এনামুল হক, ধর্মপাশা
স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের কয়েক মাস পরেই একদিকে হেলে পড়ে এবং এতে ফাটল ধরে। ফলে এটি ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজন এটিকে সংস্কার করে দিয়ে যায়। নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করার কারণেই এটিতে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর। এখন পর্যন্ত এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়নি। ফলে এতে নামফলকও বসানো হয়নি। একটি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত এ স্মৃতিসৌধের উপরের অংশে মুষ্টিবদ্ধ হাতে ধরে রাখা ধাতব পদার্থে নির্মিত জাতীয় পতাকাটিও এখন নেই। কর্তৃপক্ষের দাবি স্মৃতিসৌধটি অরক্ষিত থাকায় কেউ হয়তো পতাকাটি খুলে নিয়ে গেছে। অরক্ষিত এ স্মৃতিসৌধটির অবস্থান ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোডস্থ জিরো পয়েন্টে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত আব্দুল হেকিম চৌধুরীর স্মৃতি স্মরণে ধর্মপাশা উপজেলার জিরো পয়েন্টে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ
২০১২-১৩ অর্থবছরে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। দরপত্রে অংশগ্রহণ করে এটি নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স কানন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি নির্মাণ কাজ শুরু করে পরের বছর জানুয়ারি মাসে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিদায় নেয়। ওই বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে স্মৃতিসৌধের উত্তর অংশে ফাটল ধরে। ফলে এটি একদিকে হেলে গিয়ে ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। খবর পেয়ে ঠিকাদারের লোকজন এটিকে সংস্কার করে দিয়ে যায়। তখন স্মৃতিসৌধের উপরের অংশের কিছুটা পরিবর্তন করা হয়। অর্ধমুষ্টিবদ্ধ হাতটিকে পুরোপুরি মুষ্টিবদ্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া হাতের আকৃতিরও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত স্মৃতিসৌধটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না করার বিষয়টি প্রয়াত আব্দুল হেকিম চৌধুরীকে অবমাননার সামিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রয়াত আব্দুল হেকিম চৌধুরীর ছেলে ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘স্মৃতিসৌধ নির্মাণের সময় ৪০ হাজার টাকার মাটি ভরাট করে দিয়েছিলাম সেখানে। ঠিকাদার সেই টাকা ফেরত না দিয়েই চলে যায়। আর কাজটিও যেনতেনভাবে করা হয়েছিল। ফলে এটি একবার হেলে পড়েছিল। স্মৃতিসৌধটি সংস্কার করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার জন্য আমাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’
স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে এ ব্যাপারে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি। তবে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ের উপ-সহকারি প্রকৌশলী সূর্য্য সেন রায় বলেন, ‘স্মৃতিসৌধের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। এটি অরক্ষিত থাকায় কেউ হয়তো পতাকাটি খুলে নিয়ে গেছে। উদ্বোধন না হওয়ায় নামফলক বসানো হয়নি। স্মৃতিসৌধটির যদি এমন অবস্থা হয়ে থাকে তাহলে তা সংস্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে সংস্কার করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’