জগন্নাথপুর অফিস
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা, কর্মচারী, ঠিকাদার ও পিআইসির দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে চোখের জল মুছে ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ঝড়ে জগন্নাথপুরের কৃষকরা রাজপথে নামলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় ‘সচেতন জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর’ ব্যানারে স্থানীয় পৌরপয়েন্টে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসুচীতে সহ¯্রাধিক কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে ৬ দফা দাবিতে রাজপথে কর্মসুচী পালন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে পৌর মেয়র
আবদুল মনাফের সভাপতিত্বে ও উপজেলা হাওর উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দেকুর রহমানের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগ নেতা নলুয়া হাওর বেষ্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান চৌধুরী ছুফি মিয়া, হাওর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক পৌর কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান, প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি বাজার বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হাসান সুুনু, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা প্যানেল মেয়র শফিকুল হক, কাউন্সিলর আবাব মিয়া, দিলোয়ার হোসেন, ব্যবসায়ী মিন্টুর রঞ্জন ধর, মাও. ইমরান আহমদ, ছালিক আহমদ, আবুল হাসিম ডালিম, কৃষক মাসুক মিয়া, জামাল হোসেন প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব, জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাফরোজ ইসলাম, বাজার বণিক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা সায়মন হোসেন রুমেন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, পাউবো, ঠিকাদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতিরা হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নি¤œমানের কাজ করায় জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া ও মইয়ার হাওরসহ উপজেলার সব কটি হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে কাঁচা, আধা পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের পক্ষে থেকে একাধিকবার অরক্ষিত হাওরের ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধগুলোর কাজ শেষ করার জন্য দাবি জানিয়ে আসলেও দাবিটি উপেক্ষিত হয়। যে কারণে সময় মতো বাঁধ নির্মাণ না করায় ও নি¤œমানের কাজ করায় কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে ও পাহাড়ি ঢলে ফসলহানির ঘটনা ঘটে। গত ৩ বছর ধরে কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসল গোলায় তুলতে পারেননি। অবিলম্বে জগন্নাথপুরকে বন্যা দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি করেন। এছাড়া হাওরের ফসলডুবিতে এক শ্রেণির অসৎ ও অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করেছে। এসব মুনাফালোভীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে।
কর্মসূচীতে ঘোষিত ৬ টি দাবি হচ্ছে হাওরে কৃষকদের সঙ্গে পরামর্শ কওে বেড়িবাঁধের পরির্বতে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা, ফসল তলিয়ে যাওয়ার পিছনে দায়ী দুর্নীতিবাজ পাউবোর কর্মকর্তা কর্মচারি, সংশ্লিষ্ট পিআইসি প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও ঠিকাদারকে গ্রেফতার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, আগামী ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত জগন্নাথপুরে খোলা বাজারে সরকারি (ওএমএস) চাল বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগস্ত কৃষকদের মধ্যে ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা, কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুপের ব্যবস্থা গ্রহণ ও আগামী কৃষি মৌসুমে পর্যাপ্ত কৃষি ঋণ বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ।
কর্মসুচী শেষে মৌন মিছিলসহকারে জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহর কার্যালয়ের সামনে আধাঘন্টা ব্যাপি অবস্থান কর্মসুচী শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ইউএনওর মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির নিকট হস্তান্তর করা হয়।
প্রসঙ্গত এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া, মইয়ার, পিংলার হাওরসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরে ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসল আবাদ করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত নলুয়া ও মইয়ারসহ কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে কাঁচা আধা পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এবছর বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকার প্রায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। পাউবোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ঠিকাদার ও অধিকাংশ পিআইসি সঠিকভাবে বেড়িবাঁধের কাজ না করে অর্থ লুটপাট করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।