Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php:146) in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-includes/feed-rss2.php on line 8
খবর – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক https://archive.sunamganjerkhobor.com Sun, 25 Jun 2023 16:55:51 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.0.14 বাইশের বন্যার ভয়াল স্মৃতি https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4/ Sun, 25 Jun 2023 16:55:43 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165839 খলিল রহমান
১৬ জুন, ২০২২। বেলা করেই আজ বেড়িয়েছি। ১২টা হবে। কাজীর পয়েন্টে এসে পানি দেখি। এটাতে মনে ধরেনি। কিন্তু সামনে এগুনোর পর উকিলপাড়ায় সড়কে পানি দেখে ভাবি, বন্যা তাহলে হয়েই গেল। আগের পানি বাড়ছে রিপোর্ট দিয়েছি। থানার সামনে গিয়ে উত্তরের সড়কে হালকা পানি দেখলাম। ময়লা পানি। নদীর নাকি বৃষ্টির বুঝতে পারিনি। অফিসে গিয়ে বন্যার রিপোর্টের জন্য নানা জায়গায় ফোন করি। এর মধ্যেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। যেন আকাশ ভাইঙ্গা পড়ছে। বন্যা নিয়েই একাধিক রিপোর্ট পাঠালাম। সবশেষ কাগজের জন্য একটি মেইল করে যখন পৌরবিপনির দুতলা থেকে নামি তখন দেখি নিচে পানি। আমি অবাক। প্রবল বর্ষণ, বজ্রপাত। থামছেই না। পৌরবিপণিতে ২০০৪ সালে সামান্য পানি উঠেছিল। আমি পঙ্কজ দার লাইব্রেরিতে এসে দাঁড়াই। সন্ধা নামছে। বৃষ্টি বাড়ছে। বিদ্যুৎ চলে গেছে। আমি মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখে দেখি চার্জ নেই। মোবাইল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রিকশা মিলছে না। অন্ধকার। মানুষ ছুটছে বাড়িঘরে। আমি জালালাবাদ বেকারির সামনে থাকতে থাকতেই দেখি পানি শহরের নাভিমূল আলফাত স্কয়ার ছুয়েছে।
বৃষ্টির জন্য আজ মোটরসাইকেল আনিনি। এখন কিভাবে ফিরব। অটোরকশা, রিকশার জন্য অপেক্ষা করতে করতে আটটা বেজে যায়। কোনো কিছুরই ব্যবস্থা হচ্ছে না। মানুষ যে যেভাবে পারছে বাড়ি ফিরছে। এক পর্যায়ে লাইব্রেরি থেকে স্বপন আমাকে একটি ভাঙা ছাতা দেয়। আমি সেটি নিয়েই বাড়ি পথ ধরি। রাস্তায় কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর পানি। মানুষ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে শুরু করেছে। সড়কে সুরমার ¯্রােত ঠেলে বাড়ি ফিরতে রাত ১০টা বেজে যায়। বৃষ্টি থামছে না। বাড়ির সামনের সড়েক পানি চলে এসেছে। আমার ২০০৪ সালের বন্যার কথা মনে পড়ে। এর সঙ্গে বারবান মনে পড়ছিল বিকেলে যখন ছাতকের ইউএনও মাহমুদুর রহমানকে মুঠোফোনে বন্যার অবস্থা জানতে চেয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, ছাতকের সবাই পানিবন্দী। ছাতকে দাঁড়ানোর মাটি নেই। আমার মনে পড়ে যায়, ২০০৪ সালে ভয়াবহ বন্যার সময়ে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় একটা নিউজের শিরোনাম ছিল ‘সুনামগঞ্জ দাঁড়ানোন মাটি নেই।’
ঘরবন্দী আমি। একটি মোবাইল বন্ধ। অন্যটিতে সামান্য চার্জ আছে। আমি আমার পত্রিকার বিভাগীয় সম্পাদককে বন্যার বিষয়টি জানিয়ে রাখি। সঙ্গে এও বলি আমার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি ভালো না। রাস্তাঘাট সব তলিয়ে গেছে। তবুও কাল অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করব।
রাত বাড়ে, সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি, পানি বাড়তে বাড়তে এক সময় আমাদের উঠানে চলে আসে। রাত ১২ টায় এলাকার কয়েকজন আত্মীয় নৌকা নিয়ে আমাদের বাড়িতে চলে আসেন। সবাই দুশ্চিন্তায়। আমাদের ওঠানে পানি, আমি ভাবি শহরের কোনো বাসাবাড়ি বাকি নেই। রাত ভয়ংকর হচ্ছে। চারটার দিকে ঘরে পানি প্রবেশ করে। ঘরে থাকা সবাইকে তখন দুতলায় তুলে দিই। বিশেষ করে নারী শিশুদের। পানি বাড়ে। নিচে ইট দিয়ে খাট ও আসবাব বাঁচানোর চেষ্টা চলে। আতঙ্ক, ভয়, রাস্তায় আসার পথে কোমরপানি ভেঙে, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে চলা নারী-শিশুদের কথা ভাবতে ভাবতে ভোর হয়।
১৭জুন ২০২২। ভোরের আলো নেই। আছে অন্ধকার।
তখনো তুমুল বৃষ্টি, মুহুর্মুহু বজ্রপাত। যেন ঘরের উপরে, বারান্দায় পড়ছে। জানালা কাপছে। সুনামগঞ্জ বিশ্বের সবচেয়ে বজ্রপাত প্রবণ জেলার যে তকমা পেয়েছে সেটি নিয়ে আর কোনো সন্দেহ রইল না। যে মোবাইলে কিছু চার্জ ছিল সেটি হাতে নিয়ে দেখি নেট নাই। কি করব। অস্থির। কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। সহকর্মীদের সঙ্গে যগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছি। ঘরের উঠানে কোমরপানি, রাস্তায় সাঁতার। কি করব। অস্থিরতা বাড়ে। এর মধ্যে প্রথম আলোর বিশাল বাংলা বিভাগের সম্পাদক তুহিন ভাইয়ের একটি খুদে বার্তা দেখি হোয়াটসঅ্যাপে। লিখেছেন,’কি খবর, আপনারে পাইতাছি না’।
আমি সব জানিয়ে ফিরতি বার্তা দিই। কিন্তু তিনি সেটা পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে না। সুনামগঞ্জের অবস্থা কি, মানুষ কেমন আছে। এই খবর যারা দুনিয়াকে জানাবে তাদের মধ্যে আমি একজন। অথচ আমি নিজেই কিছই জানি না। আমি বিচ্ছিন্ন। আমি একা। আমি ঘরবন্ধী।
আমি সিলেটের সহকর্মী সুমনকুমার দাশকে একটা বার্তা দিই। বলি, নিউজ সিলেট থেকে করতে হবে। সঙে এটাও বলি এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টাতে যেন গুরুত্ব থাকে। কারণ, পরদিন থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। আমি বারবার মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখি। ফিরতি বার্তার অপেক্ষায় থাকি। একসময় ফিরতি বার্তা আসে। আমার বিষয়ে অফিস অবগত। আর এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত। আমি স্বস্তি পাই পরীক্ষা স্থগিতে বিষয়টি জেনে। এরপর এই মোবাইলটিও বন্ধ হয়ে যায়। আমি এখন পুরোপুরি অকর্মা। কারো সঙ্গে আর যোহগাযো নেই। ঘর ভরতি মানুষ। আমি এক কোণায় বসে আছি। আমার স্ত্রী সেটা বুঝতে পারে। শান্তনা দেয় ‘তোমার অবস্থা তো অফিস জানে, তাহলে এ টেনশন করছ কেন।’ আমরা যে কি কষ্ট হচ্ছে সেটি থাকে বোঝাতে পারছি না। আমার চিৎকার করে কাঁদছে ইচ্ছে করছে। আমি সবার থেকে বিচ্ছন্ন। সুনামগঞ্জের খবর জানি না। শহরে কি ঘটছে আমি জানতে পারছি না। কাউকে জানাতে পারছি না। এ রকম অস্থিরতায়, হতাশায় দিন যায়। আবার রাত আসে। গতরাতও ছিলাম মোমবাতির আলোয়। আজ মোমবাতি কম। আলোও কম। ঘুম আসে না। কখন ভোর হবে।
১৮জুন ২০২২। ঘরে এত এত মানুষ। খাবার পানি নেই। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে খাওয়া হচ্ছে। আকাশের কান্না থামছে না। পানি বাড়ছে। তবে কিছুটা ধীরে। যেন আগের দুই দিনের গোসসা কিছটা কমেছে। আজও কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। খাটের ওপর গা এলিয়ে আছি। আমার কোনো কাজ নেই। তবে চিন্তা আছে। কান্না পাচ্ছে। শহরের কতশত মুখ চোখে ভাসে। কে কোথায়, কিভাবে আছে। কারো কোনো ক্ষতি হয়নি তো। আচ্ছা ইন্টারনেট সেবা কেন বন্ধ হলো। অন্য কোনো বিকল্প উপায়ে কি যোগাযোগ করা যায় না। বিকেলে বৃষ্টি কিছটা কমে। আমার একটা নৌকা চাই। আমি বের হবই। অবশেষে আমার এক ছোটভাই পাড়ার পয়েন্টে প্রায় সাঁতরে গিয়ে একট নৌকা জোগার করে নিয়ে এসেছে। আমি বের হলাম। যেদিকে যাই শুধু পানি আর পানি। মানুষের বাসাবাড়িগুলো সুনাসন। যেসব বাসা একতলা তার কোনোটিতেই মানুষ থাকার অবস্থা নেই। রাস্তায় নৌকায় করে মানুষজন এখানে-ওখানে যাচ্ছে। একে অপরের খোঁজ নিচ্ছে। আমি লজ্জা পাচ্ছি। এই দুদিন আমি ঘরে ছিলাম। আহা, মানুষের কত কষ্ট। বৃষ্টি কমায় মানুষজন দুদিন পর বাড়ির ছাদে উঠেছেন। নারী-শিশুরা বাড়ি ছাদ থেকে যতদুর চোখ যায় পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। আমি সোজা গেলাম এ আর জুয়েলে বাসায়। বাসায় নৌকা ভিরিয়ে ডাকাডাকি শুরু করি। কিন্তু সে বাসায় নেই। অনেক্ষণ ডাকাডাকির পর খোঁজ মিলল পাশের বাসার তিনতলায়। বন্যার্ত হিসেবে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। সে জানাল, সবার অবস্থা এক। কেউই কাজ করতে পারেনি। সুনামগঞ্জ দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন। অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। মানুষ দেখা হলে এমনভাবে কুশল জানতে চায় যেন কতকাল পর দেখা। আহা জীবন। নৌকার মাঝির বাড়ি ফেরার তারা। তাই আর শহেরর ভিতর দিয়ে যাওয়া হলো না। অথচ আমার ইচ্ছে করছে আমি। সাতার কেটে পুরো শহর ঘুরে আসি। মানুষদেও দুঃখ দুর্দশা দেখে আসি। সেটি হয় না। আবার ঘরে ফিরি। রাত হয়। আলোহীন, ঘুটঘুটে কালো এই রাত বড় লম্বা।
১৯জুন ২০২২। আজকের সকালটা একটু ফর্সা। বৃষ্টি নেই আবার রোদও নেই। দুদিনের অঘুমা থাকায় ঘুম ভেঙ্গেছে দেরিতে। দুপুরের পর প্রতিবেশি এক ভাগনা আসে। সে বিদ্যুৎ মিস্ত্রির কাজ করে। সে নাকি সৌরবিদ্যুতের প্যানেলে ইনোভেটর দিয়ে মোবাইলে চার্জ দিতে পারবে। আমার অবস্থা দেখে সে এটি কোথায় থেকে জোগার করে নিয়ে এসেছে। আমি তাকে মোবাইল দিই। ঘণ্টাখানেক পর ব্যাটারি কিছুটা চার্জ হওয়ার পর সেটি নিয়ে আসে। আমি মোবাইল নিয়ে তিনতলার ছাদে উঠি। চেষ্টা করি, কিন্তু কারো সঙ্গেই সংযোগ হয় না। ছাদে দাঁড়িয়ে চারপাশটা দেখি। সময় যায়। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে একটা বার্তা ঢুকে। ঢাকা অফিস থেকে, তুহিন ভাই লিখেছেন,‘ খলিল কোথায় আছেন, কেমন আছেন? সুযোগ হলে জানাবেন।’ আমি চমকে উঠি, তাহলে নেটে কাজ করছে। আমি উনাকে ফোন দিই, অফিসের আওে ভাইকে ফোন করি। ফোন যায় না। মনের দুঃখে হোয়াটসঅ্যাপ লিখতে বসি। গতকাল সড়কে বের হয়ে যা দেখলাম। বাড়ির পাশে যা দেখছি। তাই। এরপর আমাদের অফিসিয়াল গ্রুপে সেন্ট করি। গেল না মনে হয়। আমি বসে আছি কারো কোনো সাড়া পাই কিনা। হঠাৎ হোয়াটঅ্যাপে ঢাকা অফিসের হাসনাত ভাইয়ের বার্তা,‘স্টোরি পেয়েছি। ফোন করার দরকার নাই। ম্যেসঞ্জারেই কথা বলব।’ এরপর কথা শুরু। আমার কি আনন্দ। শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে রোরবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় ৬০ ঘন্টা বিচ্ছিন্ন থাকার পর আবার যুক্ত হতে পেরে। যাই পারি, আমি লিখছি। সেন্ট করছি। বড় ভালো লাগছে। আমি তিনতলার ছাদ থেকে নামি না। সিলেট থেকে উজ্জ্বল মেহেদী ফোন দেয়। ‘ভালো আছি’ বলার সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আবার ফোন করি, সংযোগ হয় না। আমার ছোট ভাইও সিলেট থেকে ফোন দিচ্ছে। ধরছি, কথা হচ্ছে। আমার গলা কাঁপছে। গাল বেয়ে অশ্রু ঝরছে…।

]]>
কুরবানি দেওয়ার ফজিলত https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%a4/ Sun, 25 Jun 2023 16:37:49 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165832 সু.খবর ডেস্ক
কুরবানি কী? কুরবানির ফজিলত কী? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের প্রশ্নের উত্তরে সুস্পষ্ট ও সুন্দর জবাব দিয়েছেন। যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু। কী আছে সেই হাদিসের বর্ণনায়?
সাহাবায়ে কেরাম একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই কুরবানি কি?
জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘এটা তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সুন্নাত (রীতিনীতি)।
তাঁকে আবারও জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতে আমাদের কি ফজিলত (পূণ্য রয়েছে)?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, ‘(কুরবানির জন্তুর) প্রতিটি লোমের পরিবর্তে (একটি করে) নেকি রয়েছে।’
তাঁরা আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, পশম বিশিষ্ট পশুর বেলায় কি হবে? (পশুরতো পশম অনেক বেশি)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পশমওয়ালা পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তেও একটি করে নেকি রয়েছে। (মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)
আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার আশায় জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখ উট, গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়া জবেহ করাই হলো কুরবানি। আর এ পশুর পশম যতবেশিই হোক না কেন, প্রতিট পশমের বিনিময়ে রয়েছে একটি করে সাওয়াব।
আরবি করব বা কুরবান শব্দ থেকে উর্দূ ও ফার্সিতে কুরবানি শব্দটির উৎপত্তি। যার অর্থ দাঁড়ায়-নৈকট্য বা সান্নিধ্য। কুরবান হল, প্রত্যেক সেই বস্তু, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। আর সেখান থেকেই ফারসী বা উর্দু-বাংলাতে গৃহীত হয়েছে ‘কুরবানি’ শব্দটি।
মুসলমানের জন্য কুরবানি করা মহান আল্লাহর নির্দেশ। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনাও তাই। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কুরবানি কর।’ (সুরা কাউসার : আয়াত ২)
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে নামাজ ও কুরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সবচেয়ে বেশি এ দুইটি ইবাদত করেছেন। তিনি যেমন অধিক নামাজ আদায় করেছেন তেমনি বেশি কুরবানিও করেছেন।
প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কুরবানি প্রসঙ্গে একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাহলো-
১. হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১০ বছর মদিনায় অবস্থান করেছেন। মদিনায় অবস্থানকালীন প্রত্যেক বছরেই কুরবানি করেছেন।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)
২. হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ (ও সুন্দর) দুই শিং বিশিষ্ট সাদা-কালো মিশ্রিত (মেটে বা ছাই) রঙের দুইটি দুম্বা কুরবানি করেছেন।’ (বুখারি, মুসলিম)
৩. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো বছর কুরবানি থেকে বিরত থাকেননি। তিনি কর্মের দ্বারা যেমন কুরবানি করতে অনুপ্রাণিত করেছেন আবার বক্তব্য দিয়ে কুরবানির প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। হাদিসে এসেছে-
‘যে ব্যক্তি (ঈদের) নামাজের আগে (পশু) জবেহ করে সে নিজের জন্য জবেহ করে। আর যে নামাজের পর জবেহ করে তার কুরবানি সিদ্ধ হয় এবং সে মুসলমানদের তরিকার অনুসারী হয়।’ (বুখারি)
৪. সামর্থ্যবানদের মধ্যে যারা কুরবানি করে না, তাদের প্রতি তিনি এভাবে হুশিয়ারী করেছেন। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কুরবানি করে না, সে যেন অবশ্যই আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে।’ (মুসনাদে আহামদ, ইবনে মাজাহ, মুসতাদরেকে হাকেম)
মুসলিম উম্মাহ এ ব্যাপারে একমত যে, কুরবানি কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা মোতাবেক বিধেয়। এ ব্যাপারে কারো কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু কুরবানি করা ওয়াজিব না সুন্নাত -এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যে কারণে সম্পদের মালিকের জন্য অনেক ইসলামিক স্কলার ও সংস্কারক কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে মতামত দেন। আবার অনেক সাহাবা, তাবেঈ, তাবে-তাবেঈ এবং ইসলামিক স্কলারগণ কুরবানিকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলেছেন।
তবে মুসলিম উম্মাহর জন্য এটা উত্তম যে, সামর্থ্য থাকলে কুরবানি ত্যাগ না করাই উত্তম। সক্ষম হলে নিজের ও পরিবার-পরিজনের পক্ষ থেকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করা। যার মাধ্যমে যেমন আল্লাহর নির্দেশ মানা হয় তেমনি সাহাবাদের অনুসরণ ও অনুকরণেও রয়েছে বিশাল সাওয়াবের হাতছানি।
মনে রাখতে হবে
কুরবানি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে অর্থ খরচ করে স্বার্থ ত্যাগ করে এ ইবাদত করতে হয়। এতে যেমন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাত জাগ্রত হয়। আবার ইসলামের নির্দশনও প্রকাশ পায়।
কুরবানির মাধ্যমে পরিবার ও দরিদ্রজনের উপর খরচ করা হয় এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের জন্য হাদিয়া ও উপঢৌকন পেশ করার সুযোগ হয়। কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করতে পেরেই মুমিন মুসলমান আনন্দলাভ করতে পারে। আর সেই খুশিই হলো কুরবানির খুশি।
এমনটি যেন না হয়
হজ না করে হজের টাকা সাদকাহ করলে যেমন ফরজ আদায় হয় না। তেমনি কুরবানি না করে কুরবানির টাকা গরিব-দুঃখীর মাঝে বণ্টন করলেও কুরবানির হক আদায় হবে না। কেননা কুরবানিতে আল্লাহর জন্য পশু জবেহ করা হলো ইবাদত ও দ্বীন ইসলামের নির্দশন এবং প্রতীক। এ কারণেই ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন-
‘কুরবানি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এবং সমগ্র মুসলিম জাতির এক আমল। আর কোথাও কথিত নেই যে, তাঁদের কেউ কুরবানির পরিবর্তে তার মূল্য সাদকাহ করেছেন। আবার যদি তা উত্তম হতো তবে তাঁরা নিশ্চয়ই তার ব্যতিক্রম করতেন না।’ (ফাতাওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া)
কুরবানি দ্বারা জবেহ উদ্দেশ্য। সুতরাং পশু জবেহ করা কুরবানির মূল্য সাদকাহ করা অপেক্ষা উত্তম। যদিও সে তা কুরবানির চেয়ে পরিমাণে অধিক হয়। কারণ, কুরবানিতে জবেহ হলে উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা কুরআনে কুরবানি সম্পর্কে বলেছেন-
‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামাজ পড় এবং কুরবানি কর।(সুরা কাউসার : আয়াত ২)
‘(হে রাসুল! আপনি) বলুন, অবশ্যই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৬২)
সুতরাং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নামাজ ও কুরবানির ইবাদত অর্থ দিয়ে আদায় করলে হবে না। এর অন্যতম প্রমাণ হলো- হজের ক্ষেত্রে যারা তামাত্তু ও কিরান হজ করবেন, তারা যদি কুরবানির পরিবর্তে ৩গুণ বা তারচেয়েও বেশি সাদকাহ করে তাতে তার পরিবর্তন হবে না। ঠিক কুরবানিও তাই। আর আল্লাহ তাআলাই অধিক জানেন।’ (তুহফাতুল মাওদুদ)
কুরবানি নামাজের মতো স্বতন্ত্র ইবাদত। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কুরবানির ফজিলত ও সাওয়াব অনেক বেশি। আর এটা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাত হওয়ার কারণেই প্রিয়নবি নিজে তা পালন করেছেন। সে কারণে তা উম্মতে মুহাম্মাদির সামর্থবানদের জন্যও তা আদায় করা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেক সামর্থ্যবানকে কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। কুরবানির ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সূত্র : জাগো নিউজ২৪.কম

]]>
সাদত হাসান মান্টো: দেশভাগের সার্থক কথাকার https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%a4-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97/ Sun, 25 Jun 2023 16:29:40 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165822 এস ডি সুব্রত
উর্দু সাহিত্যের সেরা লেখকদের একজন সাদত হাসান মান্টো। জাতিগতভাবে মান্টো ছিলেন কাশ্মীরী। জন্ম পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় ১৯১২ সালের ১১ মে। মান্টোর বাবা গুলাম হাসান পাঞ্জাব সরকারের একজন মুন্সেফ, পরবর্তীতে জজ হন । গুলাম হাসানের দ্বিতীয় স্ত্রী সর্দার হাসানের ঘরে জন্ম নেন মান্টো। দেশত্যাগের বিরূপ ভাগ্য বরণকারী লেখক সাদত হাসান মান্টো। ভারত, পাকিস্তান মিলিয়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার উর্দু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্পকার তিনি। তাকে গণ্য করা হয় আধুনিক উর্দু সাহিত্যের কালজয়ী প্রতিভা হিসেবে। ‘দেশভাগের কথাকার’ নামেও পরিচিত সাদত হাসান মান্টো। দাঙ্গা, হাঙ্গামা, রাজনৈতিক পালাবদল, দেশান্তর, জীবনসঙ্কট মিলিয়ে ভয়ংকর সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তিনি বেঁচেছেন মাত্র ৪৩ বছর। গালিবের মতোই ছিল তার পীড়িত জীবন আর দুর্ভাগ্যের নিয়তি। গালিব ও মান্টো উভয়েই দেখেছেন রাজনৈতিক হিংসা, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস-কবলিত দেশ। আর মান্টোর চোখের সামনে দিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভেঙে সাম্প্রদায়িক রক্তাক্ত হানাহানির পথে বিভক্ত উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান নামের দু’টি রাষ্ট্র। নিজের মৃত্যুর এক বছর আগে যিনি লিখতে পারেন “এখানে সমাধিতলে শুয়ে আছে মান্টো। আর তার বুকে সমাহিত হয়ে আছে গল্প লেখার সমস্ত কৌশল।” এ যেন আঁধারের বুকে এক আলোর জীবনশিল্পী সাদত হাসান মান্টো।
সাদত হাসান মান্টোর বিখ্যাত গল্প ‘ঠান্ডা গোশত’। দেশভাগের পর একরকম মানসিক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাকিস্তানে এসে লেখা ঠান্ডা গোশত মান্টোর
সাডা জাগানো গল্প। গল্পটা প্রকাশ হতেই পুরো পাকিস্তানে হইচই পড়ে যায়। আদালতের কাঠগডায পর্যন্ত যেতে হয় মান্টোকে। সে সময় ‘অবিরাম ব্যথার কিছু কথা’ শিরোনামে ৪২ পৃষ্ঠার একটি লেখা লিখেছিলেন তিনি যেটিকে পরে ভূমিকা ও ঠান্ডা গোশত-এর সঙ্গে আরো সাতটি গল্প যোগ করে ঠান্ডা গোশত নামে পূর্ণাঙ্গ যে বইটি রচনা করেন তারই অনুবাদ ঠান্ডা গোশত। চরম বাস্তববাদী সাহিত্যিক মান্টো তাঁর লেখায় মনস্তত্ত্বের যে খেলা তিনি রচে দিয়ে গেছেন, তা আমাদের ভাবিয়ে তোলে নিত্য অবলীলায়। সমাজ, রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রশাসনের খামখেয়ালি তাকে তাড়িত করেছে যথাযথভাবে।নিছক গল্প বলতে নয়, কালের মহাসত্যকে ফুটিয়ে তুলতেই গল্পের নামে জীবনবোধকে লিখে গেছেন মান্টো। ঠান্ডা গোশত গল্পের পটভূমি ১৯৪৭ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। ইশের সিং তার প্রণয়নী কালবন্ত কাউরকে বিছানায় সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হলে কালবন্ত কাউর তাকে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে অভিযুক্ত করে এবং মনে করে সে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে। এরপর কালবন্ত কাউর মাটিতে পড়ে থাকা কৃপাণ দিয়ে ইশের সিংকে আঘাতের পর আঘাত করতে থাকে। মরার সময় ইশের সিং জানায়, সে দাঙ্গার সময় একটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে রায়তে যুক্ত ছিল। একটি মুসলিম পরিবারের ছয় জন সদস্যকে সে ঐ কৃপাণ দিয়ে খুন করে। এরপর সে বাড়ির ভিতরে ঢুকে এবং একটি মেয়েকে দেখতে পায়। মেয়েটিকে ঘাড়ে করে তুলে বেরিয়ে আসে সে এবং ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে এসে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়। কিন্তু, মেয়েটি ছিল মৃত, একদম ঠা-া গোশতের ন্যায়। ঠা-া গোশত উর্দু ভাষায় রচিত। পাকিস্তানের একটি সাহিত্য সাময়িকীতে ১৯৫০ সালের মার্চে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সাঙ-এ-মিল পাবলিকেশন্স কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল বইটি। বাংলায় বইটি অনুবাদ করেন কাউসার মাহমুদ যেটি পেন্ডুলাম পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
অমৃতসরের মুসলিম হাইস্কুলে লেখাপড়া শুরু হয় মান্টৌর। কিন্তু পড়ালেখায় অমনোযোগী মান্টোর স্কুলে দমবন্ধ হয়ে আসতো। কেউ বিশ্বাসই করতে চাইবে না, উর্দু সাহিত্যের সেরা এই লেখক তিনবার উর্দুতে ফেল। চতুর্থবারের চেষ্টায় ম্যাট্রিক পাশ করেছিলেন। লেখালেখির কারণে কখনও এসেছে ফতোয়া, কখনও আবার অশ্লীলতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেশভাগের আগে তিনবার তাকে গল্পে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। একই অভিযোগ দেশভাগের পর পাকিস্তান গিয়েও পেতে হয়েছে তাকে। বারবার অভিযুক্ত হওয়ার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মান্টো বলেছিলেন—‘একজন লেখক তখনই কলম ধরেন, যখন তার সংবেদনশীলতা বা অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়!’ বেঁচে থাকতে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশেই অপমান করা হয়েছে মান্টোকে। দেশভাগের সময় নিজের জন্ম শহর বোম্বে ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয়েছিলো পাকিস্তানের লাহোরে। তবে সেখানে তিনি আজীবন ছটফট করেছেন নিজের জন্মভূমিতে ফেরত আসার জন্য। মান্টোর কলমে উঠে এসেছে ৪৭ এর দাঙ্গা, দেশভাগ, দেশভাগের সময় মানুষের মনের কদর্যতা। মান্টো একদম চোখের সামনে যেমন ঘটেছে তেমনটাই লিখেছেন অকপটে কোনো পক্ষ অবলম্বন না করে নির্দ্বিধায়। মান্টোর লেখা পড়তে পড়তে পাঠকের মনে হবে চোখের সামনে কোনো সিনেমা দেখছেন। মাত্র ৪৩ বছরের ছোট সময়ে নিজেকে ছোট গল্পের একজন ঈশ্বরে পরিণত করেছিলেন মান্টো। ২২টি ছোটগল্পের সংকলন , ১টি উপন্যাস, ৭টি রেডিও নাটক, ৩টি প্রবন্ধ সংকলন আর ২টি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ লিখেছিলেন মান্টো। তার্কিক আব্দুল বারি আলিগের সাথে ১৯৩৩ সালে তার সাথে পরিচয়। এই পরিচয় মান্টোর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি মান্টোকে ফরাসী এবং রাশিয়ান ভাষা শিখতে উদ্বুদ্ধ করেন। ফলশ্রুতিতে এই দু’টি ভাষা শিখে মান্টো সে ভাষার বিখ্যাত বিভিন্ন গল্প অনুবাদ করতে শুরু করে। ১৯৩৪ সালে মান্টো ভর্তি হন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসময় থেকেই পুরোদমে লেখালেখি শুরু করেন মান্টো এবং ধীরে ধীরে ভারতের প্রভাবশালী সাহিত্যিকে পরিণত হন। কাশ্মীরের মেয়ে সুফিয়াকে বিয়ে করেছিলেন মান্টো। তাদের ঘরে তিনটি মেয়ে এবং একটি ছেলে ছিলো। ১৯৪৩ সালের মধ্যে বেশকিছু রেডিও নাটকও লিখে ফেলেন। মান্টোর জীবনের কালো অধ্যায়ের শুরুও তখন থেকেই। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের ছোঁয়া এসে লাগে তার জীবনেও। মুসলমান হওয়ার কারণে বোম্বে টকিজ ফিল্ম থেকে চাকরি হারান, সেই সাথে পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে পালিয়ে চলে যান পাকিস্তানের লাহোরে শরণার্থী হিসেবে। পাকিস্তানে যাওয়ার পর নিজেকে একপ্রকার হারিয়েই ফেলেন মান্টো। কারণ বোম্বের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আর পাকিস্তানের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে ছিলো আকাশ পাতাল ফারাক। এছাড়া সেখানে তার কোনো বন্ধু ছিল না। সেখানেও লেখালেখির জন্য অপমানিত হওয়া তো ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। তখন বাধ্য হয়ে বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে রম্যরচনা আর ছোটগল্প লেখে পাঠাতে শুরু করেন। জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে মদে আসক্ত হয়ে থাকতেন। সে সময় মদের টাকা জোগাতেই নাকি লিখতেন বলে জানা যায় ।
ভালোবাসার শহর বোম্বে থেকে পালিয়ে আসা এবং দেশভাগের যন্ত্রণায় পুরোপুরি অস্থির হয়ে পরেছিলেন মান্টো। বন্ধু ইসমত চুগতাইয়ের কাছে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘কোনোভাবে আমাকে ফেরত নিয়ে যাও, এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।‘ সাদত হাসান মান্টো লেখক হিসেবে পাকিস্তানে খুব একটা সম্মান পাননি। কিন্তু অনেকের মতে, জীবনের শ্রেষ্ঠ লেখাগুলো পাকিস্তানেই লিখেছেন । কারণ, সে সময়টায় তিনি নিজের দেশ হারানো, দেশভাগ, মানুষের বিভেদ আর নতুন পরিবেশের যন্ত্রণায় থেকে একদম নির্মম সত্যগুলো তুলে এনেছিলেন কলমের ডগায় নিখুঁতভাবে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। ‘বু’, ‘টোবা টেক সিং’, ‘ঠান্ডা গোশত’, ‘তামাশা’ এগুলো মান্টোর উল্লেখযোগ্য রচনা। রুশ ও ফরাসি ভাষা আয়ত্বে আসার পর মান্টো ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত The last Day of a Condemned Man এর উর্দু অনুবাদ করেছিলেন। যা পরবর্তীতে “সারগুজাস্ত-ই-আসির”
(বাংলায় এক বন্দীর গল্প) নামে উর্দুতে প্রকাশিত হয়েছিল। মান্টোর হাতে রাশিয়ান গল্পের উর্দু অনুবাদ “রাশি আফ্সানে” প্রকাশিত হয়। বিদেশি সাহিত্য উর্দু ভাষায় অনুবাদ করতে গিয়ে মান্টো যেন এক অন্য জগতের সন্ধান পেলেন। কিংবদন্তি সাহিত্যিক ভিক্টর হুগো, অস্কার ওয়াইল্ড, আন্তন চেখভ, মাক্সিম গোর্কির লেখার সঙ্গে আগে খানিক পরিচয় থাকলেও এই সময় তার বিস্তৃতি ঘটেছিল বৃহৎ পরিসরে ।
অনিয়মতান্ত্রিক স্বভাব আর যাযাবর জীবন তার স্বাস্থ্য ভেঙে দিলো। যক্ষ্মা ধরা পড়ল। যক্ষ্মা ধরা পড়ার পর চিকিৎসক তার পূর্ণ সুস্থতার জন্য হাওয়া বদল করতে বললেন। মান্টো চলে গেলেন কাশ্মীরের বতুতে। কাশ্মীরে থাকা অবস্থাতেই ১৯৩৪ সালে মান্টোর জীবনে প্রথম প্রেম এলো। সেই প্রেমটাও ছিল অসম্ভব স্নিগ্ধ। মান্টো কাশ্মীরের বতুতে থাকা অবস্থায় প্রায়ই পাহাড়ি উপত্যকায় ঘুরতে যেতেন। এভাবে ঘুরতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হলো এক কাশ্মীরি মেষবালিকার সঙ্গে। যে কিনা মেষের পাল চরাতো। এই প্রেমটিকে মান্টো বলেছিলেন অপরিপক্ব প্রেম। তবে এই প্রেমের কথা জীবনেও কখনো মান্টো ভুলতে পারেননি। এই মেয়ের পরিচয় ও গল্প মান্টো তুলে এনেছিলেন তার এক টুকরো মিছরি গল্পে। যেখানে মান্টো মেয়েটির নাম দিয়েছিলেন “বিত্ত”।
মান্টোর প্রথম গ্রন্থ ছিল গল্পগ্রন্থ “আতিশ পারে”। “আতিশ পারে” প্রকাশিত হয়েছিলো১৯৩৬ সালে।
মুসাব্বির পত্রিকায় থাকাকালীন চার বছর অসম্ভব পরিশ্রম করেছেন মান্টো। মূলত এই পত্রিকায় থাকাকালীন সময় চলচ্চিত্র সমালোচনা লিখতেন মান্টো। এই পত্রিকায় থাকা অবস্থায়ই ফের সাহিত্যের প্রতি অসম্ভব এক টান অনুভব করলেন মান্টো। ১৯৪০ সালে মান্টো যোগ দিলেন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে। ১৫০ টাকা বেতনে দিল্লিতে চাকরি। এটি ছিল মান্টোর জন্য দারুণ এক সুযোগ। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে থাকা অবস্থাতেই ১৯৪১ সালে প্রকাশিত মান্টোর দ্বিতীয় গল্প গ্রন্থ “মান্টো কে আফসানে”।
ফিল্মিস্তান স্টুডিওতে ৩০০ টাকা বেতনে সংলাপ রচয়িতা ও চলচ্চিত্রের কাহিনীকার হিসেবে কাজ করছিলেন মান্টো। এখানে থাকাকালীন তার কাহিনীতে গড়ে উঠেছিল দারুণ কয়েকটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে “গালিব” চলচ্চিত্রের কথা বলতেই হয়। যদিও এই চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিলো অনেক পরে। সুপারহিট হয়েছিল চলচ্চিত্রটি। পেয়েছিলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ কেবল উপমহাদেশের পশ্চিম ও পূর্ব অংশকে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ভাবে বিভাজিত করেনি, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক দিক থেকেও চরমভাবে বিপর্যস্ত ও রক্তাক্ত করেছিল। বিশেষত, পশ্চিম প্রান্তে হিন্দু, মুসলিম ও শিখ সম্প্রদায় রাজনৈতিক উন্মাদনায় পরস্পরের রক্তে হোলিখেলায় মেতেছিল। উর্দু সাহিত্যে মান্টো এবং আরো অনেকেই, যেমন খুশবন্ত সিং, অমৃতা প্রীতম, কৃষণ চন্দর, খাজা আহমদ আব্বাস, ইসমৎ চুগতাই, কুদরৎ উল্লাহ সাহাব, রাজিন্দর সিং বেদি প্রমুখ দেশভাগের পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক নখরে ক্ষত বিক্ষত মানুষ ও মানবতার কথাকার হয়ে পালন করেছেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। আর সাদত হাসান মান্টো এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন নিজের কমিটমেন্ট, সম্পৃক্ততা, সাবলীলতা ও সাহসিকতার জন্য। জীবদ্দশায় নিজের কাজের তেমন কোনো স্বীকৃতি পাননি মান্টো। একপ্রকার অবহেলা আর অভাবকে সাথে নিয়ে ১৯৫৫ সালের ১৮ জানুয়ারি এক শীতের ভোরে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ছোট গল্পের ঈশ্বর খ্যাত লেখক সাদত হাসান মান্টো।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক, সুনামগঞ্জ

]]>
চাপতন্ত্র https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0/ Sun, 25 Jun 2023 16:23:08 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165823 রাজেশকান্তি দাশ

সান্নিধ্যকে দূরত্বের স্কেলে ফেলে দেয় চাপতন্ত্র
সান্নিধ্য দূরত্বের স্কেলে পড়ে গেলে সম্পর্কের নিবিড়তা ভেঙে যায়।

আমাদের চাকবদ্ধ স্বপ্ন গলতে থাকে। জন্ম নেয় খন্ড খন্ড বেদনা।
সৃষ্টি হয় দীর্ঘশ্বাস। রাশি রাশি দীর্ঘশ্বাস।

চাপতন্ত্রঃ সমগ্রের ব্যবচ্ছেদ
যেমন বাড়িকে ভেঙে ঘর
দেশকে অঞ্চল

অথচ আমি চেয়েছিলাম বাড়িটা বাড়িই থাকুক
দেশটা দেশ।

]]>
হাওরে বর্ষা https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be/ Sun, 25 Jun 2023 16:18:46 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165819 মাহবুবুল হাছান শাহীন
মেঘালয় পাহাড় থেকে
নেমে আসা ঢলের অপেক্ষায়…
সাদা আকাশে ধুসর মেঘ
ভেসে বেড়ায়..
বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পরে
সব মিলিয়ে হাওর গুলো
পরিপূর্ণতা পায়।
প্রবল বর্ষনে
নদী,হাওর মিলে মিশে একাকার
বর্ষারা জেগে থাকে
হাওরের বুক জুড়ে
মাঝে মাঝে সূর্য উঁকি দেয়
হিজল করচের ফাঁকে ফাঁকে
শিশুরা দাপিয়ে বেড়ায়
বালিহাঁসের মতো
হাওরের বিশালতায়।
দুঃখ সুখ নিয়েই
ফিরে আসে বার বার
হাওরে….
বর্ষা।

]]>
অশ্লীল চিরকুট https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%85%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%9f/ Sun, 25 Jun 2023 16:16:46 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165816 জাহাঙ্গীর আলম
সভ্যতার অশ্লীল চিরকুট
বুক পকেটে জমা হয়
মধ্য রাতের উষ্ণতা বিলানো ফুলগুলোও
ভুল পথে এসে দরজায় দাঁড়ায়।

কাঁপুনি শীতে
সব প্রলোভন পিছনে ফেলে
ফেরারী সময় হেঁটে চলে
একলা পথে একলা রাতে।
কেন সে ডাকাত হতে পারেনি আজো বুঝিনা….

]]>
বাণীপুর গ্রাম রক্ষা কাজের উদ্বোধন https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%87/ Sun, 25 Jun 2023 03:35:07 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165776 স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাণীপুর গ্রামকে সুরমা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন করেছেন সুনামগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্। শনিবার বিকালে এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
জানা যায়, প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ -১।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সজ্জাদুর রহমান সাজু ,এলাকার মুরব্বী ডা. শামসুল ইসলাম আবুল হোসেন, সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম, সাবেক মেম্বার আব্দুস সোবহান, আব্দুল কাইয়ূম, হাজী হাবিবুর রহমান, জাপা নেতা আবু তালিব আল মুরাদ, সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান সাজিদ, সহ-সভাপতি ইমরান আহমদ, যুবলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন, আমিনুর রশীদ, মোহনপুর ইউপি সদস্য সফর আলী, ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া, ইউপি সদস্য আজিম উদ্দিন, ইউপি সদস্য জিলানী, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সুনামগঞ্জ জেলার সাংগঠণিক সম্পাদক এরশাদ আহমদ, জাপা নেতা হুমায়ুন কবির, আলী হোসেন, আব্দুল হেকিম প্রমুখ।

]]>
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-5/ Sun, 25 Jun 2023 03:33:10 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165774 সরকারী বিধি মোতাবেক সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা অনুসারে হামিদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ সদর, সুনামগঞ্জ’এর জন্য একজন করে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশ প্রহরী, আয়া ও অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়া হইবে। প্রার্থীগণকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে ১০০০/= (এক হাজার) টাকা’র পে-অর্ডারসহ সভাপতি বরাবর আবেদন করতে হবে।

]]>
বিশ্বম্ভরপুরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্মেলন https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a7%8c-3/ Fri, 23 Jun 2023 15:33:04 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165721 বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
বিশ্বম্ভরপুরে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে কালিকুমার দাশ কে সভাপতি ও শংকর বড়াল কে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্য উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়।
শুক্রবার উপজেলার লালারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আহবায়ক কমিটির আহবায়ক কালীকুমার দাশের সভাপতিত্বে ও সদস্য উচ্ছ্বাস দাশের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দীপক চন্দ্র ঘোষ।
উদ্বোদক ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মলয় চক্রবর্তী রাজু। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. গৌরাঙ্গপদ দাশ, পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি কলি তালুকদার, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শাখা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জীবন কৃষ্ণ দাশ, সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন, সুনামগঞ্জ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক প্রমথ চক্রবর্তী, পলাশ দুর্গা মন্দিরের সভাপতি মনমোহন দাশ, উপজেলা ঐক্য পরিষদের হরলাল হাজং, নিকিলেশ দেবনাথ।
এরপর সর্বসম্মতিক্রমে কালী কুমার দাশ কে সভাপতি ও শংকর বড়াল কে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কমিটি গঠন করা হয়।
এছাড়া একই স্থানে উপজেলা শাখা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য মহিলা পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিমা রানী দেবী কে আহবায়ক ও শিবানী সাহা, শিখা রানী তালুকদার ও জোনাকী তালুকদার কে যুগ্ম আহবায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট মহিলা পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

]]>
দোয়ারাবাজারে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97%e0%a7%87/ Fri, 23 Jun 2023 15:26:23 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165710 দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারে আওয়ামী লীগের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীকের সভাপতিত্বে ও যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান ভূইয়া রুবেল’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আল তানভির আশরাফি চৌধুরী বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্ততি কমিটির সদস্য দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার সফর আলী, দোহালীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বসির উদ্দিন, সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বিলাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা কামাল পাশা, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুগ্ম আহবায়ক এস এম হাসমত উল্লাহ, সাবেক ইউপি সদস্য সুনাদন দে, ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো. ছালিক মিয়া, ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সভাপতি ছদরুল ইসলাম, মো. নুর মিয়া, ফিরিজ আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক রতন লাল দাস, ছাত্রলীগ নেতা শাহ জালাল, নিউটন দাস সয়ন।

]]>