লন্ডন প্রতিনিধি
৭১-এর গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামাত-শিবির চক্রের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারী জাহানারা ইমাম গঠন করেছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি। দেশের ১০১ জন বরেণ্য নাগরিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত নির্মুল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়েছিল ‘সরকার যদি গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামাতের আমির গোলাম আযমের বিচার না করে আমরা গণআদালতে তার বিচার করব।’
একই সঙ্গে জামাত-শিবির চক্রের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণেরও দাবি জানিয়েছিল নির্মুল কমিটি।
একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন।
বক্তারা বলেন, গণআদালতে গোলাম আযমের বিচারের কর্মসূচী সফল করার জন্য শহীদ জননী জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল, সামজিক-সাস্কৃতিক-পেশাজীবী, ছাত্র-নারী-মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সমন্বয়ে গঠন করেছিলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’। যার উদ্যোগে ১৯৯২-এর ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণআদালতে গোলাম অযমের বিচার হয়। যা প্রত্যক্ষ করার জন্য সরকারের সকল হুমকি ও বাধা অগ্রাহ্য করে ৫ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছিল।
গত ২৪ বছরে বহু সংগঠন ও ব্যক্তি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন যা পরিণত হয়েছে জাতীয় দাবিতে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত ১৪ দলীয় মহাজোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু করেন। পাশাপাশি এই বিচার বানচাল করার জন্য জামাত দেশ বিদেশে বহুমাতৃক চক্রান্ত আরম্ব করেছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জামাত একদিকে হেফাজতে ইসলামের মতো জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনকে মাঠে নামিয়েছে। অপর দিকে আওয়ামীলীগের কোনও কোনও নেতাকে নানা কৌশলে বশীভূত করে সরকারের কঠোর জঙ্গি-জামাত বিরোধী অবস্থান কোমল করতে চাইছে। এমনি এক পরিস্থিতে আমরা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছি।
বক্তারা বলেন, প্রতিটি মানবতা বিরোধী অপরাধীর বিচার ও জামাত-শিবির নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে, সেই সাথে নৈব্য রাজাকারদেরও চিহ্নিত করতে হবে।
২৬জুন বিকেলে ইষ্টলন্ডনের বাংলাটাউনের স্বাদগ্রীল রেষ্টুরেন্টে নির্মুল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী সাংবাদিক সৈয়দ আনাছ পাশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও নিমৃূল কমিটির অন্যতম ফাউন্ডার হাসনা হেনার সুযোগ্য সন্তান লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রেস মিনিষ্টার সাংবাদিক নাদিম কাদির।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত অধ্যাপক তালহা ইয়াছিন।
শহীদ জননীর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, নিমুল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমেদ উল্লাহ, সাংবাদিক, আবু মুসা হাসান, প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন মাহমুদ এ রউফ, যুক্তরাজ্য নির্মুল কমিটির ফাউন্ডার সদস্য সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলাল, ইউকে নির্মুল কমিটির ফাউন্ডার সদস্য নাট্যকর্মী স্বাধীন খসরু, যুক্তরাজ্য নির্মুল কমিটির এ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারী জামাল খান, নির্মুল কমিটির তথ্যও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার চৌধুরী, আব্দুল মালেক খোকন, কোষাধ্যক্ষ শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, সদস্য নিলুফা হাসান, ডা. আফরোজা খাতুন, সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ, শাহ তোফায়েল আহমদ প্রমুখ।