- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির সরকারি পদ/ সমন্বিত নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য

স্ট্যাটিসটিক্স অব সিভিল অফিসার অ্যান্ড স্টাফস ২০২১ এর তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশে বেসামরিক সরকারি কর্মচারির পদ রয়েছে ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫৫২ টি। এর প্রায় ১২ লাখই জাতীয় বেতনস্কেলের ১৩ হতে ২০ গ্রেডভুক্ত প্রচলিত অর্থে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিভুক্ত (যদিও সর্বশেষ বেতনস্কেলের গেজেট অনুসারে সরকারি কর্মচারিদের এমন শ্রেণিকরণ বিলুপ্ত করা হয়েছে)। এসব সরকারি কর্মচারি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর বা মাঠ প্রশাসনে কর্মরত আছেন। প্রচলিত নিয়মে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদাভাবে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদসমূহ নিয়োগ করে থাকে। এক একটি নিয়োগপ্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ সময় ও ব্যয়ের প্রয়োজন হয়। ফলে বহু সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচুর শূন্য পদের বাস্তবতা দেখা যায়। শূন্য পদের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ ও সেবাদান সক্ষমতা কমে যায়। জনগণ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে অনেকক্ষেত্রে ক্ষুব্ধ হন। অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পর্যায়ের বেশিরভাগ পদ সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। সরকরি কর্মকমিশন একটি নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদামত কর্মকর্তা পদ পূরণের লক্ষ্যে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ করতে পারে। কিন্তু ১৩ থেকে ২০ তম গ্রেডের কর্মচারিদের নিয়োগের জন্য এমন কোনো কেন্দ্রীয় বা সমন্বিত ব্যবস্থাপনা না থাকায় বেশ সমস্যা হয়।
সরকার ্এই বিষয়টি বিবেচনা করে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় ও সমন্বিতভাবে সম্পাদন এবং একসাথে অধিকসংখ্যক যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে প্যানেল তৈরির চিন্তা শুরু করেছেন বলে মঙ্গলবারের দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। এ লক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় একসাথে বেশি সংখ্যক প্রার্থী বাছাই করা হবে। সকলকে একসাথে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ হয়তো থাকবে না। কিন্তু অবসর, চাকুরি পরিবর্তন, বরখাস্ত প্রভৃতি কারণে শূন্য হয়ে পড়া পদগুলোতে এই প্যানেল থেকে দ্রুততার সাথে নিয়োগ দান করা যাবে। দেশের শূন্য পদের সংখ্যা কখনও স্থিতিশীল থাকে না। সংগত কারণেই অনেকে চাকুরি ছেড়ে চলে যান, অবসরে গমন করেন, কেউ কেউ চাকুরিচ্যুতও হন, নতুন পদও তৈরি হয়। এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যোগ্য ব্যক্তির অপেক্ষমাণ তালিকা থাকলে নতুন করে জটিল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে ওই তালিকা থেকে সহজেই নিয়োগ দিয়ে দেয়া যাবে। একই সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আলাদা আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ঝামেলা থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে। সুতরাং সরকারের এই ধরনের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
কর্মচারি নিয়োগের জায়গায় অনেক সময় আমরা নানা ধরনের অসাধু পন্থা অবলম্বনের খবর পাই। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দান করার মতো গর্হিত চর্চাও রয়েছে। গত কয়েকটি বিসিএস নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। অর্থাৎ বিসিএস পরীক্ষায় একটি স্বচ্ছতা কায়েম করা সম্ভব হয়েছে। নিচের পদগুলোর ক্ষেত্রেও যদি অনুরূপ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া চালু করা যায় তাহলে যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। যা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবাসক্ষমতা ও দক্ষ কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য সহায়ক হবে। কোনো প্রার্থী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অসততার সম্মুখীন না হলে কর্মক্ষেত্রে তার সৎ থাকার সম্ভাবনা বেশি। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবাদানের নামে জনগণকে হয়রানি করার যে অসহনীয় পরিবেশ তৈরি হয়ে আছে তা থেকে উত্তরণ ঘটাতেও একটি স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার গুরুত্ব রয়েছে। তাই দ্রুত ্ওই চিন্তা-ভাবনাকে বাস্তবায়ন পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

  • [১]