আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অসংখ্য গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মাত্র ৩ সপ্তাহে ৭ গ্রামে অন্তত: ৫ শতাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবছর বন্যার শেষে অল্প পরিমাণে গরুর ক্ষুরা রোগ দেখা দিলেও এবার ভয়াবহ আকারে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে গরু। বিপদে পড়েছেন কৃষক ও খামারীরা।
স্থানীয়রা জানান, সুরমা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর, বাণীপুর, কোনাগাঁও, নলুয়া, ঢালাগাঁও, বেরীগাঁও, বাঘমারা প্রভৃতি গ্রামের দেশী ও বিদেশী গরুর মধ্যে ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হওয়া গরুর ক্ষুরা রোগের ভাইরাস ছড়িয়ে ইতোমধ্যে অন্তত: ৫ শ’ আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রাণী সম্পদ বিভাগও এই বিষয়ে থেম কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে নি।
জানা গেছে, ক্ষুরা রোগে আক্রান্তের আগে গরুর দেহে উচ্চমাত্রায় জ্বর আসে। এই জ্বর থেকে পায়ের ক্ষুরের মাঝখানে ফোসকা হয়ে ফেটে যায় এবং ক্ষত তৈরি হয়। এই কারণে হাঁটতে পারে না গরু। গরুর দেহের অন্যান্য স্থানেও রোগ ছড়িয়ে পড়ে। মুখের ভেতরে, জিহ্বায়, দাঁতের মাড়িতে ফোসকা ফোটে লালা পড়ে। খাবার খেতে পারে না। এতে গরুর দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে। ওজন কমতে থাকে। গাভীর দুধ কমে আসে। এছাড়া গাভীর দুধ থেকে বাছুরে এই রোগ ছড়ায়। এই জন্য আক্রান্ত গরু আলাদা ও পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখার প্রতিও গুরুত্ব দিচ্ছেন গৃহস্তরা।
কৃষ্ণনগর গ্রামের খামারি আব্দুল বারিকের ৭টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। গরুর পায়ে, মুখে ও জিহ্বায় ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্ত গরুর মধ্যে কয়েকটি আছে বিদেশী। সবগুলো দুধওয়ালা। এখন দুধ কমে গেছে। ওজন কমে গেছে। রোগ প্রতিরোধে ক্ষত স্থানে পটাশ লাগিয়ে দিচ্ছেন। রোগ ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। তিনি জানান, প্রাণী সম্পদ অফিসের কোনো লোক আসেন না।
একই গ্রামের আব্দুল মতিনের ৮টি গরু, আবু হানিফার ৫টি গরু, জামাল মিয়ার ৪টি, আবু আহমদের ৩টি, আব্দুস ছালামের ২টি, ইমান হোসেনের ৪টি, আব্দুল আওয়ালের ৫টি, তুতা মিয়ার ২টি, আব্দুর রশিদের ৬টি, মুজিবুর রহমানের ৪টি, আব্দুল করিমের ৩টি, মিজান মিয়ার ৪টি, মকসুদ আলীর ২টি গরুসহ আরও অনেকের আক্রান্ত গরু রয়েছে। একইভাবে অন্যান্য গ্রামেও রয়েছে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত অসংখ্য গরু।
আবু হানিফা বলেন, আমার ৫টি গাভী গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। মুখে খাবার খেতে পারছে না। ক্ষত স্থানে পটাশ লাগিয়ে দিচ্ছি কিন্তু কমছে না। জরুরি চিকিৎসার দরকার।
আব্দুল মতিন বলেন, আমার ৮টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত। হাঁটতে পারছে না। খেতে পারছে না। মুখে দিয়ে লালা পড়ে। চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
আব্দুর রশিদ বলেন, আমার ৬টি গরু আক্রান্ত হয়ে খাবার পানি প্রায় বন্ধ। চিকিৎসা কি দেব ভেবে পাচ্ছি না।
মুজিবুর রহমান বলেন, আমার ৪টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত। নরম খাবার মাঝে মধ্যে খায়। সব সময় ঝিমিয়ে থাকে। দুধ কমে গেছে। গরুর ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার প্রয়োজন।
বাঘমারা গ্রামের মতিউর রহমান বলেন, প্রায় ২০দিন আগে থেকে ভয়াবহ আকারে এই ক্ষুরা রোগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মো. রৌশন ইসলাম বলেন, এলাকায় অনেক গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমি ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
সাবেক ইউপি সদস্য ও গরুর মালিক আব্দুল আওয়াল বলেন, প্রতি বছর অল্প পরিমাণে গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়। এবার মাত্র ৩ সপ্তাহে প্রায় ১৫০ জন গৃহস্তের ৫ শতাধিক গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় সকল গৃহস্তের গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যথাযথ চিকিৎসা না হলে গৃহস্তরা বড় ক্ষতির সম্মুখিন হবেন। ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই বিষয়ে এখন জেনেছি। আমি দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে দেবো।