- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের আলোচিত অপহরণ ও ধর্ষণের পৃথক পাঁচটি মামলায় ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় দুইজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন। রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানার টাকা ভিকটিমকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে রিপন মিয়া, ধর্মপাশা উপজেলার কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফের ছেলে মো. জজ মিয়া ও ফাতেমানগর গ্রামের বাসিন্দা মো. ওয়াজেদ আলীর ছেলে রুকন মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলার ইসহাকপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলকাছ উল্লার ছেলে শাহিন মিয়া, সদর উপজেলার ইছাগরি গ্রামের বাসিন্দা জিতেন্দ্র দাসের ছেলে শৈলেন দাস, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা ইদন মিয়ার ছেলে আসাদ মিয়া। এছাড়াও আসাদ মিয়ার বাবা ইদন মিয়া ও মা জগতবানুকে খালাস দেয়া হয়। রায়ের সময় আসামী মো. জজ মিয়া পলাতক ছিলেন।
সুনামগঞ্জ সদর থানার সৈয়দপুরের রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ১১ আগস্টে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। পরে ওই তরুণী গর্ভবতী হন। মামলা চলাকালে ওই তরুণী পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট দেয়। সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তাকে সাজা প্রদান করেন।
ধর্মপাশার ফাতেমানগরের রুকন মিয়ার বিরুদ্ধে একই এলাকার কামলাবাজের জজ মিয়ার সহায়তায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় ২০১১ সালের চার ফেব্রুয়ারিতে। এই মামলায় পুলিশ চার্জশিট দেয়। নয় জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ নিয়ে আদালত এই রায় দেন।
জগন্নাথপুরের ইসহাকপুরের শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ হয় ২০০৯ সালের চার অক্টোবর। পুলিশ চার্জশিট দিলে এই মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তাকে সাজা দেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইছাগরির শৈলেন দাস নবম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ এই ঘটনা ঘটে। তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট দেয়। আদালত ছয় জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে এই রায় দেন।
বিশ^ম্ভরপুরের আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত ১০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে এই রায় দেন।
এবিষয়ে রাষ্ট্র পক্ষের পিপি নান্টু রায় বললেন, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে ৫ টি মামলাই ছিলো অপহরণ করে ধর্ষণের। বিজ্ঞ বিচারক এই ৫ মামলার রায় একসঙ্গে ঘোষণা করেছেন। ৫ মামলায় ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এভাবে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় রায় হলে এধরনের অপরাধ কমে যাবে।

  • [১]