জমিতে যে ধানের গোছা অবশিষ্ট থাকে সেখান থেকে আবারও চারা গজিয়ে ধান হওয়াকে ডেমি ধান বলে। জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নে বদরপুর, বেহেলী আলীপুর, হাওরিয়া আলীপুর, বাঘানী, হরিনগর, ফেনারবাক ইউনিয়নের শান্তিপুর, ভুতিয়ারপুর, ভীমখালী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও জাল্লাবাজ, রোপাবালী গ্রামের পাশের হাওরে এখন ডেমি ধান কাটায় ব্যস্ত বহু কৃষক। বি-আর ২৮ ও ব্রি-ধান ২৮ জাতের জমিতে ডেমি ধান হয়েছে বেশি। একর প্রতি ১০ থেকে ১২ মণ ধান পাচ্ছেন কৃষকরা। তবে শীষ আসার সময় যারা যতœ নিয়ে ও গরু-বাছুর তাড়িয়ে রেখেছেন তারা ফসল পাচ্ছেন ১২-১৪ মণ করে। প্রায় বিশ বছর পর ডেমি ধান কাটতে পেরে খুশি কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ডেমি ধানকে আমরা মুড়ি ফসল বলি। শুধু ধান নয়, আখ ও কলার মূল ফসল কাটার পর গোড়া থেকে পুনরায় গাছ হয়। সেই গাছ থেকে পাওয়া ফসলকেও মুড়ি ফসল বলে। ফলন কম হলেও চাষের খরচ নেই, তাই কৃষকেরা লাভবান হয়। তবে আগাছা পরিষ্কার, মরা পাতা পরিষ্কার করে দেওয়া হলে ফলন বেশী হয়। বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার দেড় থেকে দুই মাস পর এই জমি থেকে বিনা খরচে একর প্রতি ১০-১২ মণ মুড়ি ধান উৎপাদন করা যায়। কোন কোন জায়গায় এর থেকেও বেশি হয়।
বেহেলী ইউনিয়নের বাগানী হরিপুর গ্রামের কৃষক হাসন আলী, মনির হোসেন, ময়না মিয়া বলেন, কোন রকম খরচ ছাড়াই ডেমি ধান কাটতে পেরে আমি খুব খুশি। মূল বোরো ধান কাটার পর ১৫-২০ দিনের মধ্যে ধানের গোড়ায় শীষ আসে। এরপর ২৫-৩০ দিনের মধ্যে ডেমি ধান কাটা যায়। যে সকল জমিতে এক থেকে দেড় ফুট উঁচুতে ধান গাছ কাটা হয়েছে সে সকল জমিতে ডেমি ধান বেশি পাওয়া যায়।
তারা বলেন, জামালগঞ্জে এবার ফসল কাটা হয় এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে, আর মুড়ি ফসল কাটা শুরু হয় জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে।
বেহেলী ইউনিয়নের হাওরিয়া আলীপুর গ্রামের আয়না মিয়া বলেন, এবার ২০ একর জমিতে বোরো ধান করেছি। বোরো ধান লাগাইয়া বিঘা প্রতি ১৭-১৮ মণ ধান পাইছি। এহন (এখন) কাটা ধানের গোড়া থেকে কোন যতœ ছাড়াই ধান পাইছি আরও ২শ’ মণ। প্রায় বিশ বছর পর ডেমি ধান কাটতে পারছি। অন্য বছর ডেমি ধান কাটমু দূরের কথা আসল ধান কাটা লইয়া দৌঁড়াদৌঁড়ি শুরু হইতো।
হরিনগর গ্রামের আজির রহমান বলেন, ৫ বিঘা জমিতে ডেমি ধান ফলন হয়েছে ১৪ মণ। শুধু ধান কাটার খরচ ছাড়া পুরাটাই লাভ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, জামালগঞ্জ উপজেলায় এবার বোরো ধান তোলার পর মুড়ি ধান কাটতে পেরে কৃষকরা খুশি। এবার প্রায় ৫ শত হেক্টর জমিতে মুড়ি ধান হয়েছে। একর প্রতি ফলন হয়েছে ১২-১৫ মণ।

  • [১]