- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

৩ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগের ২৪ ও বিএনপির ১৭

বিশেষ প্রতিনিধি
দলীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেলার জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ৪২ জন বিদ্রোহি প্রার্থী। আওয়ামী লীগের ২৪ জন , বিএনপির ১৭ ও জাতীয় পার্টিার ১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
রবিবার থেকে শুরু করে মঙ্গলবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে বিদ্রোহি নেতারা নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত লড়বেন এই মনোভাব নিয়েই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। জেলার দুই ধাপের নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এমনকি  দলের বিরোধিতা করার জন্য কাউকে কারণ দর্শানোর চিঠি পর্যন্ত দেয়া হয়নি।
জানা যায় জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ভজন তালুকদারের সাথে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন শওকত আলী, রতি রঞ্জন পুরকায়স্থ, প্রদীপ কুমার মজুমদার মিনু, মিহির লাল রায়, আসাদুর রহমান ও অসীম চন্দ্র তালুকদার, বিএনপির দলীয় প্রার্থী মোকসেদ আলীর সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল খালেক ফারুক।
ফেনারবাঁক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী করুনা সিন্ধু তালুকদারের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন সাধন চন্দ্র তালুকদার, মতিউর রহমান, নূরু মিয়া ও আব্দুল লতিফ নাজেল, বিএনপির দলীয় প্রার্থী জুলফিকার চৌধুরী রানার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেন ইফতেখার চৌধুরী ও হারুনূর রশীদ। ভীমখালী ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় প্রার্থী শাহীনুর রহমান শাহীনের সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন দুলাল মিয়া, আক্তারুজ্জামান তালুকদার, আসাদুল আলম, আব্দুর রকিব তালুকদার ও আলী আহমদ।
সাচনাবাজারে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম শামীমের সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন মকবুল হোসেন আফিন্দি। জাপার দলীয় প্রার্থী নূরে আলম উজ্জ্বলের সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন এমদাদুল হক আফিন্দি।
তাহিরপুর উপজেলায় সদর ইউনিয়নে মোতাহের হোসেন আখঞ্জি শামীমের সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা  ইকবাল হোসেন তালুকদার, স্বপন দাশ ও হাফিজ উদ্দিন পলাশ।
বাদাঘাট ইউনিয়নে আ.লীগের নিজাম উদ্দিনের সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হয়েছেন মোর্শেদ আলম ও যুবলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন। উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন আবুল হোসেন খানের সাথে বিদ্রাহি প্রার্থী হয়েছেন জয়দর আলী ও আমির আলী। বালিজুরী আতাউর রহমানের সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল জহুর তালুকদার। উত্তর বড়দল জামাল উদ্দিনের সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হয়েছেন মাশুক মিয়া। দক্ষিণ বড়দল হাজী ইউনুছ মিয়ার সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হয়েছেন আব্দুছ ছাত্তার।
বিএনপির দলীয় মনোনয়নে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপিতে আলী আহসান মুরাদের সাথে শামীম আহমেদ, বালিজুরী ইউপিতে ফেরদৌস আলমের সাথে সাখাওয়াত হোসেন, দক্ষিণ বড়দল ইউপিতে আজাহার আলীর সাথে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সবুজ আলম, আবুল কালাম আজাদ, ইলিয়াস আহমদ, বুরহান উদ্দিন ও আব্দুছ ছালাম বিদ্রোহি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সোলেমান মিয়ার সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসাবে আব্দুল কাইয়ুম, ফতেপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী শামছুজ্জামান শাহ’র সাথে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসাবে রনজিৎ চৌধুরী রাজন ও মুহিবুর রহমান। ফতেপুরে বিএনপির দলীয় প্রার্থী শাহাব উদ্দিন সাবুলের সাথে ফারুক আহমদ, সলুকাবাদ ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী মহন মিয়ার সাথে রওশন আলী বিদ্রোহি প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। যারা দলের প্রার্থীর বিরোধিতা করে বিদ্রোহি প্রার্থী হয়েছেন তাদের নামের তালিকা আমরা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। নতুন করে যারা বিদ্রোহি হচ্ছে তাদের সবার নাম ঢাকায় পাঠানো হবে। কেন্দ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা দলের প্রার্থীর পক্ষে ও নৌকার পক্ষেই কাজ করবেন। প্রকৃত আওয়ামী লীগাররা কখনই নৌকার বিরোধিতা করেন না।’
জেলা বিএনপির আহবায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে মনোনয়ন প্রদানকারী বিদ্রোহি প্রার্থীদের বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই আমাদের কাছে। আমরা বিদ্রোহি প্রার্থীর বিষয়টি কেন্দ্রকে জানাব।’

  • [১]