- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

২০ হাজার মণ ডেমি ধান কেটে আনতে পারেন নি কৃষকরা

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লার ছায়ার হাওর রক্ষা বাঁধ অগ্রিম কেটে দেওয়ায় হাওরের প্রান্তিক কৃষকরা কমপক্ষে ২০ হাজার মণ ডেমি ধান তুলে আনতে পারে নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। কৃষকদের দাবি ওই সময়ে বাঁধ না কাটলেও চলতো। বাঁধ কাটায় হাওরপাড়ের শতাধিক গ্রামের চাষীরা গরু’র ঘাষ খাওয়ানো নিয়েও সংকটে পড়েন।
শাল্লার ছায়ার হাওরে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি আছে। এই হাওরের একদিকে দিরাইয়ের জয়পুর অন্যদিকে শাল্লার শ্রীহাইল। আরেকদিকে শাল্লার ঘুঙ্গিয়ারগাঁও থেকে নেত্রকোণার কালিয়াজুরির কৃষ্ণপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। হাওরের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার, প্রস্ত ৮ কিলোমিটারেরও বেশি। এবার বর্ষার পানি বিলম্বে আসায় এই হাওরে কাটা ধানের গুড়ায় ডেমি ধান হয় অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি। হাওর থেকে প্রতিদিন একেকজন প্রান্তিক কৃষক কমপক্ষে এক মণ ডেমি ধান কেটে এনেছেন। হাওরপাড়ের শতাধিক গ্রামের কৃষকের গরু ছড়ানোও গেছে হাওরে। গরু’র ঘাষ খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত ছিলেন কৃষক। এরমধ্যেই উপজেলা প্রশাসন ১৫ দিন আগে হাওরের মাউতির বাঁধ কেটে দেবার নির্দেশ দেন। প্রশাসনের নির্দেশে হাওরের মাউতির বাঁধ কেটে দেওয়ায় দাড়াইন নদীর পানি দেখতে হাওরে ঢুকে ডুবে যায় হাজার হাজার হেক্টর জমি। একইসঙ্গে ডুবে ডেমি ধানও। এতে কমপক্ষে ২০ হাজার কৃষক ডেমি ধান কেটে আনা থেকে বঞ্চিত হন। হাওরপাড়ের গ্রামগুলোর কৃষকদের গরুর ঘাষ খাওয়ার সুবিধা ছিল হাওরে, সেটাও পানি ঢুকে বাধাগ্রস্ত হয়।
হাওরপাড়ের কান্দিগাঁও গ্রামের বড় কৃষক আব্দুছ ছাত্তার বললেন, ছায়ার হাওরের মাউতির বাঁধ ১৫ দিন আগে কেটে দেবার কোন প্রয়োজন ছিল না। এবার হাওরে অন্য যে কোন বছরের চেয়ে ডেমি হয়েছিল বেশি। একেকজন প্রান্তিক কৃষক কমপক্ষে এক মণ করে প্রতিদিন ডেমি ধান কেটে এনেছেন হাওর থেকে। হাওরে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই হাজার কৃষক ডেমি তোলার কাজ করেছেন। ১০ দিন পরে বাঁধ কাটা হলে ২০ হাজার মণ ধান বেশি ওঠতো হাওর থেকে। বাঁধ কাটায় কৃষকরা ডেমি তোলা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বাঁধ আরও ১০ দিন পরে কেটে পানি ছাড়লেও কোন সমস্যা হতো না। তিনি জানালেন, জলমহাল ব্যবসায়ীদের অনুরোধে হয়তো বা এই কাজ করা হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাল্লার বাসিন্দা অবনী মোহন দাস বললেন, ৮-১০ দিন পরে ছায়ার হাওরের মাউতির বাঁধ কাটলে বাঁধের কোন ক্ষতি হতো না। ১৫ থেকে ২০ হাজার মণ ধান তুলে আনতে পারতেন প্রান্তিক কৃষকেরা। জৈষ্ঠ মাসে শত শত ছোট নৌকা দিয়ে ডেমি ধান কেটে এনেছেন কৃষকরা। মাউতির বাঁধ না কাটলে আরও ১০-১২ দিন ডেমি কাটা যেত। হাওরে আরও ১০-১২ দিন গরুও ঘাস খেতে পারতো।
তিনি জানান, একইভাবে উপজেলা প্রশাসন গিলোটিয়া স্লুইসগেটের ৩ টি ডালা খুলে দিয়েছিলেন, আমরা স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় পরে স্লুইসগেটের দুটি ডালা বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তাতে উদগল হাওরের কিছু ডেমি ধান রক্ষা হয়েছে। ছায়ার হাওরের মাউতির বাঁধ এবার বাস্তবতার সঙ্গে মিল না রেখেই কাটা হয়েছে। বাঁধ এখন (২০ জুন) কাটলেও কোন সমস্যা ছিল না।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর হোসেন বললেন, অন্যান্য বছর নৌ-চলাচলে সুবিধার্থে হাওর রক্ষা বাঁধ আরও আগে কাটা হয়। এবার হাওরে ডেমি ধান হওয়ায়, ধান তোলার সুবিধার জন্য বাঁধ বিলম্বে কাটা হয়েছিল। বাঁধ না কাটলে বাঁধের বিভিন্ন দিকে রাতের আঁধারে কেটে দেওয়া হয়। এজন্য উপজেলা সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েই বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে।

  • [১]