বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার শিল্পশহর ছাতকের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উপর সেতু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সেতুর প্রকল্প প্রস্তাবনা এখন কেবল পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন শেষে একনেক সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রায় ৮ বছর আগে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে হওয়া সেতুর পিলারগুলোর উপরেই নতুন করে কাজ হবে। নির্মিতব্য পিলারের উপর বাকী কাজের জন্য ১১৩ কোটি টাকার প্রকল্প সকল প্রক্রিয়া শেষে এই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
জেলা সদরের সঙ্গে জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা ও শিল্প শহর ছাতকের দূরত্ব কমানো এবং ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার যোগাযোগ স্থাপন। ছাতকের শিল্পাঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য সড়ক পথে বহনের সুবিধাকরণ, ছাতকের দুই পাড়ের যোগাযোগ স্থাপনের দাবি ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের।
২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাতকে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির পিলারগুলো নির্মাণ হবার পর ঐ সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ছাতকের গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা কাউছার বললেন, ‘সিলেট বিভাগের গুরত্বপূর্ণ জেলা শহর ছাতক, ছাতকের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে রয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ফ্যাক্টরীসহ কয়েকটি সিমেন্ট কোম্পানী, এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রায় দু’লাখ মানুষের সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনও নির্ভর করছে এ সেতুর ওপর, সেতুটি হওয়া খুবই জরুরি’।
ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনুর রশিদ বললেন,
‘ছাতকে সুরমা নদীর উপর সেতু হলে পুরো ছাতক উপজেলা ও দোয়ারবাজার উপজেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে, শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, দেশবাসীর সঙ্গে ছাতক – দোয়ারাবাসীর সড়ক যোগাযোগ ঘটবে এবং জেলা সদরের সঙ্গে ছাতকবাসীর দূরত্ব কমবে’।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন বলেন, ‘ছাতকে সুরমা সেতুর পিলারের উপরই সেতু নির্মাণের জন্য ১১৩ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা সড়ক ভবনে পাঠানো হয়েছে। সড়ক ভবন থেকে এটি মন্ত্রণালয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় থেকে আবার সুনামগঞ্জে পাঠানো হয়। পরে আবার সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রজেক্ট ইভালুয়েশন কমিটির সভায় এই প্রকল্পে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই নির্দেশনা অনুসারে প্রকল্পটি এখন পরিকল্পনা কমিশনে আছে’।
নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায়, তিনি এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন। এই সেতুটি ৪০২ মিটার লম্বা, ৩৪ ফুট প্রশস্ত হবে। ২.৪ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক হবে। ১০ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতুর মতোই মাঝখানে স্টিলটাচ হবে।
স্থানীয় সাংসদ মহিবুর রহমান মানিক বলেন,‘ছাতকে সুরমা সেতুর উপর সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে। তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সেতু তৈরির প্রাক্কলন তৈরির নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। পরে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে রাজনৈতিক ‘মওকা’ হিসাবে ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সামান্য কিছু কাজ হবার পরই এই সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই সেতুটি হওয়া প্রয়োজন। ছাতকবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। আমি নিজেও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। আমি এই বিষয়টি মাননীয় অর্থমন্ত্রী, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে দেখিয়েছি। নিয়মিত যোগাযোগও রাখার চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস শীঘ্রই পরিকল্পনা কমিশন থেকে এটি একনেকে যাবে এবং ছাতক- দোয়ারার ৫ লাখ মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখাবেন আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’।