বিশেষ প্রতিনিধি
১১ উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩৪, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ২৪, বিএনপি ১৫, বিএনপি’র বিদ্রোহী ৬, স্বতন্ত্রসহ অন্যরা ৪ টি ইউনিয়নে জয়লাভ করেছে। একটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও জাপার প্রার্থী সমান ভোট পাওয়ায় এই ইউনিয়নে বিধি অনুযায়ি পুননির্বাচন হবে। নির্বাচন পরবর্তী মূল্যায়নে আওয়ামী লীগের অনেকেই বলেছেন প্রার্থী বাছাই সঠিক না হওয়ায় অনেক ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলীয় সমর্থকরা। বিএনপির অনেকে বলেছেন,‘প্রার্থী বাছাই সঠিক হলে আরো অনেক ইউনিয়নেই আমাদের প্রার্থীরা জয়লাভ করতো’।
জেলার ১১ উপজেলার ৮৬ ইউনিয়নের অনেক ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই হয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর। বিশেষ করে ছাতক, দোয়ারাবাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, জগন্নাথপুর, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল আওয়ামী লীগ। এই অবস্থায় ৮৬ ইউনিয়নের ৩৪ টিতে আওয়ামী লীগ এবং ২৪ টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় হয়েছে।
২৪ টি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়ের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট বলেছেন, ‘দলীয় মনোনয়ন দিতে ভুল হয়েছে, অনেক জনপ্রিয় প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন, এ কারণে আওয়ামী লীগের ভোটার ও সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভোট দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন’।
দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বলেন, ‘মনোনয়ন
দেবার সময় যাচাই-বাছাইয়ে অনেক ইউনিয়নে আমরা ভাল করতে পারিনি, অনেক দলীয় মনোনীত প্রার্থী সবাইকে সংগঠিত করতে পারেননি, দোয়ারাবাজারে আমরা যাদের তালিকা দিয়েছিলাম, তাদের মধ্যে যারা মনোনয়ন পেয়েছে, তারাই কেবল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, আমরাও তাদের প্রচারণায় যুক্ত হয়েছি, অন্য প্রার্থী যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তারা একটি ফোনও দেয়নি আমাদের, বরঞ্চ কুৎসা রটনা করেছে, এ কারণে বিভক্তি তৈরি হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে’।
বিএনপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. রফিক চৌধুরী বলেন,‘প্রার্থী মনোনয়নে আমরা যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি, জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতেও অনাগ্রহী ছিল, অন্যদিকে ব্যয়বহুল নির্বাচনে অনেক প্রার্থী বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল, এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন হঠাৎ করে হওয়ায় পুরোপুরি দলীয়ও হয়নি, আবার আঞ্চলিকতায়ও হয়নি’।
জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি নাদীর আহমদ বলেন,‘সুনামগঞ্জে নির্বাচন মোটামোটি সুষ্ঠু হয়েছে, প্রার্থী বাছাইয়ে অনেক ইউনিয়নে ত্রুটি হয়েছে, না হয় বিএনপি প্রার্থীরা আরো বেশি জয়লাভ করতো’।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরীও দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘নিবেদিতপ্রাণ, যোগ্যতা ও জনসমর্থনকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, হয়তোবা জনতার গ্রহণযোগ্যতায় তারতম্য হয়েছে। বেশিরভাগ ইউনিয়নে ব্যয়বহুল নির্বাচন হওয়ায় কোন কোন প্রার্থী সমস্যায় পড়েছিল, আওয়ামী লীগের পরিচয়ে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় এবং ঘোষণা দেবার পরও অ্যাকশন না নেওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ধাপে ধাপে বেড়েছে এবং এমপিদের পছন্দমত না হলেই দলের নিবেদিতপ্রাণ প্রার্থীরাও কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল’।
সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,‘দল এবং এমপিদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল, এমপি’রা যাদের প্রার্থী চেয়েছিলেন তারা বিদ্রোহী হয়েও জয়লাভ করেছে। দলীয় মনোনয়ন প্রদানে এমনও হয়েছে, বিএনপি থেকে এসেই নৌকা পেয়েছে, এগুলো দলের তৃণমূলে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, যেহেতু এমপিরা নির্বাচনের রাজনীতি করেন, সেহেতু তৃণমূলের নির্বাচনে এমপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থী দিলে ভাল হত’।