স্টাফ রিপোর্টার
হাওরের বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জের প্রায় ৯০ ভাগ বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাওর পাড়ের শতভাগ কৃষক। স্থানীয়দের দাবি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা হবে অন্তত কয়েক লাখ। দুর্গম হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে এখন সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরসহ প্রতিটি
উপজেলার তিনটি পয়েন্টেসহ মোট ৪২ পয়েন্টে প্রতিদিন খোলাবাজারে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) এর মাধ্যমে প্রতি কেন্দ্রে ৩ মে. টন চাল ও ৩ মে. টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে। জেলার প্রতি উপজেলায় ৬০০ পরিবারের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন ৫ কেজি চাল ও ১৭ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি আটা বিক্রয় হচ্ছে। প্রত্যেক পরিবার ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা ক্রয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। গত ৯ এপ্রিল শুরু হওয়া এই কর্মসূচীর আওতায় একমাসে ১২৬০ মে.টন চাল ও ১২৬০ মে. টন আটা বিক্রয় করা হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা জানিয়েছে, সুনামগঞ্জের ৮২ ভাগ বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৩ লাখ কৃষক পরিবার ক্ষয়-ক্ষতির সন্মুখিন হয়েছে। গত ৩১ মার্চ থেকে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬৬০ মে. টন চাল , ২৬ লাখ টাকা ও ১৫০ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। আরো ১০ মে. টন চাল, আড়াই লাখ টাকা ও ৩০ বান্ডিল ঢেউটিন মওজুদ রয়েছে। প্রয়োজনে এসব ত্রাণ সহায়তার পরও প্রয়োজন হলে আরো বিতরণ করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুর রউফ জানান, এই কর্মসূচি আরো বাড়ানো ও ওএমএস ডিলার সংখ্যা প্রতি ইউনিয়নে ৪ জন করে বাড়ানোর জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ও খাদ্য অধিদপ্তরে চিঠি লেখা হয়েছে। কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে ৯১ হাজার ৫৯০ জনের কাছে চাল বিক্রি এপ্রিল মাস পর্যন্ত চালু নির্দেশনা থাকলেও তা সারা বছর বিক্রি ও আরো নতুন ২ লাখ নতুন কার্ড বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন কিছুই অনুমোদন হয়নি।