- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ হচ্ছে

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর-সৈয়দপুর যাতায়াত সড়কের ২৬ শ’ মিটার দৈর্ঘ্যরে, ৩ মিটার প্রস্তের আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। চলতি বছরের আগষ্টের শেষের দিকে কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
জানা যায়, ইব্রাহীমপুর-সৈয়দপুর সড়কের সংস্কার কাজ হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে। সংস্কার কাজ করার একমাস পর থেকে সড়কে ভাঙন দেখা দেয়। পরে সড়কের ভাঙন নামে মাত্র মেরামত করা হয়েছিল পর পর দুইবার। এখন ভাঙা সড়কের শতাধিক স্থানে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় সড়ক ভাঙনের কারণে গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। শুকনা মৌসুমে আবার ধুলার সৃষ্টি হয়। গত তিন বছর ধরে বিপৎজনকভাবে এই সড়কের একাধিক স্থানে পাকা ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে পড়েছে। সড়কে যান চলাচল বা মানুষ চলাচলে সামান্য অসাবধানতায় নানা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশংকা প্রতিনিয়ত। বছরের পর বছর যান চলাচল ও মানুষজন চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ইব্রাহীমপুর, অক্ষয়নগর, সৈয়দপুর, মুসলিমপুর, হুড়ারকান্দা, কৃষ্ণনগর, সাহেবনগর, আমপাড়া ইত্যাদি গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকেন। সবজি ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং রোগীরা শহরে আসা-যাওয়া করেন এই সড়ক দিয়ে। এছাড়াও এই সড়ক দিয়ে ইব্রাহীমপুর গ্রাম থেকে সৈয়দপুর হয়ে চৌমুহনী ও ডলুরা শহীদ মিনার যাওয়ার সহজ সড়ক যোগাযোগ মাধ্যম। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত এলাকা ডলুরা ও বর্ডার হাটে।
সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মমিন মিয়া বলেন,‘প্রায় ১০ বছর আগে ইব্রাহীমপুর-সৈয়দপুর সড়কের সংস্কার কাজ হয়েছিল। কিন্তু এরপর সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমরা দ্রুত এই সড়কের সংস্কার কাজের দাবি জানাই।’
একই গ্রামের ব্যবসায়ী কবির হোসেন ও মোড়ল জাহার মিয়া বলেন, সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য বিগত সময়েও ভাল বরাদ্দ এসেছিল। কিন্তু কাজের মান ভাল হয়নি। একই বছরে ধুয়েমুছে যায় সড়কের সব ঢালাই। দ্রুত সড়কের টেকসই উন্নয়ন চাই।
মুসলিমপুর গ্রামের ডা. আব্দুল খালেক বলেন, বিগত সময়ে এই সড়কের বরাদ্দের টাকায় সঠিক কাজ হয়নি। সড়কের ঢালাইয়ে ১ মাস পরেই ফাটল ধরে। পরে আস্তে আস্তে সড়কটি নষ্ট হয়ে যায়।
পথচারী শাহজান মিয়া বলেন, সড়ক উন্নয়ন বরাদ্দের খবর পেলে একশ্রেণীর জনপ্রতিনিধি লুটে খাওয়ার প্রত্যাশায় নানা কৌশল অবলম্বন করেন। বরাদ্দের টাকা ভাগ করে নিতে নিতে অবশেষে কাজ কম হয় সড়কে। এই সড়ক দ্রুত উন্নয়নের দাবি আমাদের।
ঠিকাদার আবু হানিফ বলেন, ইব্রাহীমপুর-সৈয়দপুর সড়ক সংস্কারের জন্য ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। এই বরাদ্দের টাকায় ২৬ শ’ মিটার দৈর্ঘ্য, ৩ মিটার প্রস্তে সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। সড়কের ঢালাই কাজের সাথে সাইট ওয়াল হবে এবং সড়কের এক স্থানে বক্স কার্লভাট তৈরি করা হবে। সড়কের কাজ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেই শুরু হবে।
এলজিইডি’র সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,‘ইব্রাহীমপুর-সৈয়দপুর সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ এসেছে। আশাকরি আগষ্টের শেষের দিকে কাজ শুরু করা যাবে। সড়কের টেকসই উন্নয়ন হবে। এই জন্য এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • [১]