স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে পৃথক ৩টি ধর্ষণ মামলায় ৩ আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেছেন বিচারক। এছাড়া একটি অপহরণ মামলার ৪ আসামীকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার বিকালে একসঙ্গে ৪ টি মামলার রায় প্রদান করেছেন সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন।
আদালতের রায়ের বিবরণ থেকে জানা যায়, ধর্ষণ মামলার আসামী ছাতক পৌরসভার গনক্ষাই গ্রামের মৃত. কানু বিশ^াস’র ছেলে কাঞ্চন বিশ^াস (৩৫) কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা, একইভাবে ধর্ষণ মামলার আসামী দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের আব্দুল খালিক’র ছেলে আব্দুল বাতেন (২৮) কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অপর ধর্ষণ মামলার আসামী জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীধরপাশা গ্রামের মৃত. মোক্তার আলী’র ছেলে সুমন মিয়া (২২) কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদানের আদেশ দিয়েছেন সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। জরিমানার টাকা ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেয়া হবে। এদিকে ৪ অহরণকারীকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন বিচারক। আসামীরা হলো ছাতক উপজেলার আন্দাইরগাঁও গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন (২২), হেলাল উদ্দিন (২০), আবু রায়হানের ছেলে সাজল মিয়া (২৪), মৃত সইফুর রহমানের ছেলে অজুদ মিয়া (২৩)। রায় ঘোষণার সময় এই চারটি মামলার আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ছাতক উপজেলার ৭ বছরের শিশু কন্যা ২০১৪ সালের ১৬ আগস্ট প্রাইভেট পড়তে শেলি রানী পালের ঘরে যায়। সেখান থেকে আসামী কাঞ্চন বিশ^াস মেয়েটিকে পেয়ারা খাওয়ার লোভ দেখিয়ে শয়ন কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এঘটনায় শিশু কন্যার বাবা আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট দাখিল করে। সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে সোমবার বিচারক রায় ঘোষণা করেন।
জেলার দিরাই থানার জগদল গ্রামের আব্দুল বাতেন ২০ বছরের তরুণিকে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দিত। ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণ করে। পরে গ্রাম পঞ্চায়েতে তরুণিকে বিয়ে করার অঙ্গীকার করে। কিন্তু আসামী বিভিন্ন অজুহাতে তরুণিকে বিয়ে করে নি। এক পর্যায়ে তরুণি অন্তসত্তা হয় ও থানায় মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট দাখিল করে। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত সোমবার এই রায় প্রদান করেন।
সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার ১৪ বছরের কিশোরীকে জোরপূর্বক একটি ফোরস্ট্রোকে তুলে জগন্নাথপুর উপজেলায় নিয়ে আসে শ্রীধরপাশা গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে সুমন মিয়া। একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে রাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা (মামলা নম্বর ১১/০৯) হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট দাখিল করে। সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সোমবার সুমন মিয়ার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
২০১২ সালের ১২ এপ্রিল ছাতক উপজেলার বড় বিহাই গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী (১৯) ছাতক শহরের ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে সিএনজি গাড়িযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথে জাউয়া রাস্তার পাকা ব্রীজৈ পৌঁছামাত্র সিএনজি আটকিয়ে তরুণিকে অপহরণ করে আসামী জালালসহ অন্যান্য আসামীগণ। এসময় তার মা ও ভাইকে মারপিট করা হয়। এসময় সাথে থাকা ৩০ হাজার টাকা ও নকিয়া মোবাইল ছিনিয়ে নেয় আসামীরা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট দাখিল করে। সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিচারক সোমবার আসামীদের ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদানের আদেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নারী ও শিশু দমন নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পিপি নান্টু রায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, সুনামগঞ্জে ধর্ষণ ও অপহরণের পৃথক চারটি মামলায় একসঙ্গে তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং চারজনকে ১৪ বছরের করে কারাদণ্ড দেবার রায় এটাই প্রথম।
পৃথক মামলায় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন রুবেল আহমদ, আব্দুল অদুদ ও মো. রমজান আলী।