বিন্দু তালুকদার
অগ্নিকা- রোধ, দুর্ঘটনা থেকে রক্ষাসহ দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধার কাজ চালালো, জান-মালের নিরাপত্তা জোরদারকরণে সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় নির্মাণ হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অফিস। এতে জেলার ক্ষয়-ক্ষতি রোধ হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
নির্মাণাধিন ওই ৫ উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের জন্য ৩ তলা বিশিষ্ট আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ করছে জেলা গণপূর্ত বিভাগ। তবে উপযুক্ত জমি না পাওয়ায় আপাতত জেলার তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজারে নির্মাণ হচ্ছে না এই স্টেশন।
জেলা গণপুর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় নির্মাণ করা হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভবন। দিরাই ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্য উপজেলায় দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। ধর্মপাশায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে।
দিরাই বাজারের ব্যবসায়ী রফিক আহমদ বলেন,‘ আমাদের এলাকার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি চালু হলে খুবই উপকারে আসবে। কারণ আগুণ লাগা
ছাড়াও কোন দুঘটনা ঘটলে সুনামগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসতে হয়। সুনামগঞ্জ থেকে আসতে আসতেই ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে যায়।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন গোস্বামী বলেন,‘ ফায়ার সার্ভিস জরুরি সেবা প্রদানকারী একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। উপজেলা সদরে এর কোন স্টেশন না থাকায় আগুন লাগলে বা কোন দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে সুনামগঞ্জ শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ও গাড়ি আসতে অনেক সময় চলে যেত। এলাকায় ফায়ার সার্ভিস হলেও আমরা দ্রুত সেবা পাব।’
সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ সহকারি পরিচালক জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক বলেন,‘ প্রতিটি উপজেলায় এখন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন হবে। সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। এসব স্টেশন চালু হয়ে গেলে এলাকার লোকজন জরুরি সেবা পাবেন। জান-মালের নিরাপত্তা জোরদার হবে। বড় ঘটনা ছাড়া জেলা সদর থেকে আমাদের আর যেতে হবে না। উপজেলা পর্যায়ে জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার কারণে দ্রুত সেবা পাবেন স্থানীয়রা। ’
জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর সিদ্দিকি বলেন,‘বর্তমান সরকার চাইছে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় স্থাপন করতে। ইতোমধ্যে জগন্নাথপুরে একটি অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। আরো ৫টি নির্মাণাধিন আছে। এর মধ্যে দিরাই ও বিশ্বম্ভরপুরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই দুইটির কাজ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। অন্যগুলোর কাজ আরো দুই-তিন মাস করে লাগতে পারে। ধর্মপাশায় নির্মাণের লক্ষ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। জমির জন্য তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজারে হচ্ছে না। তাহিরপুরে জমি পাওয়ার পর ওই জমির মালিক উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেছেন। দোয়ারাবাজারে নতুন করে প্রস্তাবনা তৈরি হয়েছে।’