আসাদ মনি
সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকরা। বীজতলায় বীজ বপন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ কৃষক।
জেলার হাওরাঞ্চলের কৃষকরা একফসলি বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল। নভেম্বর পর্যন্ত পানিতে টুইটম্বুর থাকে হাওর। বছরের শেষের দিকে পানি নামতে শুরু হলেই বীজতলা তৈরি করে বীজ বপনের কাজ শুরু করেন কৃষকরা। এরপর জমিতে চারা রোপনের উপযোগী হতে আরো এক দেড় মাস সময় অপেক্ষা করতে হয়। বীজতলায় বপনকৃত চারা রোপনের উপযুক্ত করতে জমি প্রস্তুত করতে হয়। এই সময়ে কচুরিপানা, বনবাদালি পরিষ্কার, কোন কোন ক্ষেত্রে ট্রাক্টর মেশিন বা গরু দিয়ে ধান রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত করেন কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দিরাই, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, শাল্লা, বিশ^ম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার হাওর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এবার হাওর থেকে পানি নামতে কিছুটা সময় বেশি লেগেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বীজ বপনের কাজ সেরে নেবার চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. সবুজ মিয়া বলেন, ‘এবার শনির হাওরে আমি দেড় হাল (৬ একর) জমিতে ধান চাষ করবো। পানি কমছে। এখন ধানের বীজ বপন করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ধানের রোয়া দেব।
জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, আমি হালির হাওরে ১৪ কেয়ার (৪ একর ২ কেয়ার) জমি চাষ করবো। এবার পানি ঠিক সময়ে না নামলেও আমরা চাষাবাদের কাজ শুরু করেছি। সব ঠিক থাকলে ২শ’ মন ধান ঘরে তুলবো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. ফরিদুল হাসান জানালেন, ৯৫ শতাংশ বীজতলায় ধানের বীজ বপনের কাজ শেষ হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বীজ বপনের কাজ শেষ হবে। এবার ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০ হাজার ৭শ’ ৮৯ হেক্টর জমিতে বীজ বপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল। ইতিমধ্যে ১১ হাজার ২শ ৪৯ হেক্টর জমিতে ধানের বীজ বপন হয়েছে।