- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

৭ দিনের প্রতিবাদী কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার
‘ঘরে বসে আর নয়, রাজপথে এবার সোচ্চার হই’ শ্লোগানে ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বিশাল জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সুনামগঞ্জের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। কর্মসূচিতে শহরের অন্তত ২০ টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অংশগ্রহণ নেন। পদযাত্রা শেষে শহরের হোসেন বখ্ত চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকদের ঠাই নাই, ধর্ষকদের আস্তানা ভেঙে দাও ঘুড়িয়ে দাও’ এমন আরো অনেক স্লোগানে হোসেন বখত চত্ত্বও প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদী আয়োজনে সাংস্কৃতিক কর্মীরা ধর্ষণ বিরোধী কবিতা ও গান পরিবেশন করেন। সুনামগঞ্জ বন্ধন থিয়েটারের সভাপতি সামির পল্লবের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক কর্মী বিধান চন্দ্র বণিক, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি দ্বীপাল ভট্টাচার্য্য, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় চন্দ্র কর, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী শহীদনূর আহমেদ, সাংস্কৃতিক কর্মী মহিম তালুকদার, এহসান রাজীব, সিনথিয়া তাবাচ্ছুম, আদি, রাহাত হাসান পল্লবী, পুষ্পা পাল, মাকসুদুর রহমান দীপু, পুলক রাজ, শেখ তাবাচ্ছুম প্রমুখ।
‘পোষাকের কারণে নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়’ এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশে সাংস্কৃতিক কর্মী শেখ তাবাচ্ছুম বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনা যারা পোষাকের উপর দোষ চাপান তাদের মানসিক সমস্যা রয়েছে। মগজে তারা ধর্ষকদের চেতনা লালন করেন। এসব উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’
সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মী দ্বিপাল ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘অভিনেতা অনন্ত জলিল বলেছে পোষাকের কারণে নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়। অথচ এই অভিনেতা তার পরিচালিত অনেক ছবিতে পশ্চিমা সংস্কৃতি আমদানি করেছেন। সে একদিকে বিদেশি সংস্কৃতি চলচিত্রের মাধ্যমে দেশে এনেছে, অপর দিকে ফেইসবুকে ভিডিও দিয়ে ধর্ষকদের ধর্ষণ করার অনুমতি দিচ্ছে।’ গতকালের বক্তব্যে ধর্ষকদের উস্কানি দেয়ার কারণে অভিনেতা অনন্ত জলিল কে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
বন্ধন থিয়েটারের সভাপতি সামির পল্লব বলেন, ‘দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। নারী-শিশুরা ঘরে-বাইরে কোথাও এখন নিরাপদ নয়। সমাজের সর্বত্র এখন একটা ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। নারী নির্যাতন, নারীর সহিংসতা রোধে ধর্ষকদের বিচার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশের আগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোসেন বখ্ত চত্ত্বরে মিলিত হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। ২ ঘন্টা ব্যাপী সমাবেশে ৭ দিনের কর্মসূচির ঘোষণা করে প্রথম দিনের সমাবেশ শেষ করেন আয়োজকরা। আজ দ্বিতীয় দিনে একই স্থানে বিকাল ৪ টায় ধর্ষণ বিরোধী সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ঘোষণা দেন এই সামাজিক ও সাংস্কৃতিকজোট।

  • [১]