- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

৪০ প্রকল্পে শুরু হয়েছে বাঁধের কাজ

স্টাফ রিপোর্টার
চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ৪৮টি হাওরের বোরো ফসলরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১২০০ কিলোমিটার বাঁধের জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু হাওরের জরিপ কাজ শেষ হয়নি। শেষ হয়নি পিআইসি গঠনও।
গত অর্থ বছরের চেয়ে এবার বাঁধের কাজ অনেকগুণ বেড়েছে। বেড়েছে প্রকল্পের সংখ্যা ও বরাদ্দের পরিমান। তবে নতুন ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প অনুমোদনে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন, জেলা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির বেসরকারি সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জেলা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় চলতি অর্থ বছরের কাজের বিবরণ তুলে ধরেন জেলা কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর শাখা-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
সভায় নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, গত অর্থ বছরে সুনামগঞ্জে ৪৮টি হাওরের ৫৩৬ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল। ৭২৭ টি প্রকল্পে ১২৩ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন হয়েছিল। চলতি অর্থ বছরে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬২৫ কিলোমিটার বাঁধে কাজ করার লক্ষ্যে প্রাক্কলন করা হয়েছে। কয়েকটি বাঁধের জরিপ কাজ চলমান রয়েছে। জেলার ১২ উপজেলা কমিটি থেকে ৯০৪ টি প্রকল্প পাওয়া গেছে। ১০-১৫ কিলোমিটার জরিপ বাকী রয়েছে। তাই আরও কিছু প্রকল্প হতে পারে। মাটির দর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ পর্যন্ত ৪০ টি প্রকল্পে মাটির কাজ শুরু হয়েছে। হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য ও অনেক বাঁধে মাটি কাটার মেশিন নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাঁধের কাজে তাই কিছু বিলম্ব হচ্ছে। তবে পিআইসি গঠনের কাজ দ্রুত চলছে বলে জানান তিনি।
নির্বাহী প্রকৌশলীর উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে সদর উপজেলায় ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬ টি প্রকল্পে প্রায় ১৪ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হলেও চলতি বছর ৭১ টি প্রকল্পে ৫২ কিলোমিটার কাজের ১৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫ টি প্রকল্পে ২৩ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হলেও চলতি বছর ৫৬টি প্রকল্পে ৩০ কিলোমিটার কাজের সাড়ে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলায় ১৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৮ টি প্রকল্পে প্রায় ৬০ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হলেও চলতি বছর ৭৯ টি প্রকল্পে ৫৫ কিলোমিটার কাজের ১৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলায় ৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫৮ টি প্রকল্পে ১৭০ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। চলতি বছর ১১১ টি প্রকল্পে ১১৫ কিলোমিটার কাজের প্রায় ২৩ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। তবে নতুন মধ্যনগর উপজেলায় চলতি বছর ১৪ টি প্রকল্পে ২০ কিলোমিটার কাজে দুই কোটি ৬৯ লাখ টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ টি প্রকল্পে ৪৫ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হলেও চলতি বছর ৫৯ টি প্রকল্পে ৫৩ কিলোমিটার কাজের প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬ টি প্রকল্পে প্রায় ২৮ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হলেও চলতি বছর ৮৭ টি প্রকল্পে ৪৮ কিলোমিটার কাজের ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮ টি প্রকল্পে প্রায় ১৫ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হলেও চলতি বছর ৩৮ টি প্রকল্পে ৪৮ কিলোমিটার কাজের সাড়ে ৫ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
দিরাই উপজেলায় ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০৪ টি প্রকল্পে ৫৪ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হলেও চলতি বছর ১৬৭ টি প্রকল্পে ৯৬ কিলোমিটার কাজের ২৮ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
শাল্লা উপজেলায় সাড়ে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩৮ টি প্রকল্পে ৮৬ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। চলতি বছর ১২৭ টি প্রকল্পে ৬৫ কিলোমিটার কাজের ২৫ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
ছাতক উপজেলায় তিন কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪ টি প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। চলতি বছর ২৩ টি প্রকল্পে প্রায় ১৮ কিলোমিটার কাজের ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ টি প্রকল্পে ২৩ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন হলেও চলতি বছর ৭২ টি প্রকল্পে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার কাজের ১৫ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী এখনই নতুন প্রকল্পের অনুমোদন না দিয়ে গত বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বাঁধগুলোতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন,‘ কিছু মানুষের উপকার করার জন্য প্রকল্প নেওয়া যাবে না। যেখানে বাঁধ নির্মাণ করা হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষকদের ফসল রক্ষা হবে সেখানেই বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করা হবে। যেসব প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ ও আপত্তি উঠবে সেগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়া হবে না।’
এসময় দ্রুত পিআইসি গঠনের কাজ শেষ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন তিনি। সভায় সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তাগণ এলাকার বাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল কান্তি সোম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আলী আমজাদ, হাওর বাচাঁও আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সফিয়ান, জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, মধ্যনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জিব তালুকদার টিটু, শ্রীপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, সাধারণ সম্পাদক পিযুশ পুরকায়স্থ টিটু প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু ও ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে চলতি অর্থ বছরে ১০০ কোটি বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। ২৫ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। গত বছরের বকেয়া ১০ কোটি টাকার মধ্যে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ছাড় হয়েছে। চলতি বছরে বাঁধের কাজের উদ্বোধনের এক সপ্তাহ পরও সব হাওরের বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। গত ৮ ডিসেম্বর জেলা কমিটির সভায় ১৯৩ টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

  • [১]