আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
পাচারের চেষ্টা কালে ওএমএসের ২০ বস্তা চাল জব্দ করেছে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কারেন্টের বাজারে মের্সাস অভি স্টোরে থাকা এই চাল স্থানীয় এলাকাবাসী ও দুজন ইউপি সদস্য আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও জামালগঞ্জের ওসি এলএসডি গিয়ে চাল জব্দ করে স্থানীয় মেম্বারদের জিম্মায় রাখেন।
উপজেলা খাদ্য গোদাম সূত্রে জানা যায়, উপজেলার
ফেনারবাঁক ইউনিয়ন ওএমএস ডিলার সুব্রত পুরকায়স্থ সোমবার দুপুরে ডিও’র মাধ্যমে ৩মে: টন (৫০কেজি প্রতি বস্তায়) চালের ৬০ বস্তা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করে ৪০ বস্তা বিক্রয় সেন্টারে নিলেও বাকী ২০ বস্তা চাল পাচারের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী রহিমের অভি স্টোরে রেখে দেন।
এদিকে সরকারি ওএমএসের চাল পাচারের বিষয়ে ডিলারের শাস্তির দাবিতে ফেনারবাঁক ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে ফেনারবাঁক গ্রামের মৃত. হাজী উসমান গনির ছেলে একলিমুর রেজা চৌধুরী।
ভীমখালী ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান ও তহুর মিয়া বলেন, ‘ওএমএস’র চাল ফেনারবাঁকের ডিলার সুব্রত বাবুর। তিনি প্রায়ই এখানে চাল রাখেন বলে আমাদের এলাকার মানুষ জানিয়েছেন। স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে প্রথমে আমরা চাল আটক করি, পরে জামালগঞ্জ থানা ও প্রশাসনকে অবহিত করি।’
ফেনারবাঁকের ওএমএস ডিলার সুব্রত পুরকায়স্থ বলেন, ‘যাতায়াতের অসুবিধার জন্য সব চাল বিক্রয় সেন্টারে নিতে পারিনি।’
জামালগঞ্জ থানার এসআই সাইফুল্লাহ আকন্দ বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাতেই কারেন্টের বাজার থেকে ওসি এলএসডি সহ ঘটনাস্থল থেকে ২০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগ থেকে এ বিষয়ে লিখিত পেলে মামলা রুজু করা হবে।’
ওসি এলএসডি অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগে রাতেই পুলিশ প্রশাসন সহ আমরা চাল জব্দ করেছি। তদন্ত চলছে, অবশ্যই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ওএমএসের ২০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। তার ডিলারশীপ বাতিল সহ ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘জামালগঞ্জে ওএমএসের চাল আটকের বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।’