- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

৫ সেতুর মধ্যে ৪টির কাজে ধীরগতি, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পূর্বে একটি বাতিল

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের শুরুতেই করোনার কারণে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। একটি সেতু আপাতত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেতুটি হচ্ছে মার্কুলিতে কুশিয়ারার উপর সেতু। সম্ভাব্যতা যাচাই পর্বেই এই সেতু হবে না জানিয়ে দিয়েছে সমীক্ষা দল।
অন্য ৪ সেতু হচ্ছে সুনামগঞ্জের পাশ দিয়ে সুরমা নদীর উপর ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতু, দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতু, সুরমা নদীতে সাচনা- জামালগঞ্জ সেতু এবং ছাতকের গণেশপুরে সুরমা নদীর উপর সেতু।
গুরুত্বপূর্ণ এই ৫ সেতু নির্মাণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যেমন সুনামগঞ্জের জন্য যুগান্তকারী হবে, ব্যবসা বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হবে।
এলজিইডি’র এক দায়িত্বশীল প্রকৌশলী জানান, ছাতকে সুরমা নদীর উপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে একটি সেতুর কাজ চলছে। এই সেতু ছাতক শিল্প শহরের একাংশকে যুক্ত করবে। কিন্তু ছাতকের গনেশপুরে সুরমা নদীর উপর আরেকটি সেতু হলে ছাতক – কোম্পানীগঞ্জ-সিলেটসহ সারাদেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আরেকটি সড়ক হবে। ছাতকের আরেকটি অংশের ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হবে। ওই দিক দিয়ে শিল্প কারখানাও গড়ে ওঠবে। এই সেতু নির্মাণে ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
সাচনা-জামালগঞ্জকে যুক্ত করতে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সাচনা-জামালগঞ্জ সেতু নির্মাণে ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। মার্কুলিতে সুরমা নদীর উপর সেতু হলে দিরাইয়ের সঙ্গে বানিয়াচঙ উপজেলাসহ হবিগঞ্জ হয়ে ওই দিক দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে দিরাই-শাল্লার যোগাযোগ সহজ হতো। সুনামগঞ্জের ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট এলাকায় সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণ করার জন্য প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে।
এই সেতু নির্মাণ হলে সুনামগঞ্জসহ সারা দেশের সঙ্গে সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উত্তর পাড়ের ৬ টি ইউনিয়নবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুলায় ইমিগ্রেসনসহ শুল্ক বন্দর হলে এই সেতু দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটাতেও কাজে লাগবে।
দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতু হলে দোয়ারাবাজারের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ সহজ হবে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন,‘গুরুত্বপূর্ণ এই ৫ সেতু-ই সমীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। যেহেতু এই সেতুগুলো বড় বড় নদীর উপর করতে হবে। সেজন্য বিআইডব্লিউটিএ, বুয়েটসহ নানা কর্র্তপক্ষ সমীক্ষা করতে হবে। করোনার কারণে এসব কাজ ধীরগতিতে হচ্ছে।
সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) এবাদত আলী বললেন, মার্কুলিতে কুশিয়ারার উপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা বুয়েট’এর সম্ভাব্যতা যাচাই দল বাতিল করে দিয়েছে। তারা বলেছেন, এখানে সেতু করতে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সেই অনুযায়ী যান চলাচল নেই এই পথে। দিরাই থেকে মার্কুলির যোগাযোগে ৭ কিলোমিটার ডুবন্ত সড়ক। এই সড়ক দিয়ে ৬ মাস যানবাহনই চলে না। এই সেতু দিয়েও ওই সময় যানবাহন চলবে না। সেতু ব্যবহার না হলে খরচের রিটার্ণ হবে না। সুতরাং এই সেতুও আপাতত হচ্ছে না। ধারারগাঁও হালুয়ার ঘাটের ৪৫০ মিটার সড়কের প্রকল্প কেবল তৈরি করার কাজ হচ্ছে। প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় থেকে প্লানিং কমিশনে যাবে। প্লানিং কমিশনে অনুমোদন হলে স্টাডি শুরু হবে। স্টাডি শেষে নির্মাণ প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হবে। একই অবস্থা দোয়ারাবাজার ও ছাতকের গণেশপুর সেতুর।
তিনি জানান, সাচনাবাজারের এক হাজার ২০০ মিটার সেতু জামালগঞ্জ-ধর্মপাশার উড়াল সড়ক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)’এ উত্থাপনের অপেক্ষায় আছে। এটিও করোনার কারণে পিছিয়েছে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

  • [১]