জগন্নাপুর অফিস
জগন্নাথপুরে স্বামী পরিত্যক্তাকে ধর্ষণ ও তার বাবা আনোয়ার মিয়া (৬৫) কে বেদম মারপিটের অভিযোগে আটক পাঁচ আসামীকে বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত বখাটে গোতগাঁও গ্রামের বখাটে লিটন মিয়া, আক্কাই মিয়া, দিলাক মিয়া, নোয়াগাঁও গ্রামের কাজল মিয়া ও খাঁনপুর গ্রামের আলম হোসেনকে বুধবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর জোন এর বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভজিৎ পালের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. সেলিম নেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রধান আসামী শামীম আহমদকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে, নির্যাতিতা তরুণির মামলায় উল্লেখ করেছে, স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে বাবার বাড়ি এসে বখাটের কুনজরে পড়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে সে। বখাটের ভয়ে লুকানোয় বাবাকেও লোহার রড দিয়ে পেটায় বখাটেরা।
পুুলিশের কাছে দায়ের করা মামলায় আনোয়ার আলী’র মেয়ে আরও দাবি করেন, সাত বছর আগে নবীগঞ্জ উপজেলার রাজারবাগ গ্রামের কবির মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। সন্তান গর্ভে আসার পর থেকেই ৩ মাসের মাথায় স্বামী তালাক দেয় তাকে। উপায় না থাকায় দরিদ্র বাবার পরিবারে এসে আশ্রয় নেয় সে। দুই বছর আগে দাম্পত্য বিরোধ দেখা দিলে সন্তান কে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় সে। সেখানে এলে গ্রামের আঙ্গুর মিয়া’র বখাটে ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী শামীম মিয়ার কুনজর পড়ে সে। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর শামীম মিয়া গ্রামের আশরাফ মিয়ার ছেলে মুসিন মিয়ার (৪৫) সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তার। এই প্রস্তাবে সে রাজি না হলে পরদিন শামীম এসে জানায় এই বিয়েতে তুই রাজি না হলে, তোর ছেলে ছেলে সাগরকে কেটে ফেলবো। এরপর শামীম জোরপূর্বক তাকে তার বাড়ি নিয়ে আসে এবং বিভিন্ন সময় জোর পূর্বক তাকে ধর্ষণ করতে থাকে। শামীম কোন কারণ ছাড়াই তাকে মারধর করতো। এই অবস্থায় সে ভয়ে কয়েকদিন আগে বাড়ি ছেড়ে লুকিয়ে নবীগঞ্জের অভয়নগরে গিয়ে গৃহপরিচার কাজ নেয়।
গত সোমবার রাত ১ টায় গোতগাঁও গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ী শামীম আহমদসহ কয়েক বখাটে আলীগঞ্জ বাজারের কলোনিতে গিয়ে আনোয়ার মিয়ার মেয়ের খোঁজ করে। মেয়েকে না পেয়ে আনোয়ার মিয়াকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটায়।