Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php:146) in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-includes/feed-rss2.php on line 8
শেষ কর্নার – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক https://archive.sunamganjerkhobor.com Sun, 25 Jun 2023 16:27:07 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.0.14 জিলাপি চোর https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%bf-%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%b0-2/ Sun, 25 Jun 2023 16:25:35 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165820 কুমার সৌরভ
‘ইলাখান মারার দরকার কিতা। এখবারে শেষ খরিলাউ। তুমার নু বন্দুক আছে। গুল্লি নাই? তে গুল্লি খরও না খেনে। একবারে শেষ করিলাউ।’
তারস্বরে চিৎকার করছিল বিপিনবিহারী। তাকে চুরির দায়ে ধরে আনা হয়েছে এই সর্দার বাড়িতে। তারিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আগে ফুড গোডাউনের লেবার সর্দার ছিলো। তখন তার বাড়িকে সবাই সর্দার বাড়ি বলে ডাকা শুরু করে। এরপর তারিনী মেম্বার হয়েছে, চেয়ারম্যান হয়েছে। তার আগের দু’চালা টিনের ঘর এখন দু’তলা বিল্ডিং হয়েছে। এখন তার বাড়ির চতুর্দিক আর উদোম নয়। বাউন্ডারি ওয়াল ঘিরে রেখেছে। সড়কের দিকে বিল্ডিং এর পেট বরাবর স্টেইনলেস স্টিলের একটি সুদৃশ্য প্রবেশ তোরণ বসানো হয়েছে। তোরণের এক কোণে প্লাস্টিকের নামফলক। সেখানে লেখা- চেয়ারম্যান ভিলা, তারিনী মোহন চৌধুরী, চেয়ারম্যান, ডাবরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ। চেয়ারম্যান ভিলা লিখা থাকলেও মানুষ আগের মতই সর্দার বাড়ি বলে ডাকা ছাড়েনি। এ নিয়ে আফসোসের শেষ নেই তারিনীর। কতবার বলেছে- ‘এই ব্যাটা ওখন আমি অইলামগিয়া তুমরার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ওখন আমি আর আগের সর্দার নি? তেইলে তুমরা ওখন আর সর্দার বাড়ি খও খেনে। চেয়ারম্যান ভিলা খইলে খিতা জিব্বা ফরিযাইব নি।’ কিন্তু কে শোনে কার কথা। সর্দার বাড়ি আর চেয়ারম্যান ভিলা হয়ে উঠল না।

এমন প্রসঙ্গে গ্রামের ঘাড়ত্যাঁড়া রুক্ষিনী প্রায়ই তার ইয়ার বন্ধুদের বলে বেড়ায়- ‘তাইন চেয়ারম্যান অইছইন খিলা ইতা আমরা সবে জানি। তান নিজের সেন্টার দখল খইরা ব্যালট খাইরা বাক্সত্ বরিলাইছইন। ওই সেন্টার দিয়াই তু তাইন ১৩ ভোটে আরাইছইন আমরার আরাধন মাস্টররে। ওখন তাইন আইছইন চেয়ারম্যানগিরি ফলাইতা। বস্তার ফারা আইছইন আশমানর তারা অইতা। আরে..চু..চু..।’ রুক্ষিনী কথাগুলো বলে চোখ টিপে, তখন সবাই হেসে উঠে।
কিন্তু এসবই একান্ত আলোচনা। প্রকাশ্যে তারিনীর চোখে চোখ রেখে গ্রামের কেউই কোনো কথা বলে না। ভয় পায়। সকলেই জানে তারিনীর হাত অনেক লম্বা। ইচ্ছা করলে যে কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারে। পারে থানায় নিয়ে পিটুনি খাওয়াতে। আরও পারে যারে ইচ্ছা তারে বয়স্ককার্ড দিতে। চাই সে বয়স্ক হোক কি না হোক। তাই আড়ালে সমালোচনা করলেও সামনে সকলেই তাকে খুশামুদি করে। ইউনিয়নে কোনো কিছু ঘটলে আগে তাকে জানাতে হবে। হোক সে সামান্য চুরি কিংবা খুন। ধর্ষণ অথবা মাথা ফাটাফাটি। এমন কি জামাই বউর ঝগড়াও পড়শিদের আপোস করার উপায় নেই। চেয়ারম্যানকে জানাতে হবে। তারিনী সবসময় বলে, ‘আমি অইলাম অউ ইউনিয়নের হর্তা-কর্তা। কর্তারে ফুল বেলপাতা দক্ষিণা না দিলে পুজা অইতো খিলা। তেঔ এই তারিনী বাবুর কৌর্টরে হেলাফেলা খইর না কেউ। খবর অইযাইবো এক্কেবারে।’
সুতরাং তাকে না জানিয়ে কেউ আইনের আশ্রয় নিলে আর উপায় নেই। অন্য আরও পাঁচটা মামলা দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যায়। তাই আজ এই সকালে বিপিনকে হাজির করা হয়েছে তারিনী-দরবারে। বিপিনের অপরাধ গত সন্ধ্যায় বিহারীদের বাড়ি থেকে এক বাক্স জিলাপি চুরি করেছে। বমাল ধরা পড়েনি বিপিন। বিহারী একবাক্স মিষ্টি আর এক বাক্স জিলাপী সুন্দরগঞ্জ থেকে কিনে ঘরে রেখেছিলো। পরের দিন সে এই মিষ্টান্ন নিয়ে কুটুমবাড়ি যাবে। বিপিন নাকি রাতের কোনো এক সময়ে ওই দুই বাক্সের মধ্যে জিলিপিরটা চুরি করেছে।
বেনসন শলাকায় টান দিয়ে নাক মুখ থেকে ধুয়া বের করে তারিনী চেয়ারম্যান বলল- ‘বিপিনই যে চুরি করেছে এর প্রমাণ কী?’
-‘বিপিনের ঘরো এই বাক্স পাওয়া গ্যাছে’। বলল বিহারী।
-‘কথা ঠিকনিবা বিপিন’ চেয়ারম্যানের জিজ্ঞাসা অভিযুক্ত বিপিনের উদ্দেশ্যে।
ছোট্ট করে মাথা নেড়ে বিপিন হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানাল।
-‘আচ্ছা, তাহলে চোর নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ভাল, বেশ ভাল।’ সামনের মজলিসের দিকে তাকিয়ে চেয়ারম্যান কথাগুলো বলে হাতের আধ খাওয়া বেনশন শলাকা ছুঁড়ে মারল মাটিতে। ওটি গিয়ে পড়লো মজলিসে হাঁটুমুড়ো দিয়ে বসা বিনোদের কাছে। বিনোদ বেনশন শলাকাটি হাতে নিয়ে মুখ ঘুরিয়ে টানতে শুরু করল। আহ্ এত স্বাদ বেনশনের, টানতে টানতে বিনোদের মনে হলো এ তো ধূম্রশলাকা নয়, এতে তো দেখি চেয়ারম্যান সাহেবের গায়ের সুগন্ধি লাগানো । টানলে বুকটা এখবারে ঝরঝরা অইয়া যায়। কি বাস আর কি সুয়াদ। সে তো ঘণ্টায় ঘণ্টায় ধূম্রশলাকা টানে। নিজের নামে নাম বলে বিনোদ বিড়ি তার বড় পছন্দের। সবসময় বিনোদ বিড়ির বান্ডেল তার ট্যাঁকে গোঁজা থাকে। চেয়ারম্যান আড়চোখে বিনোদের সিগারেট টানা দেখে মুচকি হাসল। মুখে কিছু বলল না। চেয়ারম্যান এবার বিপিনের দিকে তাকিয়ে বলল- ‘তাহলে তুমি স্বীকার করে নিচ্ছ জিলিপির বাক্স তুমিই চুরি করেছ’?
বিপিন কিছু বলার আগে মজলিসে বসা রতনমনি বলে উঠল- ‘চেয়ারম্যান বাবু বিপিনের জন্ম ই গ্রামো। জন্মের ফর থেইক্যা তারে আমরা দেইখ্যা আইরাম। হে গরিব অইতো পারে। শরীর খাইট্যা খায়। কুনুদিন হে চুরি করছে ইরখম কথা হুনছি না। চেয়ারম্যান বাবু দেখইন কুনু গন্ডগুল আছে মনে অর।’ তাকে সমর্থন করে মজলিসে উপস্থিত আরেকজন। সে রবীন্দ্র। বলল- ‘আমিও ইতা হাছা মনে খররাম না। আমরা একবার তিন দিনের লাগি বাইরে গেছলাম বাড়িত বিপিনরে এখলা রাইখ্যা। আইয়া এখটুও হড়নড় ফাইছি না। ইলাখান ব্যাটা এক বাস্ক জিলাপি চুরি খরব, না না আফনারা বিষয়টা তলাইয়া দেখইন। বউত সময় চউখর দেখা সবতা হাছা অয় না।’
চেয়ারম্যান এবার মজলিশের দিকে তাকিয়ে গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বললেন- ‘এ তো আচ্ছা মুশকিল দেখছি। আসামি যেখানে নিজে স্বীকার করেছে… আচ্ছা আচ্ছা… সত্যিই সে চুরির অপরাধ স্বীকার করেছে কিনা যাচাই করা দরকার।’ চেয়ারম্যান চোখ থেকে চশমাটা খোললেন। পাঞ্জাবির নিচের অংশ হাতে নিয়ে চশমা ঘষে আবার চোখে দিয়ে তাকালেন বিপিনের দিকে। ‘বিপিন সত্যিই তুমি বিহারীর বাড়ি থেকে জিলাপি চুরি করেছ? সত্য বলবে কিন্তু। দেখ সত্যাশ্রয়ী ব্যক্তি সর্বদা ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করেন।’ তার এই কথায় মজলিশের পিছনে ফিসফিসানি শুরু হলো। কেউ একজন বলছে- ‘আহারে ব্যাটা সত্যবাদী যুধিষ্টির। তুই দিনে কয়টা হাছা কতা মাতছ। হিদিন আমারে খইলে- তোমার নাম আমি দিসলাম পুনর্বাসনের লিস্টিত্ কিন্তু অফিসো গিয়া ই কথা খইতেই তারা লিস্টি বাইর খইরা চেক কইরা খইলা আমার নাম নাই। হালা হাছা মাউতারর ঘরের হাছা মাউতরা। একদলা থু থু ফেলার দৃশ্যও ফিসফিসানি স্থলে লক্ষ্য করা গেলো। তবে ওই বাঙময় দৃশ্য চেয়ারম্যান অবধি এসে পৌঁছালো না। পিছনের কথা আরও পিছনে চলে গেল।
বিপিন এবার সামনে এসে দাঁড়ালো। দৃষ্টি তার চেয়ারম্যানের চোখে। মাথা সোজা। মুখে বিন্দুমাত্র অপরাধবোধের চিহ্ন নাই। দৃঢ় কণ্ঠে সে বলল- ‘অয় অয় আমিই জিলাপি চুরি খরছি। অখন তোমরার বিচারো কিতা শাস্তি দিতায় দিলাউ।’
পুরো মজলিস স্তব্ধ। গ্রামের বহু সালিস তারা দেখেছে। দেখেছে পাঁচগ্রামী দশগ্রামী বিচারও। এক বিচারে সন্তুষ্ট না অইলে ছানি বিচার চাওয়া যায়। পুরো পরগনার মাতব্বররা বসে বিচার করেন। কিন্তু এমন দৃঢ়তা নিয়ে কোনো অপরাধীকে কেউ অপরাধ স্বীকার করতে দেখেনি। বিপিনের কথার মধ্যে কোনো জড়তা নাই। কোন অনুশোচনা বা ভয় নাই। সে যেন উচিৎ কাজই করেছে।
চেয়ারম্যানের পাশে বসা ওয়ার্ড মেম্বার এতক্ষণ নিশ্চুপ ছিলো। এত বড় সভায় তার কিছু বলা উচিৎ বলে এবার তার মনে হলো। মেম্বার বিপিনকে উদ্দেশ্য করে বলল- ‘কিতারলাইগ্যা চুরি খরছ? তোমার সম্বন্দে তো এর আগে ইরকম কোনতা হুনছি না। তে অইলে এই কয় টাকার জিলাপি চুরি করলায় খেনে। খউছাইন দেখি।’
বিপিন নিরুত্তর। মেম্বার আরও কয়েকবার জানতে চাইলেও একই রকম নিরুত্তর রইলো সে।
পিছন থেকে কে জানি ফুরন কাটে। ‘বিপিনের আরেক আত ভাঙা আছিল মনে অর ইদিন। নাইলে আরেক বাস্ক মিষ্টি থইয়া গেল না নে।’ হাসির হালকা একটি রুল উঠেই আবার মিলিয়ে যায়। চেয়ারম্যান গর্জে উঠলেন- ‘চুপ, হক্কলে মাতব্বর অইগেছইন। হালার কলির কাল ছাগলে চাটইন বাঘর গাল।’
চেয়ারম্যান এবার বিচারকসুলভ গাম্ভীর্য নিয়ে বলতে শুরু করলেন- ‘আসামি নিজে চুরির দায় স্বীকার করেছে। সে আত্মপক্ষ সমর্থনে কোন কথা বলতেও অনিচ্ছুক। বুঝাই যাচ্ছে বিহারির বাড়ি থেকে বিপিনই জিলাপি চুরি করেছে। দোষ প্রমাণ হওয়ায় তাকে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া দরকার। অপরাধের সাজা না হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়। অন্যরাও অপরাধী হতে প্রলুব্ধ হয়। সুতরাং এই গ্রামকে তথা সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিপিনের একটি শাস্তি হওয়া উচিৎ। আপনারা বলুন তাকে কী শাস্তি দেয়া যায়।’ কথা শেষ হওয়ার পর পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে একটি সিগারেট মুখে দিল। অন্য পকেট থেকে গ্যাসলাইটার বের করে সিগারেট ধরিয়ে এক মুখ ধুয়া আকাশের দিকে ছেড়ে চেয়ারম্যান সকলের দিকে দৃষ্টিপাত করলো।
এবারও ফিসফিসানি মজলিসের ডানদিকের শেষ সারিতে। ওখানে হ্যাংলাপাতলা কমবয়সী এক ছেলে তার পাশের জনকে বলছিল- ‘অপরাধের সাজা দিব এরা। একবাস্ক জিলাপি চুরির সাজা। গতবার বন্যায় আমরার আওর ডুবি গেল। ওয়াবদার বালের বান্দ ফানির পয়লা ধাক্কাঅই সামলাইতে ফারলো না। হুনছি ওই বান্দে সরকার ৪০ লাখ টাকা দিছলা। ওই বান্দো যদি ২ লাখ টেকার মাটি আর দুই লাখ টেকার বাশ দাড়ি দেওয়া অইতো তে অইলে ওইটা আর ভাংল না নে। এই বান্দের ঠিকাদার তো চেয়ারম্যানের ভাতিজাই আছলা। তাইন ভাতিজার বিচার খরছইন নি? ওখন আইছইন জিলাপি চুরির বিচার খরতা।’ আগের মতই ডান কোণের এইসব ফিসফিসানি আরও ডানে চলে যায়, সামনে এগোতে পারে না। মজলিশে তেমন আলোড়নও তুলে না।
চেয়ারম্যানের কথায় মজলিশে গুঞ্জরণ শুরু হয়। মেম্বার মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভাবে কেমন শাস্তি হতে পারে। সামনের সারির মোহনবাঁশি তালুকদার ধুতির খুঁট তুলে হাঁটু চুলকায় আর ভাবে। তার ডানের দীনবন্ধু বর্মন কাঁধের গামছা দিয়ে মুখ মুছে। দীর্ঘ বিচারসভায় এখন তার খেয়াল হলো গরমে মুখ শরীর ঘামে ভিজে গেছে। গামছা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে দীনবন্ধু মনে মনে শাস্তির প্রকার ও পরিমাণ ভাবতে থাকে। এমনকি অনবরত কাশছিল যে হরিহর সেও চোখে লেগে থাকা পাঁচুটি মুছতে মুছতে ভাবতে থাকে বিপিনের কী শাস্তি হতে পারে। কেবল পিছনে ও ডান কোণে জটলা করে বসে থাকা লোকগুলোর মুখে কোনো ভাবান্তর নেই। তারা এতক্ষণ একটি বিড়ি ধরিয়ে চার পাঁচ জনে ভাগ করে ফুঁকছিলো আর মাঝে-মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলছিলো। এরা গ্রামের অগণ্য মানুষ। এদের কাছে কেউ মতামত জিজ্ঞেস করে না। এরাও গলা চড়িয়ে নিজেদের ভাবনার প্রকাশ ঘটাতে জানে না। তবে এরা সকলেই যে বিপিনের প্রতি সহনাভূতিশীল তা এদের মুখ চোখ দেখেই বুঝা যায়। এখন এদেরই একজন বিপিনের কাছাকাছি চলে আসল। একেবারে বিপিনের সামনে এসে দাঁড়ালো। এখন আর চেয়ারম্যান বিপিনকে দেখতে পারছে না। একজনের দেখাদেখি আরও কয়েকজন এসে বিপিনকে ঘিড়ে দাঁড়ালো। এখন বিপিনকে চক্রবুহ্যে আটকে পড়া অভিমন্যূর মতো দেখাচ্ছে। বিপিনের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর কারণে এখন আর শুধু চেয়ারম্যান নয় মজলিশের অন্যরাও আর বিপিনকে দেখতে পাচ্ছে না। চক্রবূহ্যের পরিধি ছোট হয়ে আসছে। একজনের সাথে আরেকজনের গা ছুঁয়াছুঁয়ি হয়ে গেলো। একজনের নিঃশ্বাসের শব্দ আরেকজনের কানে শনশন বাতাসের মতো আঘাত করছে। তবে এই বূহ্য বিপিনকে মারার জন্য রচিত হয়নি। দেখা গেল চক্রবূহ্য একসাথে নুয়ে পড়ল। মধ্যিখানে বিপিনকেও নোয়ানো হলো। ঠিক খেলা শুরুর আগে যেমন ক্যাপ্টেন সহ-খেলোয়াড়দের শেষ টিপস দেয় তেমনই দেখাচ্ছে এই কু-লীকে। সকলেই আস্তে আস্তে বিপিনকে বলল- ‘তুই চুরির দায় অস্বীকার কর ভাই। আমরা হকলেই জানি চুরির মতো জঘন্য কাজ তুই করতে পারস না। কুনতা না কুনতা রহস্যতো আছেই। তুই ইটা খইয়া দে। আমরা আছি তর লগে।’
বিপিন দুই হাত উপরে উঠিয়ে এক ঝটকায় অগণ্য-মানব-বূহ্যকে ধাক্কা দিয়ে নিজের মাথা উপরে তুলল। ঠিক পুরানের অভিমন্যূর মতই। এবার সে স্বর চড়িয়ে বূহ্য-মানবদের উদ্দেশ্যে বলল- ‘না আমিই চুরি খরছি। আগেও খইছি ওখনও খইরাম।’ হতচকিত মানব-বূহ্য সরে দাঁড়াল। বিপিন তাদের অসম্মান করল না সত্য আঁকড়ে থাকলো ঠিক বুঝে উঠতে পারল না তারা।
এবার শাস্তির ধরণ ঠিক করার পালা। চেয়ারম্যান সকলকে উদ্দেশ্য করে আবারও তাড়া দিলেন যার যার মতামত দেয়ার জন্য।
মেম্বার বলল- ‘চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড়ে ধরা। ধরা খাইলে তো মরি গেলে। বিপিন যখন ধরা ফরিগেছে তাইলে দিঠান রাখার মতো শাস্তি দেওয়ন লাগব। হেরে বাজারবারের দিন সদর রাস্তায় হখলের সামনে নাকখত দেওয়ার রায় দেউক্যা।’
মোহনবাঁশি তার মতামত দিলো- ‘বিপিন ব্যাটার আগে চুরির রেকড না থাকায় তারে ১ হাজার টেকা জরিমানা খইরা ইবারের মত মাফ করিদেইন।’
দীনবন্ধু বলল- ‘চোরের ফত্যিদিন আর গিরস্তের এখদিন। বিপিনরে একঘইরা খইরা রাইখ্যা দেইন।’
আরও কয়েকজন এমন আরও বহু শাস্তির বাতেলা দেখিয়ে দিল।
চেয়ারম্যান সকলের কথা শুনলেন। তিনি জনপ্রতিনিধি কিনা তাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। জনগণকে ক্ষমতায়িত করা তথা নির্ভয়ে মত প্রকাশের পরিবেশ তৈরিও তার কাজ। এজন্য চেয়ারম্যান সকলের মতামত জেনে নিলেন। কিন্তু আসল রায়টা ঘোষণা করবেন তিনিই। তিনি এই মজলিসের বিচারক কিনা। আদালতে যেমন উকিলরা সওয়াল করে, স্বাক্ষীদের জেরা করে, তথ্য-প্রমাণ পেশ করা হয়, বাদি-বিবাদি নিজেদের আর্জি পেশ করে; কিন্তু রায় ঘোষণা হয় জজ সাহেবের মুখ থেকে এখানেও তেমনি সকলের কথাই শুনা হবে কিন্তু শেষ কথাটি চেয়ারম্যানই বলবেন। এই বিধানবলেই তো সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
চেয়ারম্যানের মুখে তৃপ্তির হাসি। তিনি হাত তুলে বললেন- ‘আর কেউ কিছু বলতে চাও?’ তার তর্জনী যেন এবার অগণ্যজনদের দিকে। অন্তত তারা তাই মনে করল। পিছনের একজন, যে বূহ্য রচনার একজন ছিলো, সে বলল- ‘লঘু পাপে গুরু দ- অইযারগি। আপনে হুনরা নানি।’
এই কথার সাথে অনেকেই দাঁড়িয়ে গেল। ‘অয় অয় বিপিনের আজ ন্যায্য বিচার করন লাগবো। আসল রহস্যখান বার করন লাগব।’
গমগম করে উঠল মজলিস। যেন একশ একটি পাখি একসাথে ডেকে উঠেছে। যেন অর্ধশত ষাঢ় একসাথে চেঁচিয়ে উঠেছে। লাল হয়ে উঠল চেয়ারম্যানের মুখ। তিনি স্বগতোক্তি করলেন। গণতন্ত্রকে এরাই যুগে যুগে হত্যা করে এসেছে। এদের জন্যই সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। তিনি গর্জে উঠলেন- ‘চুপ ব্যাটারা। তোদের কাছে কে মতামত জানতে চেয়েছে।’ খুব বিরক্ত হয়ে অগণ্যদের কথা থেমে গেলো।
এবার চেয়ারম্যান স্মিত হাসি দিয়ে বললেন- ‘এতক্ষণ সবাই সবার কথা শুনেছেন। সবচাইতে বড় কথা অভিযুক্ত বিপিন নিজের দোষ স্বীকার করেছে। একবার নয় দুই দুই বার। এখানে আর সাক্ষী সাবুদের প্রয়োজন পড়ে না। দোষ যেখানে প্রমাণিত সেখানে দোষীকে উপযুক্ত সাজা দেওয়া সভ্য সমাজের রীতি। বিপিনেরও সাজা হওয়া দরকার। আপনাদের সকলের কথা শুনেছি। সকলের মতামত সমন্বয় করে আমি একটি রায় দেই, আপনারা কী বলেন?’’
চেয়ারম্যানের এই কথায় মজলিসের গণ্যরা হাত উঁচিয়ে সমর্থন জানালেন।
চেয়ারম্যান এবার চিন্তা করা শুরু করলেন কী সাজা দেয়া যায় বিপিনকে। এই হারামজাদার ভাল শাস্তি হওয়া দরকার। গত বন্যায় রিলিফের ৪ বস্তা চাল এনেছিলেন তিনি। পথে দেখে ফেলে বিপিন। বলে- ‘ও চেয়ারম্যান বাবু গরিবের চাউল আফনে বাড়িত নেইন কেনে। আফনার কিতা কম আছে না কিতা। ফুডগোদামে সর্দারি করার সময় ৫০ কেজির বস্তারে ৪৫ কেজি দেখাইয়া কত টেকার মালিক হইচইন। আবার ডিলাররারে দেওয়ার সময়ও ৪৫ কেজি দিয়া ৫০ কেজির হিসাব করছইন। ফরে চেয়ারম্যান অইয়া কত রাইতরে দিন আর দিনরে রাইত খইরা পয়সা কামাইছন। ওত আছে আফনার। তারফরেও রিলিফের চাউল নেইন। ইতা বালা নায়।’ বিপিন শুয়রের বাচ্চার ওই কথাগুলো এখনও মনে আছে চেয়ারম্যানের। তাই তিনি বিহারিকে বলে এই বিচারের আয়োজন করিয়েছেন। বিহারি প্রথমে রাজি ছিল না। বলেছিল- ‘ইতা আর খিতা। এক কেজি জিলাপির ব্যাফার। আর জিলাপি তো ফিরতওই আইন্যইছি। ইতার লাগি আর বিচার ক্যানে চেয়ারম্যান বাবু।’ চেয়ারম্যান একটু চোখ লাল করে গরম গরম কয়েকটা কথা বলার পরই নেতিয়ে পরে বিহারি। তাই আজকের এই বিচারের মজলিশ। বাদি বিহারী আর অভিযুক্ত বিপিন। বিচারের শেষদিকে এসে বিহারির বেশ খারাপই লাগছে। বিপিন তার খুরতোতু ভাই। বিভিন্ন সময়ে বিপিনের সহায়তাও নিয়েছে বিহারি। ওই তো মাস ছয় আগে বিহারীর মা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বিপিনই তো মাছ শিকারের পলোর মধ্যে কাঁথা বিছিয়ে তার অসুস্থ মাকে সেখানে বসিয়ে দিয়েছিলো। পলোর দুই দিকে দুইটি রশি বেঁধে সেই রশিতে বাঁশ আটকিয়ে বিপিন আর বিহারী কাঁধে নিয়ে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলো। আর আজ কিনা তারই অভিযোগে বিপিনকে চুরির সাজা মাথায় নিতে হচ্ছে। চেয়ারম্যানের ভয়ে সে কিছু বলতেও পারছে না। তার বুক ভারী হয়ে উঠেছে। ভয়,কষ্ট, ঘৃণা ও ক্ষোভ যেন তার বুকের মাঝে ভারী পাথরের মত চেপে আছে। সে তাকায় বিপিনের দিকে। বিপিন আগের মতই নির্বিকার। উদাস দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আকাশে প্রখর রোদ। শ্রাবণের রোদের তাপে তার মুখখানি লাল বর্ণ ধারণ করেছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে বিপিন যেন সূর্যের সকল উত্তাপ নিজের মধ্যে ধারণ করার পণ করেছে।
চেয়ারম্যান উঠে দাঁড়ালেন চেয়ার থেকে। তিনি এবার রায় ঘোষণা করবেন। গম্ভীর কণ্ঠে বলা শুরু করলেন- ‘শোন সকলে, আমি অনেক চিন্তা করে ঠিক করেছি বিপিনকে…
কথা শেষ করতে পারেননি চেয়ারম্যান। মজলিসে উদভ্রান্তের মতো ছুটে আসল কমলার মা। বিহারীর বিধবা বড় বৌদি। সম্পর্কে বিপিনেরও বৌদি, জেঠতুতো ভাইয়ের বউ। এই মহিলা এখন কেন এই মজলিসে কেউ ভেবে পেল না। এসেই সে চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলে উঠল- ‘আফনারা ইতা তামশা বন্ধ খরইন। বিপিন কোনো জিলাপি চুরি করছইন না। জিলাপি চুরি খরছে আমার কইন্যা কমলা। কাকার ঘরে জিলাপি দেইখ্যা পেটের ভুকে মাইয়া আমার লোভ সামলাইতো ফারছে না। লুকাইয়া আইন্যা বিপিনের ঘরে রাখছিল। কমলার বাফ মরার ফর বিপিনই আমরারে তার ঘরো জায়গা দিছে। নাইলে আমরার গাছতলাত থাকল লাগলনে। কমলা জিলাপী লইয়া আওয়ার সময় বিহারিও আইছলা। তাইন তো দেখছইন কমলারে জিলাপি আনতে। তে ওখন বিপিনের উফরে দোষ দেইন খেনে। তান ঘরো ফাইলে কিতা তাইনঅই চোর না কিতা। শাস্তি কমলারে দেইন। আর আমারে দেইন পেটের ফুরিরে দুই দিন দইরা খানি দিতাম ফাররাম না। কিতা এখ অসুখ আইছে। খেউ বাসাত ঢুকতে দেইন্যা। কাম না করলে আমি কমলারে খাওয়াইমু খেমনে। আমারে শাস্তি দেইন আফনারা যেতা মনো খরইন।’
কান্নায় লুটিয়ে পড়ল কমলার মা। পাশে দুই দিনের না খাওয়া জীর্ণ শরীরের কমলা।

]]>
বিশ্বম্ভরপুরে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf-3/ Sun, 25 Jun 2023 03:36:57 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165779 বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
বিশ্বম্ভরপুরে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিশ্বম্ভরপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে ও দুর্নীতি দমন কমিশনের আর্থিক সহায়তায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল, অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির প্রধান কারণ’। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আবু জাফর ওসমানীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার বর্মনের পরিচালনায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মোট ৪টি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ধনপুর হাজী আছমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, কাটাখালী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং রানারআপ হয়েছে ধনপুর আছমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক মো. আবু হানিফ। বিচারক ছিলেন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মোছা. হাবিবা, সদস্য এম এ হান্নান, সদস্য এম এ আবুল কাহার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজু, ধনপুর আছমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইছমাইল হোসেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবু জাফর ওসমানী, সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন, এবং প্রতিরোধ কমিটির সদস্যবৃন্দ, সহ শিক্ষকগণ ও শিক্ষার্থীরা।

]]>
মন্নানঘাটে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%89%e0%a6%a0%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%b0/ Sat, 24 Jun 2023 02:16:35 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165748 জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে জামালগঞ্জের মন্নান ঘাট বাজারে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। পশু কোরবানীর মাধ্যমে আত্মত্যাগ ও আল্লাহকে সন্তুষ্টি করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
এসসময় উপজেলার ভীমখালী বাজার সবচেয়ে বড় পশুর হাট। এখন কয়েক বছর ধরে মন্নান ঘাট বাজারে বড় পশুর হাট হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে। বুধবার ছিল মন্নান ঘাট সাপ্তাহিক পশুর হাট। এদিন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত পরিমানে গরু বাজারে মজুদ রয়েছে। ঈদের আগেও এক সপ্তাহ বাকী থাকলেও পশু বিক্রি হচ্ছে ভালোই। ক্রেতা বিক্রেতার দর কষাকষির মধ্যে সময় পার করছেন। ক্রেতা বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, দাম নিয়ে উভয়েই মোটামুটি খুশী। এবার কোরবানীর হাটে বেশীর ভাগই দেশীয় জাতের গরু। ছোট, বড়, মাঝারী সাইজের গরু উঠেছে হাটে। বিক্রেতারা বলছেন, আমরা গরুকে কোন ধরনের ঔষধ খাওয়াইয়ে মোটা তাজা করিনি। তবে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই বলছেন ঈদের ৩-৪ দিন আগেই মূলত ভালো ভাবে বেচাকেনা শুরু হবে। এবার কোরবানীর পশুর সরবরাহ বেশী থাকায় দাম সহনীয় পর্যায় থাকবে বলে ধারনা করা যায়। স্থানীয়রা গরুকে বিভিন্ন ভাবে সাজিয়ে বাজারে তুললেও দূরের ব্যবসায়ীরা ট্রাক এবং নৌকা যোগে প্রচুর সংখ্যক গরু বাজারে আনছেন। বাজারে বিভিন্ন প্রকারের গরু খাশীও উঠেছে। প্রতিটি হাটে বাজারে নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা। তাই নির্ভয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতারা পশু বেচা কেনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সংবাদপুর গ্রামের খামারী বাদশা মিয়া তিনি বলেন, আমি নিজেই এই গরুর পরিচর্যা করি। শুধু ঘাস আর কোড়া ভুষি খাওয়াই এবং নিয়মিত গোসল করাই। তিনি জানান, আমার খামারের ১৮টি গরু আছে। এখন ১টি বড় গরু ১ লক্ষ আশি হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। তবে আমার খামারের বড় বড় আরওও গরু লাখ টাকার উপরে দাম হয়েছে। কেউ কেউ মূল্য হাঁকছেন তারচেয়ে কম টাকায়। যে দাম বলছে তাতে আমার খরচ থেকে বেশী হচ্ছে না। হাতে আরও সময় আছে কয়েকদিন আরো দেখে তারপর ছাড়বো।
কোরবানীর গরু কিনতে আসা আব্দুস সুবান বলেন, এবছর মন্নানঘাট বাজারে প্রচুর গরু আমদানী হয়েছে। দামও ভালো। তিনি একটি গরু ১লাখ ২৫ হাজার টাকা বলেছেন, এখনও কিনেন নি। তবে আরও ৫ হাজার বেশী দিয়েও এই গরুটিই কিনবেন।
বেরীরপাড় গ্রামের জায়গার মালিক আবুল কাশেম বলেন, এবার পশুর দাম মোটামটি ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। হাটে গরু উঠছে প্রচুর। এ বাজারে গরুর কোন খাজনা নেওয়া হয় না। শুধু জায়গার মালিক গরু প্রতি ১শত টাকা করে নিচ্ছে। কারন বিক্রেতার এবং ক্রেতারা খাজনা না থাকায় এই বাজারে বেশী আসে তারা।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মো. আব্দুন নাসের বলেন, পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক বাজারে তদারকি করছেন। কেউ যেন জাল টাকা দিয়ে প্রতারণা না করতে পারে সেজন্য প্রতিটি বাজারে জাল টাকা সনাক্তকরণ যন্ত্র রয়েছে। যে কোন সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

]]>
মশলার দামে তেজিভাব https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ae%e0%a6%b6%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac/ Fri, 23 Jun 2023 02:11:07 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165694 স্টাফ রিপোর্টার
পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র বাড়ছে সব ধরনের মশলার দাম। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা বাড়ায় মশলা জাতীয় পণোর দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানের প্রত্যেকটি মশলা জাতীয় পণোর দাম বেড়েছে কেজিতে ১০-২০ টাকা করে। এদিকে ক্রেতারা মশলা সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানিকৃত আদা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা থেকে ২৬০ টাকায়। এক মাস আগে এই আদা বিক্রি হয়েছে ১৮০-২০০ টাকা দরে।
১০-২০ টাকা করে বেড়ে এলাচ কেজি প্রতি ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা, জিরা কেজি প্রতি সাড়ে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও দারুচিনি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, লং ১৫শ’ টাকা, গোলমরিচ ৭০০ টাকা, মেথি ১৪০ টাকা, কালোজিরা ৩০০ টাকা, গোয়ামুড়ি ৩২০ টাকা, সাদা শস্য ১৩০ টাকা, লাল শস্য ১২০ টাকা, ধইন্যা ২০০ টাকা, তিসি ১৬০ টাকা, তেজপাতা ১০০ টাকা, হলুদ ৩০০ টাকা, মরিচ ৫০০ টাকা, কিচমিচ ৩০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ী জ্যোতিকা বনিক, আলী আকবর বলেন, মসলা পণ্য বেশি দামে কিনে আনি তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
তবে জগন্নাথ বাড়ি এলাকায় পাইকারি মশলা বিক্রেতা দীপ্ত বনিক বলেন, এখন পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়েনি। অন্য বছর ঈদের আগে যে ভাবে বেচাকেনা হয় এবার তা হচ্ছে না।
জগন্নাথ বাড়ি বাজারে জিরা কিনতে আসা আতাউর রহমান বলেন, প্রত্যেকটি পণ্যেরই দর বেড়েছে। ৮০০ টাকা কেজি দরে ৫০ গ্রাম জিরা ৪০ টাকায় কিনেছি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আলআমিন বলেন, বাজার মনিটরিং আমাদের নিয়মিত কাজ। তারপরও ঈদকে সামনে রেখে বাজারে ব্যবসায়ীরা জিরা সহ পণ্যের দাম বাড়াতে চেষ্টা করবে। সারা দেশেই এমনটা হয়। সুযোগ পেলে দাম বাড়িয়ে দেয়। আমরা বাজার মনিটরিং নিয়মিত করব। যেন কোনো ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে।

]]>
দামে রাজা আলীরাজ https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c/ Thu, 22 Jun 2023 02:19:00 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165630 সোহানুর রহমান সোহান
সাদা-কালো রঙের সুঠাম দেহের অধিকারী আলীরাজ। ঘর থেকে বের হলেই চঞ্চলতা বেড়ে যায়। গাভীর ছোট বাচ্চাদের মতো মনের আনন্দে লাফাতে থাকে। তার এই লাফানো দেখে বোঝার উপায় নেই প্রায় ১ হাজার কেজি বা ২৫ মণ ওজনের বিশাল দেহের ষাঁড় এটি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের খামারি গোলাম আজমের আবিব এগ্রো ফার্মের হলোস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী থেকে ৪ বছর আগে জন্ম হয় আলী রাজের। জন্মের পর থেকে গরুটি এই ফার্মে আছে। গ্রামের নাম আর বেশি আদরের গরু হওয়ায় আলীরাজ নাম রাখা হয়েছে। বাড়ির শিশুদের সাথে খেলা করে করে প্রাকৃতিক ভাবে বড় হয়েছে আলীরাজ। দুষ্টামি, লাফালাফি করলেও মানুষের সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ গরুটির। তার সমবয়সী শিশুরাই এখন তাকে রোজ আদর যতœ করে খাওয়ায়।
গরুর মালিকের ছেলে শিশু তৌহিদুল ইসলাম সাথে কথা হলে সে জানায় সে আর গরুটি একসাথে বড় হয়েছে। তবে গরু আর তার বয়স সমান হলেও তার থেকে গরুটি অনেক বড় হয়ে গেছে। প্রত্যেকদিন এ গরুকে ঘাস, খড় সহ অন্যান্য খাবার খাওয়ায়। সারাদিন গরুর সাথে সময় কাটে তার।
অন্যান্য বিশাল ষাড় গরুদের ওজন বেশি হলে নড়তে-চড়তে অনেক কষ্ট হলেও সম্পূর্ণ ঘরোয়া ভাবে বড় হওয়ায় আলীরাজ স্বাভাবিকভাবেই চলা ফেরা করে। মায়ের সাথে দেশি গরুর মতো লালন পালন হওয়ায় চঞ্চলতা একটু বেশি দেখায় সে। বেশি চঞ্চল স্বভাবের হওয়ায় তাকে সামলাতে দু-তিন জন মানুষ লাগে। গোয়ালের অন্যান্য গরুদের সাথেই থাকে, লাগে না আলাদা কোন কক্ষ বা বাড়তি কোন যতœ। খামারি আকরামের নিজের জায়গায় উৎপাদন করা ঘাস, ভূষি, খৈল ও চাউলের গুড়া গরুটির খাবার। নিজের বাচ্চার মতো যতœ করে বড় করা আলীরাজ উচ্চতায় ৫ ফুট এবং লম্বায় ৮ ফুট। গরুটির সৌন্দর্য ও বিশালতার ফলে টানা তিন বার প্রাণী প্রদর্শনী মেলায় প্রথম স্থানের পুরস্কার পেয়েছে বলে দাবি মালিকের। গরুর মালিক আজম এবারের ঈদুল আজহায় ৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে চান আলীরাজকে। গরুটি দেখতে তার বাড়িতে আসছেন মানুষজন। এমন গরু গ্রামে থাকাও সুনামের বিষয় বলে জানান গ্রামের মানুষ।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ আফতাব আলী বলেন, আমার চোখের সামনেই গরুটি ছোট থেকে বড় হয়েছে। অনেক পরিশ্রম করে আলীরাজকে বড় করেছে তার মালিক। এমন গরু আমাদের উপজেলায় আর নেই। বড় গরু পালনে খামারিদের উৎসাহিত করতে নায্য মূল্য দিয়ে বিত্তবানদের গরুটিকে ক্রয় করার আহবান জানাচ্ছি।
মনির হোসেন বলেন, আমার বাড়ি ফার্মের পাশেই। ৪ বছর আগে আমার হাতে এই বাছুরটির জন্ম হয়। তারপর ধীরে ধীরে আজ এতো বড় হয়েছে। মায়ার টানে প্রত্যেক দিন এসে দেখে যাই। তাকে খাওয়াই, খাওয়াতে ভালো লাগে।
পৌর শহরের বড়পাড়া থেকে গরু দেখতে আসা মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, বিশাল দেহের গরুর খবর শুনে আলী রাজকে দেখতে এসেছি। যেখানে বড় গরুর খবর শুনি আমি ছুটে যাই। আমি গরু প্রিয় মানুষ। এই গরুকে দেখেও অনেক ভালো লাগেছে। অনেক বড় গরু এটা।
আবিব এগ্রো ফার্মে আলীরাজ ছাড়াও ৯ টি গরু, ৫ কেয়ার আয়তনের ২টি পুকুর ও হাঁসের খামার আছে আছে। আবিব এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী গোলাম আজম বলেন, নিজের হাতে উৎপাদনকৃত ঘাস, গুড়া, খৈল, কলা সহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুকে বড় করেছি। এবার ঈদ আসছে, ৭ লক্ষ টাকায় এবারের ঈদে বিক্রি করতে চাই আলীরাজকে। বাড়িতে এসে নিলে কিছুটা ছাড় দেয়া হবে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আ.জ.ম সালাহ উদ্দীন বলেন, আলীপুরের গরুটি সম্পূর্ণ দেশীয় ভাবে বড় করা হয়েছে। এর ওজন এক হাজার কেজির কাছাকাছি হবে। গরুটি সার্বক্ষণিক আমাদের তত্বাবধানে ছিল। গরু মোটাতাজা করণের জন্য কোন ঔষধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। এরকম আরও কয়েকটি গরু আছে উপজেলায়।

]]>
সাংবাদিক নাদিমের খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0/ Wed, 21 Jun 2023 01:22:53 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165543 স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুরের সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই মানববন্ধন হয়।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অ্যাড. এনাম আহমদ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার খলিল রহমান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম মহিম, দৈনিক সময়ের আলো’র জেলা প্রতিনিধি অ্যাড. আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক নওশাদ মসরু ও আকরাম উদ্দিন, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, চ্যানেল২৪’এর স্টাফ রিপোর্টার এ আর জুয়েল, গণমাধ্যম কর্মী রাজু আহমেদ, ডিবিসি’র জেলা প্রতিনিধি সাঈদুর রহমান আসাদ, ঢাকা পোস্ট’র জেলা প্রতিনিধি সোহানুর রহমান, সাংবাদিক কামরান আহমদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন নাদিম। এরপরও তাকে মরতে হয়েছে। এই হত্যাকা- সমসাময়িককালে ঘটিত সকল হত্যাকা-ের চেয়েও ঘৃণার। এরসঙ্গে জড়িত ইউপি মাহমুদুল আলম বাবুসহ সকল খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন বক্তারা।

]]>
বিভিন্ন উপজেলায় ফুটবল টুর্নামেন্ট https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%ac%e0%a6%b2-%e0%a6%9f%e0%a7%81/ Tue, 20 Jun 2023 03:03:57 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165467 সু.খবর রিপোর্ট
বিশ্বম্ভরপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল টুর্নামেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফতেপুর ইউনিয়ন একাদশ। সোমবার বিকালে সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ফাইনালে মুখোমুখি হয় বাদাঘাট (দ.) ইউনিয়ন ও ফতেপুর ইউনিয়ন। নির্ধারিত সময়ে খেলা ড্র হয়। পরে ট্রাইবেকারে ফতেপুর ইউনিয়ন একাদশ বিজয়ী হয়।
টুর্নামেন্টের আহবায়ক উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমানের তত্বাবধানে খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ। খেলা পরিচালনা করেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ মিয়া, ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম। ধারাভাষ্যকার ছিলেন মো. তারেক।
উত্তর বড়দল বিজয়ী
তাহিরপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের আয়োজিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বনাম দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম রাউন্ডে উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিজয়ী হয়েছে। সোমবার বিকালে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির তাহিরপুর উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আলখাছ উদ্দিন খন্দকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপত্বি আবুল হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক ও ক্রীড়া সংস্কার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমদ মোরাদ, উত্তর বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া, উত্তর বড়দল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, বাদাঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, উপজেলা যুব মহিলালীগ সভাপতি আইরিন আক্তার, বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সেলিম হায়দার, জেলা ছাত্রলীগ সহ সভাপতি আশ্রাফুল ইসলাম রাহাত প্রমুখ।
মধ্যনগরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের উদ্বোধন
সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা) ২৩টি ইউনিয়নের অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। বংশীকুন্ডা মমিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সোমবার বিকেলে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। টুর্নামেন্ট বাস্তবায়ন ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল আহমদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সুরঞ্জন সরকারের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শীতেষ চন্দ্র সরকার, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম, মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুল হক, মধ্যনগর উপজেলা টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জীব তালুকদার টিটু, মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শামীউল কিবরিয়া প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুকন, ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর খসরু, ইউপি চেয়ারম্যান নুরনবী তালুকদার,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোবারক হোসেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ,উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কান্তি সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল কিবরিয়া তালুকদার, অমরেশ চৌধুরী, কুতুব উদ্দিন, যুবলীগ নেতা ওবায়দুল ইসলাম খান, কামাল হোসেন, সারোয়ার আলম প্রমুখ।
উদ্বোধনী খেলায় বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন দল ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন দল অংশগ্রহণ করে। নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে সমতা ছিল। পরবর্তীতে ট্রাইব্রেকারে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন দল বিজয়ী হয়।

]]>
সুনামগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিদর্শনে ফাউন্ডেশনের পরিচালক https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9f/ Mon, 19 Jun 2023 01:35:32 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165416 স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ এডমিনিস্ট্রেশন এন্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন, ঢাকা এর পরিচালক (শিক্ষা) মুহম্মদ হিরুজ্জামান (এনডিসি)। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন পরিচালিত বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিদর্শন করেন তিনি।
জেলার একমাত্র ইংলিশ ভার্সন স্কুল পরিদর্শন শেষে স্কুলের সার্বিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (শিক্ষা) এর সহধর্মিনী আক্তার জাহান, স্কুলের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হাসান, সহকারী শিক্ষক নাজিরা জাহান চৌধুরী, দিপায়ন চৌধুরী, রুমা চক্রবর্তী, ফারজানা আক্তার, নিটু রানী দাস, আমিনা খাতুন, স্নিগ্ধা রায়, অভিজিৎ রায়, রাকিব হাসান, আব্দুর রাজ্জাক, হোসনে জাকিয়া সুলতানা, ফার্সিয়া বিনতে আলম প্রমুখ।

]]>
ছাতকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a7%8c%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b7/ Sat, 17 Jun 2023 04:15:41 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165332 ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দু’টি পর্বে অনুষ্ঠিত হয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ছাতক উপজেলা ও পৌর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা শাখার সভাপতি প্রাক্তন অধ্যাপক হরিদাস রায়ের সভাপতিত্বে ও যুব নেতা কালিদাস পোদ্দারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি দীপক চন্দ্র ঘোষ।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এড. বিশ্বজিৎ চক্রবর্ত্তী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিমল বনিক, পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এড. গৌরাঙ্গপদ দাস, পূজা উদযাপন পরিষদ ছাতক শাখার সভাপতি এড. পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার দাস, পূজা উদযাপন পরিষদ ছাতক পৌর শাখার সভাপতি মহন্ত কুমার রায়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, পূজা উদযাপন পরিষদ ছাতক উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবুল পাল। আরো বক্তব্য রাখেন, ছাতক রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক বাবুল রায়, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃপেশ চন্দ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি দীপক চন্দ্র ঘোষ। সভায় কন্ঠ ভোটে পূজা উদযাপন পরিষদ উপজেলা শাখার সভাপতি পদে প্রাক্তন অধ্যাপক হরিদাস রায় ও সাধারণ সম্পাদক পদে ব্যবসায়ী অরুণ দাস এবং পৌর শাখার সভাপতি পদে কালিদাস পোদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দাস নির্বাচিত হন। সভার শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠ করেন প্রনব চক্রবর্ত্তী।

]]>
ধর্মপাশায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ্ব- ১৭’র ফাইনাল https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97/ Fri, 16 Jun 2023 09:03:31 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165293 ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ্ব- ১৭ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে উক্ত খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ বনাম মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ অংশগ্রহণ করে। মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ জয় লাভ করে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার আপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র সরকার। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অলিদুজ্জামান, ধর্মপাশা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন, ধর্মপাশা সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুবায়ের পাশা হিমু, পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল, সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা, মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার, চামরদানী ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর খসরু, বংশীকুন্ডা উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান নুর নবী হাসান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল কবির, পল্লীজীবিকায়ন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম সোহাগ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহ আব্দুল বারেক ছোটন, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম পলাশ, সাংবাদিক সাজিদুল হক, এনামুল হক এনি, শহীদুল ইসলাম শাহীন, হাফিজুল হক, মহি উদ্দিন আরিফ প্রমুখ।

]]>