- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

৭ দিন সময় পেলে দিরাইয়ে ফসল উঠবে গোলায়

দিরাই সংবাদদাতা
উজান থেকে নেমে আসা বানের পানিতে থই থই করছে নদী। গত দুইদিনে একাধিকবার কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়েছে সুনামগঞ্জ জেলা। যেমন বাতাস তেমনি বজ্রপাতের সাথে বিরামহীন বৃষ্টিপাত। নদীর পানি ছুঁই ছুঁই করছে প্রতিটি হাওর রক্ষা বাঁধে। পানির ধাক্কায় বাঁধগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধের প্রতিটি ফাটল যেন কৃষকের বুকের ফাটল। তবুও থেমে নেই সংগ্রামী জীবন। ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাতে কাচি নিয়ে হাওরে ছুটছে কৃষক। দিনান্তে একটিই আশা সোনালী ফসল গোলায় তুলতেই হবে। তাই আতঙ্কে রাতদিন সমান করে কিছু পাকা, আধাপাকা ধান কাটছে কৃষক। স্থানীয়রা রাতের বেলা পাহারা বসিয়েছে বাঁধে। বাঁধ রক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। হাওর পাড়ের কৃষক বলছেন, আর মাত্র সাত দিন সময় পেলেই অধিংকাশ সোনালী ফসল গোলায় উঠবে কৃষকদের।
বুধবার সরজমিনে দিরাইয়ের বিভিন্ন বাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, তাড়ল ইউনিয়নের তুফানখালী, বোয়ালিয়া, সরালীতোপা বাঁধ, কাদিরপুরের মইয়ের ঢালা, কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারুলিয়া ফেরিঘাট বাঁধ, করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর বাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দিরাইয়ের পশ্চিমে অবস্থিত বৃহত্তম হাওর কালিয়াকোটা হাওরের ভাগ্য ঝুলে আছে পাশ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার ধনু নদীর লেপসিয়া বাজার বাঁধের উপর।
তুফানখালী বাঁধে অবস্থানরত বাপাউবো দিরাইয়ের শাখা কর্মকর্তা আব্দুল মোমেন জানান, প্রতিটি বাঁধ বর্তমানে ঝুঁকিতে আছে। নদীর পানি হঠাৎ করেই বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় চলতে থাকলে আগামী ৭২ ঘন্টা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের হবে।
এদিকে কাটা ধান রোদের অভাবে শুকাতে পারছে না কৃষাণীরা। গবাদিপশুর খাদ্য খড়গুলো পচে নস্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দিরাইয়ের অন্যতম বৃহত্তম বরাম হাওর ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৪০% ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। শতকরা ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেলেও রোদের অভাবে শুকানো যায়নি ধান। ধান শুকানোর খলাতে মাড়াই দেয়া ধান স্তুপ স্তুপ পরে আছে।
এ অবস্থায় দিরাইয়ের কাদিরপুর গ্রামের কৃষক আমির আলী বলেন, উপরওয়ালা আর মাত্র ৭ দিন ভাল দিলে আমরা কোনরকম পুষিয়ে দিতে পারবো।
দিরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান জানান, দিরাই উপজেলার মোট ২৮ হাজার হেক্টর বোরো জমি আবাদ হয়েছে। ৪২ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি হাওরেই কৃষকদের কাছে ভর্তুকি মূল্যের হারভেস্টার মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এতে ধান কাটা আরো দ্রুত সারতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • [১]