- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

৯১৪ পিআইসির মধ্যে একটিও গঠন হয়নি

বিন্দু তালুকদার
জেলার ১১ উপজেলার ৩৬টি বৃহৎ হাওর ও ১৭টি উপ প্রকল্পসহ মোট ৫৩ টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ৯১৪ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার পিআইসি গঠনের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন কমিটির। কিন্তু প্রকল্প কমিটি গঠনের মেয়াদ আর ৩ দিন থাকলেও কোথাও কমিটি হয়নি।
পাউবোর সুনামগঞ্জ পওর (পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষন) বিভাগ ১ এর অধীনে উন্নয়ন প্রকল্পে ১৪০ টি ও অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের ৩৭২টি, পওর বিভাগ-২ এর অধীনে উন্নয়ন খানের ২৩১ ও অনুন্নয়ন খাতে ২২০ টি সহ মোট ৯১৪ পিআইসি গঠন করার কথা।
৩০ নভেম্বরের মধ্যে এসব পিআইসি গঠনের সর্বশেষ সময়সীমা। পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রে উপজেলা কমিটি বাঁধের সন্নিকটবর্তী জমির প্রকৃত মালিকদের দিয়ে করার কথা। রোববার পর্যন্ত জেলার কোন এলাকার ১টি পিআইসিও গঠন করা হয়নি বলে জানা গেছে।
পিআইসি গঠনে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখছেন না হাওরপাড়ের কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, যেহেতু সবার দাবির প্রেক্ষিতে এবছর হাওরের সকল বাঁধ নির্মাণ করবে পিআইসি, তাই দ্রুত পিআইসি গঠনের কাজ শেষ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু ও সমাপ্ত করতে হবে। না হলে  বোরো ফসল ঝুঁকিতে পড়বে।
আগে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যগণ পিআইসির সভাপতি হতেন। ৫ সদস্যের পিআইসিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোনীত ৩ জন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনোনীত সদস্য ১ জন থাকতেন। অনেক ক্ষেত্রে সদস্য মনোনয়নে বিলম্বের কারণে পিআইসি গঠন ও বাঁধের কাজ শুরু হতে দেরি হতো।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এবার হাওরপাড়ের কৃষকদের দিয়েই পিআইসি গঠন করা হবে। এবার পিআইসির সদস্য সংখ্যা হবে ৫ থেকে ৭ সদস্য বিশিষ্ট। কমিটিতে একজন সভাপতি, ১ জন সদস্যসচিব ও অন্যরা সদস্য হবেন। বাঁধের কাছের জমির প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিআইসি গঠন করবেন। প্রয়োজনে ভূমি অফিস, কৃষি অফিস ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরামর্শ করবেন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি একাধিক পিআইসির সভাপতি ও সদস্য সচিব হতে পারবেন না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সদস্য হতে পারবেন। চলতি বছর প্রতিটি পিআইসি ৭ সদস্য বিশিষ্ট করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, উন্নয়ন খাতে পিআইসি হবে সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-১ এর অধীনে সদর উপজেলায় ৩টি- অনুন্নয়ন বাজেটে ৪৭টি, বিশ্বম্ভরপুরে উন্নয়নে ১১টি – অনুন্নয়নে ২২টি, তাহিরপুরে উন্নয়নে ৩৩ টি – অনুন্নয়নে ৭৫টি, জামালগঞ্জে উন্নয়নে ২১ টি – অনুন্নয়নে ১০৬ টি, ধর্মপাশায় উন্নয়নে ৭২ ও অনুন্নয়নে ৭৭ টিসহ মোট ৪৬৭ টি।
সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-২ এর অধীনে পিআইসি হবে দিরাইয়ে উন্নয়নে ৪০টি, অনুন্নয়নে ৭০টি, শাল্লায় উন্নয়নে ৮৪ টি, অনুন্নয়নে ৫২ টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উন্নয়নে ৩২টি – অনুন্নয়নে ২৭ টি, জগন্নাথপুরে উন্নয়নে ৩৪টি – অনুন্নয়নে ৪৮টি, ছাতকে উন্নয়নে ৯টি – অনুন্নয়নে ৩টি ও দোয়ারাবাজারে উন্নয়নে ৩২ -অনুন্নয়নে ২০ টিসহ মোট ৪৪৭ টি পিআইসির মাধ্যমে এবার হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন,‘পানিসম্পদ মন্ত্রীর উপস্থিতেই ২৩ নভেম্বর রাতে জানানো হয়েছে কোন পিআইসি গঠন করা হয়নি। পিআইসি গঠনের বিলম্বের খবরটি আমাদের হাওরবাসীর জন্য কোনভাবেই শুভকর নয়। কারণ পিআইসি গঠনে অতীতের টানা-হেচড়া দূর করতে যেহেতু পাউবো নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, সুতরাং দ্রুত পিআইসি গঠনের কাজ শেষ করতে হবে।’   
পাউবোর সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকি ভুইয়া ও পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহিনুজ্জামান বলেন,‘নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সকল পিআইসি গঠন করার কথা। আমরা বেশ আগ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণকে বার বার অনুরোধ করে আসছি। কিন্তু রোববার পর্যন্ত কোন পিআইসির তালিকা আমরা পাইনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ জানিয়েছেন তাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে, ৩০ তারিখের মধ্যে দিয়ে দিবেন। আমরা আশা করছি ৩০ তারিখের মধ্যেই পিআইসি গঠন হয়ে যাবে। ’

  • [১]