Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146
Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146
Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146
Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php:146) in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-includes/feed-rss2.php on line 8 সম্পাদকীয় – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক
https://archive.sunamganjerkhobor.com
Sun, 25 Jun 2023 16:13:06 +0000en-US
hourly
1 https://wordpress.org/?v=6.0.14দরিদ্রের ভাগে লোভের হাত
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a4/
Sun, 25 Jun 2023 16:13:01 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165810শনিবারের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর জানাচ্ছে ভিজিএফ চাল নিয়ে চালিয়াতির এক সংবাদ। প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে জেলার দোয়ারাাবাজার উপজেলার নরসিংহপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ’র বরাদ্দকৃত ১০ টন চালের মধ্যে অকুস্থলে প্রথম দফায় দেড় টন চাল কম নেয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় দেড় টন চাল নিয়ে চালিয়াতি করা সম্ভব হয়নি। পরদিন বাকি চাল ইউনিয়ন পরিষদে গেছে। এর আগের দিন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের এক সংবাদ থেকে জানা যায়, মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগী দুই নারীর সাত মাসের বরাদ্দের চাল আত্মসাতের ঘটনা প্রশাসনিক তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। উপরের দু’টি ঘটনাই সরকারের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খয়রাতি সহায়তা নিয়ে নয়-ছয় করার অমানবিক তৎপরতা এবং এর চাইতেও দুঃখজনক বিষয় হলো উভয় ঘটনায় দুই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নাম সামনে চলে এসেছে। বলাবাহুল্য বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এবম্প্রকার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কান পাতলে হরহামেশাই এরকম ছোট-বড় বহু কথা শোনা যায়। বলা নিষ্প্রয়োজন যে, এই ধরনের কর্মকা-ের কারণে আমাদের দেশে জনপ্রতিনিধিদের যে সুউচ্চ ভাবমূর্তি থাকার কথা ছিলো তা নেই বরং অনেক জনপ্রতিনিধিকে বাঁকা চোখে দেখার একটি সামাজিক সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেছে। প্রবাদবাক্যের যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ কথাটির উপযুক্ত উপমা হয়ে গেছে জনপ্রতিনিধিত্বের জায়গাটি। কোনো গণতান্ত্রিক সভ্য সমাজে এমন অবস্থা ওই সমাজের দেওলিয়াত্ব ও মানুষের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে। যেকোনো পর্যায়ের নির্বাচনে জিতে আসতে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিদের খরচের বহর দেখে বুঝার উপায় নেই তাঁরা জনসেবার জন্য মাঠে নেমেছেন নাকি উন্মুক্ত নিলাম ডাকের মাধ্যমে নতুন কোনো ব্যবসায় করায়ত্ত করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এই পয়সা খরচ করার পিছনে আরও বেশি পয়সা কামনোর ধান্দা কাজ করে এবং এটি এখন অতিশয় লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে বললে অত্যুক্তি করা হবে না। এর বিপরীতে সাধারণ মানুষ দুর্ভাগ্যের সম্মুখীন হন এইসব তথাকথিত জনপ্রতিনিধিদের কারণে। সরকার যে বরাদ্দ দেন তার কিয়দংশ গিয়েও জুটে না প্রকৃত জায়গায়। শুধু খয়রাতি সাহায্য নয়, যেকোনো উন্নয়ন কাজ নিয়েই একই দৃশ্য। বরাদ্দের কত অংশ সঠিক কাজে ব্যয় হয় আর কত অংশ পেেকটে ঢুকে তা এখন রীতিমতো গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাদা চোখেও বেশ বুঝা যায়। আর সেটি বুঝতে নির্বাচিতদের সম্পদের পরিমাণ বাড়ার খতিয়ান থেকেও বেশ অনুধাবনযোগ্য। এরকম একটি অবস্থা দেখার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা এই দেশ স্বাধীন করেননি। যেসব মহান উদ্দেশ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে তাঁরা জীবন বাজি রেখে সশস্ত্র লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছিলেন তার ছিটেফোঁটাও এখন কোথাও দেখা মিলে না। সর্বত্র অনৈতিকতা, লোভ ও অনিয়মের পাহাড়। এই জায়গা থেকে উত্তরণের কোনো লক্ষণও দৃশ্যমান নয়। সবকিছু ঠিক রাখতে সিস্টেমের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সিস্টেমের অন্যতম অনুসরণীয় বিষয় হলোÑ অন্যায় করলে অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটি করা গেলে অন্যায় কর্ম নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে সিস্টেমের শরিরে এতোটাই শ্যাওলা জমেছে যে, এখানে আদতে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তেমন দেখা যায় না। বরং এই সিস্টেমকে অনেকেই অন্যায় তোষণকারি হিসাবে আখ্যায়িত করেন। ধর্মপাশার যে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে তাকে আড়াল করতে তদন্ত প্রতিবেদনটিই দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখার চেষ্টা ছিল। এর একটাই অর্থ তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনকারীরা চাননি অপকর্মকারী জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। এই যখন অবস্থা তখন সিস্টেমের কার্যকারিতা বুঝতে কারও বাকি থাকে না। একটি স্বাধীন দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খয়রাতি সহায়তা নিয়ে এমন বিবেকবর্জিত গর্হিত কর্মকা-ের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করি।
]]>বন্ধ হোক এই আত্মঘাতী নিষ্ক্রমণ
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%95-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%86%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d/
Sun, 25 Jun 2023 02:10:07 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165756অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার জন্য পাগলপারা নেশায় আশক্ত যুবকদের জীবন খোয়ানোর বেদনাদায়ক অধ্যায়ের ইতি ঘটছেই না বরং বেড়ে চলেছে। শনিবারের দৈনিক সমকাল জানচ্ছে, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে নরসিংদী জেলার ১৩ যুবকসহ ২৮ বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছেন। এরমধ্যে আব্দুল নবী নামের এক যুবকের মরদেহের সন্ধান মিলেছে। এই যুবকরা দেশ ছেড়েছিলেন নিজের ভাগ্য বদলানো ও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরানোর উদ্দেশ্য নিয়ে। সংশ্লিষ্ট যুবকদের পবিরার সর্বস্ব বিক্রি করে এদের জীবনের নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছিলেন। এখন এরাই সবচাইতে গভীর অনিশ্চয়তা পড়ে গেছেন। কী নিদারুণ দুর্ভাগ্য। এরকম ঘটনা আখছারই ঘটতে শোনা যায়। সুনামগঞ্জের অনেক তরুণের এমন দুর্ভাগ্যের খবর মাঝেমধ্যেই প্রকাশ হতে দেখা যায়। এরকম খবরের পর আমরা সম্পাদকীয় মন্তব্য স্তম্ভে এই সর্বনাশা পথ থেকে সরে আসার জন্য আহ্বান জানই। কিন্তু সবই অরণ্যে রোদন হয় মাত্র। দেশে জীবিকার কোনো সুনিশ্চিত ব্যবস্থার সন্ধান না পেয়ে এরা নিজের জীবন নিয়ে জুয়া ধরে। যে জিতে সে হয়তো পৌঁছে যায় কাক্সিক্ষত গন্তব্যে। অবশিষ্টরা জীবন দিয়ে জীবনের দায় শোধ করে। দেশে এখন সক্ষম তরুণ তরুণীর সংখ্যা বেশি। একে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলে আমরা আখ্যায়িত করি। কিন্তু এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দেশের ভিতর উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আমরা করে দিতে পারিনি। তাই এই তরুণ জনগোষ্ঠী দলে দলে বিদেশ পাড়ি দিতে চায়। বৈধ অবৈধ পন্থা কোনো কিছুর ধার ধারছে না আগুণে ঝাঁপ দেয়ার জন্য তৈরি এই জনগোষ্ঠী। এই সুযোগে দেশের ভিতর গড়ে উঠেছে বিশাল এক মানবপাচারচক্র। এরা প্রলোভিত করে লোকজনকে। নিশ্চয়তার আশ^াস দেয়। স্বপ্ন দেখায় রঙিন ভবিষ্যতের। এই প্রলোভনে দিগ্ভ্রান্ত হয় সকলে। যখন বিদেশ গিয়ে প্রতারণার শিকার হয় তখন ওই মানবপাচারচক্র থাকে বেশ ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায়। এদের হাত অনেক লম্বা। এদের গিঁট খোলার সাধ্য কারও নেই। ফলে এই প্রতারণার রাজত্ব বন্ধ হয় না। কেউ মারা পড়লে, সাগরে সলিল সমাধি ঘটলে কিংবা অন্যভাবে প্রতারিত হলে ভুক্তভোগীর পরিবার ভিন্ন আর কোথাও এই দুর্ঘটনাগুলো আলোড়ন তুলতে পারে না। যে দালালচক্র এদের জীবনের সর্বনাশ ঘটিয়েছে তাদের শায়েস্তা করতে অনিচ্ছুক থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এরা বেপরোয়া, অপ্রতিরোধ্য এবং সাংঘাতিকভাবে বিরাজমান থাকে। সকলের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। এরকম অনিশ্চিত পথে কেউ সন্তানদের বিদেশ পাঠাবেন না। বিদেশ যাওয়ার বহু বৈধ পথ আছে। সেই পথগুলো অনুসরণ করুন। অযথা দালালদের মিষ্টি কথায় ভুলে সন্তানের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবেন না। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রাগুলোই আমাদের রিজার্ভের মূল উৎস। এই উৎসকে যতœ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশের ভিতর যে কুচক্রী বেনিয়াগোষ্ঠী প্রতারণার জাল বিছিয়ে রয়েছে দয়া করে তাদের সমূলে উৎপাটন করুন, সাজা দিন। তাহলে নিরীহ মানুষ অগ্নিকু-ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচে। বিদেশ গিয়ে জীবন হারানো পরিবারগুলোর আজীবনের কষ্ট-দুঃখ-বেদনাকে অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। দেশের ভিতর কারা মানব পাচার চক্রের মাথা তার ঠিকুজি রাষ্ট্রের অজানা থাকার কথা নয়। রাষ্ট্রের হাতের চাইতে লম্বা হাত আর কোনো কিছুর হতে পারে না, হতে নেই। হলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হুমকিগ্রস্ত হয়। আমরা কি সেরকম অস্তিত্বসংকটে থাকা রাষ্ট্রিয় কাঠামোর মধ্যে আছি? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা ভীষণ জরুরি। কারণ সকল ক্ষেত্রে এখন যেরকম অনিয়মের রাজত্ব চলছে তখন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব খোঁজার প্রয়াস করা জরুরি বৈকি। সর্বশেষে একটাই কামনা, সাগরে পড়ে মারা যাওয়ার হারিয়ে যাওয়ার এই আত্মঘাতী নিষ্ক্রমণ বন্ধ হোক।
]]>বন্যা ভীতি ও বিরূপ প্রকৃতি
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%82%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4/
Wed, 21 Jun 2023 00:56:45 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165519গুমরোমুখো আষাঢ়ের ক্রন্দন থামছেই না। সেই যে জ্যৈষ্ঠের শেষে শুরু হয়েছিলো অঝোর ক্রন্দন তা এখনও অব্যাহত আছে। কবে থামবে কেউ জানি না। গতবছরের ভয়াল বন্য সুনামগঞ্জের মানুষের মনোজগতে যে ভয় ঢুকিয়ে গিয়েছিলো সেই ট্রমা থেকে এখনও কেউ বেরিয়ে আসতে পারেনি। ফলে এই টানা বর্ষণের কারণে মানুষ শঙ্কা নিয়ে দিন পার করছে। এবার বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রত্যাশিত বৃষ্টি হয়নি। ফলে হাওরগুলো থেকে গিয়েছিলো শুকনো। ফলে চলমান অতি বৃষ্টিপাতের পানি নেমে যাওয়ার জায়গা পেয়ে যাচ্ছে বলে জনপদগুলোতে এখনও বন্যার থাবা মেলতে পারেনি। বিভিন্ন হাওরে এখনও অনেক জায়গা রয়েছে পানি ধারণ করার। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায়, শাল্লার ছায়ার হাওরে বেশ কয়েকটি বাঁধ কেটে দেয়া হয়েছে পানি নামার জন্য। এরকম অবস্থা আরও কিছু হাওরের। এবারের বিলম্বিত বর্ষা হাওরের প্রাণ-প্রকৃতির জন্য নেতিবাচক। মাছ বংশ বিস্তার তথা পোনা ছাড়ার জন্য এবার যথেষ্ট সময় পায়নি হাওরে পানি না থাকায়। ফলে এবার মাছের উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অকাল ও বিলম্বিত বন্যা বা বর্ষা উভয়েই আমাদের প্রকৃতি পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রতিক্রিয়া সেটি আমরা হাওরবাসী সরাসরি টের পাচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে রয়েছে মনুষ্যসৃষ্ট প্রকৃতি বিধ্বংসী তৎপরতা। এই যে, নদীতে প্রচুর পানি কিন্তু হাওর শুকনো এর পিছনেও আমাদের অপরিনামদর্শী কর্মকা-ের সম্পর্ক রয়েছে। হাওরগুলোতে ফসলরক্ষা বাঁধ দেয়ার নামে এখন যেভাবে মাটির পাহাড় বানিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে তাতে নষ্ট হয় পড়েছে হাওরের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। হাওরে নির্মিত এইসব ফসলরক্ষা বাঁধ অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের বিরুদ্ধে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বারবার। বর্ষা আছে কি নেই এই বিতর্কের পিছনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে চলেছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও প্রকৃতি ধ্বংসকারী কর্মকা- তার বিরুদ্ধে সরব হওয়া উচিৎ সকলের। বন্যা মানে মানুষের জীবনে বিপর্যয় তৈরি করার মতো পানির আগ্রাসন। সেটি পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতার অভাবে অল্প বর্ষায়ও হতে পারে। যেমন সুনামগঞ্জ শহরের বেশ কিছু এলাকা অল্প বৃষ্টিপাতেই জলাবদ্ধতার শিকার হযে যায়। বর্ষা, বন্যা ছাড়াও এই উপদ্রব মানুষের জীবনকে অতীষ্ট করে তোলতে সক্ষম। এই হাওর নিজের বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাবনা নিয়ে টিকে থাকতে পারবে কিনা তাই এখন বড় প্রশ্ন। হাওরের যে সম্ভাবনা তার কিয়দংশও ব্যবহৃত হয়নি। বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে হাওরের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বহু সুযোগ রয়েছে। এজন্য চাই হাওরের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে অক্ষুণœ রাখা। এ লক্ষে সকল সচেতন মহলের কণ্ঠ উচ্চকিত হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ ভূখ-টি প্রকৃতির আশীর্বাদ স্বরূপ অনেক প্রাচুর্য নিয়ে গড়ে উঠেছে। আমরা এই প্রকৃতির উপহারকে রক্ষা করতে পারছি না। বাইরের পরামর্শে হাজার বছরের লোক-অভিজ্ঞতাকে অবজ্ঞা করে চলেছি। খামারের মাছকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছি দেশীয় মাছের বিপুল ঐশ্বর্যকে। ধানবীজ থেকে আমাদের কৃষকরা হয়ে গেছেন অধিকার হারা। কৃষিক্ষেত্র চলে গেছে সর্বতোভাবে কর্পোরেট পুুঁজির মুনাফালোভী বিশাল মুখের ভিতরে। উৎপাদিত কৃষিসামগ্রীও এখন কর্পোরেট বাণিজ্য উপকরণ। ফলে কৃষক যে জিনিসের ন্যায্যমূল্য পায় না সেই জিনিসই ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে গলাকাটা দামে। কৃষির এই লুপ্ত স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাও সময়ের অন্যতম দাবি হওয়া উচিৎ। মানুষের বন্যাতঙ্কের পিছনে কাজ করছে গতবারের ভয়াল স্মৃতি। এই মানসিক ভীতি দূর করা কঠিন। কঠিন এ কারণেই যে মানুষ প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় দেখছে না কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা বদলে দেয়ার প্রচেষ্টা। সুতরাং কথার ফুলঝুরি দিয়ে এই ভয় তাড়ানোর পরিবর্তে দরকার ব্যাপক প্রকৃতিবান্ধব কর্মযজ্ঞ।
]]>বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ধসে দুর্ঘটনা অনভিপ্রেত
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%9f-%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%a7%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81/
Tue, 20 Jun 2023 03:05:47 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165470তাহিরপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে ছয় ছাত্রী আহত হওয়ার মতো একটি অনভিপ্রেত ও ভীতিকর সংবাদ পাওয়া গেছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, রবিবার ওই বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকের ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষায় বসা নবম ও দশম শ্রেণির ৬ ছাত্রী আহত হয়েছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভবনটি ৩০ বছরের পুরনো ছিলো। উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক আহত ছাত্রীদের অবস্থা গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার তথ্য দিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পুরনো জরাজীর্ণ ভবনে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন। এই দুর্ঘটনার সংবাদ দেখে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উদ্রেক হয়। একটি পাকা ভবন যেটি কর্তৃপক্ষের দাবি মতে ত্রিশ বছর আগে নির্মিত হয়েছিলো, সেই ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার মতো অবস্থায় যাবে কেন? বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তো নিয়মিত ভবনগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা। এছাড়া ছাদ নিয়মিত পরিস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে রাখা হলে মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার কথা নয়। অবশ্য সরকারি কাজ আর ব্যক্তিগত কাজের মধ্যে মানের অনেক ফারাক থাকে বলে আমরা জানি। এই দুর্ঘটনাটি হয়তো সামান্যের উপর দিয়ে গেছে। এটি তো আরও গুরুতর হতে পারত। সংবাদের সাথে প্রকাশিত ছবি থেকে বুঝা যায়, ভবনের অনেক জায়গায় কংক্রিটের আস্তরণ সরে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ছাদ ড্যাম্প হয়ে গিয়েছিলো। এরকম অবস্থা একদিনে হয়নি। ভবনের নির্মাণ কাজের মান খারাপ ছিলো বলেই এই অবস্থা হয়েছে। শুরুতেই ব্যবস্থা নেয়া হলে দুর্ঘটনা ঘটার বাস্তবতা দেখতে হত না। যে ভবনে প্রতিদিন কয়েক শ’ ছাত্রী ক্লাশ করেন সেই ভবনের ঝুঁকি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখা উচিৎ ছিলো। যেমন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদাসীন ছিলেন তেমনি নিয়ন্ত্রণকারী দপ্তরগুলোও দায়িত্বশীলতার পরিচয় রাখতে পারেননি। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে ক্লাস পরিচালনা না করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধা হ্রাস পাবে যা শিক্ষা কার্যক্রমকে বিঘিœত করবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি উপজেলার একটি প্রধান নারী শিক্ষায়তন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার নারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণের যে সুযোগ পেয়েছেন তার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই নারী শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটিকে সক্ষম রাখা সকলের দায়িত্ব। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এখনও বহু জরাজীর্ণ ভবনে এরকমভাবে ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে যেমন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অত্যধিক ঝুঁকিতে থাকেন তেমনি তাদের অভিভাবকরা সবসময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন। এরকম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। কাজের মান যাতে সর্বাবস্থায় উত্তম হয় সে চেষ্টা থাকাও বাঞ্ছনীয়। নির্মাণের বিশ/ত্রিশ বছরের ভিতরই যদি ভবনের মূল কাঠামো নষ্ট হতে থাকে তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যথাযথ মান বজায় রেখে নির্মাণ কাজ করা হয়নি। সরকারি কাজে এই ধরনের অতি মুনাফাবাজি ঠিকাদারি প্রথার অবসান ঘটা কাম্য। এই জায়গায় তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। নির্মিত ভবনের একটি স্থায়িত্বকাল নির্ধারিত থাকে। এর আগে ক্ষয়ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারককারীদের জবাবদিহি করার সংস্কৃতি চালু হওয়া কাম্য। নতুবা এইভাবে ভবনের ছাদ ধসে পড়বে, দেয়াল ভেঙে পড়বে, দরোজা-জানালা খুলে খুলে পড়বে আর সবচাইতে বিপন্ন অবস্থা তৈরি হবে ভবনের নীচে যাদের থাকতে হয় তাদের। মুনাফার চাইতেও যে মানুষের জীবন অমূল্য সেই মানবিকতা বোধের জাগরণ দরকার।
]]>বজ্রপাতে মৃত্যু/ জলবায়ু তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%81-%e0%a6%a4/
Mon, 19 Jun 2023 01:23:26 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165400বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের কারণে প্রতিবছর বহু প্রান্তিক মানুষের মৃত্যু ঘটে এই দেশে। প্রাণহানির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাওরাঞ্চলের গরিব জেলে, কৃষক ও পথচারী। প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে এক ভূমিকম্প ছাড়া এখন সবচাইতে বেশি প্রাণঘাতী এই বজ্রপাত। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদ্ধতির উদ্ভাবন সম্ভব হয়নি। বন্যা, ঘুর্ণিঝড় প্রভৃতির আগাম সংকেত পাওয়ায় এখন বহু লোকের প্রাণ ও সম্পদ বাঁচানো সম্ভব হয়। কিন্তু বজ্রপাত শুরু হয় যখন তখন। অবশ্য মেঘলা আকাশ দেখলে বাইরে না বেরোলে এই বিপদ থেকে বাঁচা যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, বজ্রপাতের ঝুঁকিবহুল সময় টানা তিন মাসেরও বেশি হওয়ার কারণে বাইরে না বেরোনোর এই সতর্কতা ব্যবস্থাটি বাস্তবে প্রয়োগ ঘটানো খুব কঠিন। কারণ গরিব জেলে-কৃষকদের পেটের তাগিদে বাইরে বেরোতেই হবে। দেখা যায়, বজ্রপাতে মৃত্যুর প্রায় সবগুলোতেই মারা যান এইসব গরিব মানুষ জন। তাল গাছ লাগানো, বজ্রনিরোধক টাওয়ার ও দ- স্থাপন, হাওরে ছাউনি নির্মাণ; এ ধরনের বেশ কিছু কর্মসূচি সরকার গ্রহণ করেছিলেন বজ্রপাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে। তালগাছ রোপন প্রকল্পে বহু টাকা খরচ করার পর সরকারের মনে হয়েছে এই প্রকল্প দিয়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। একদিকে রোপিত তালগাছ যতেœর অভাবে মারা পড়ে, অন্যদিকে তালগাছ বড় হয়ে বজ্রপাত রোধী হতে সময় লাগে অন্তত ত্রিশ বছর। হাওরে কিছু বজ্রনিরোধক দ- ও ছাউনি স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নেহায়েৎই অপ্রতুল। ফলে শ্রমজীবী-জেলে-কৃষকদের হাওরে পায় বিনা প্রতিরোধেই কাজ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে আড়াই শ’র বেশি মানুষ বজ্রপাতে মারা যায়। বৈষ্ণিক জলবায়ুর পরিবর্তন বিশেষ করে উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বজ্রপাতের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের যে ঝুঁকি তা মোকাবিলার সাথে বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা বৈষ্ণিক জলবায়ু তহবিল থেকে যে অর্থ পাই তা কীভাবে খরচ হয় তা জানি না। এই তহবিল নিয়ে রয়েছে বিশাল প্রশ্ন। যেসব প্রতিষ্ঠান এই তহবিলের হিস্যা পায় তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কোনো ধারণা নেই। জলবায়ু তহবিল দিয়ে জলবায়ুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুু পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ব্যয় নিয়েও প্রচুর বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। দুঃখজনক হলো, বজ্রপাতে যে প্রান্তিক পরিবারের মানুষগুলো মারা যায়, ওই জলবায়ু তহবিল থেকে তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় না। অথচ ওই মানুষগুলোই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতের প্রধান শিকার এবং ন্যায্যত ওই তহবিলের প্রধান হকদারও তাঁরা। যারা মারা যান তারা নিজেদের পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বজ্রপাতে প্রাণ হারানোর মধ্য দিয়ে ওই পরিবারটিও অকূল দুঃখের সাগরে ভেসে যায়। পরিবেশ ও জলবায়ু সহ মানবাধিকার নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করেন এবং বড় অংকের তহবিলের অধিকারী হন তাদের কাউকে এই ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি উঠাতে দেখা যায় না। এটি প্রচলিত আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার নিষ্ঠুরতার নির্দেশক। একজন মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই যে পরিবেশে আমরা এখন সেই ধরনের দুঃসহ পরিবেশে বসবাস করছি। এর পরিবর্তন হওয়া কাম্য। শনিবার বজ্রপাতে জেলার বিশ্বম্ভরপুরে ২ বালু শ্রমিক ও দিরাইয়ে এক জেলের মুত্যু হয়েছে। এই মৌসুমে একাধিক বজ্রপাতের ঘটনায় আরও বেশ কয়েক জনের প্রাণ হানি ঘটেছে। প্রতি বছরই এরকম অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু ঘটনা আমরা অসহায়ভাবে প্রত্যক্ষ করি। কোনো প্রণোদনা দিয়ে মৃত্যুর প্রতিদান দেয়া সম্ভব নয়। তবে মৃতের জীবিত পরিবারবর্গের জন্য কিছু করাটা হলো প্রকৃত মানবধর্ম। তাই প্রতিটি মৃত্যুর জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে সংশ্লিষ্টদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আমরা দাবি জানাই।
]]>ধন্য সাহসী মেয়ে
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%a7%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%b8%e0%a7%80-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a7%87/
Sun, 18 Jun 2023 03:26:09 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165384বাল্যবিয়ে আমাদের সমাজ জীবনের এক ভয়ানক ব্যাধি। কন্যা সন্তান হলেই সাবালকত্ব অর্জনের আগে তার বিয়ে দিয়ে দিতে পাগল হয়ে যান অভিভাবকরা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই প্রবণতা অনেক বেশি। সরকার আইন করে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছেন। অর্থাৎ এর কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে বাল্যবিয়ে হিসাবে বিবেচিত হবে যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু সরকার আইন করলেও গোপনে এরকম বাল্যবিয়ে হরহামেশাই হয়ে চলেছে। মাঝেমধ্যে কিছু অগ্রগামী মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তির উদ্যোগে এরকম বিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। তবে তার পরিমাণ খুবই কম। অনেক সময় প্রশাসনিক উদ্যোগের ফলে বিয়ে ভেঙে গেলেও অল্পদিনের ব্যবধানে ওই বিয়েটি আবার হয়ে যায়। সমাজ গ্রহণ না করলে আইন দিয়ে যে কোনো প্রথা বন্ধ করা যায় না আমাদের সমাজে অবাধে বাল্যবিয়ের ঘটনা এর প্রমাণ। অসচেতন সমাজ-মানসকে পরিবর্তন ভিন্ন এর অন্য কোনো সহজ পথ খোলা নেই। এরকম এক প্রেক্ষাপটে আলোর ঝলকানির মতো একটি খবর দেখা গেল গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে। এক সাহসী বালিকা নিজেই নিজের বিয়ে আটকে দেয়ার মতো এক কা- ঘটিয়ে বসেছে। নবম শ্রেণির ওই ছাত্রিটি তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের অধিবাসী। তার বিয়ে ঠিক ছিলো শুক্রবার। এই অবস্থায় সে সমাজসেবা অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বর ১০৯৮ এ কল করে এই বিয়ে আটকানোর অনুরোধ জানায়। কলসেন্টার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাহিরপুর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এরপর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে মেয়েটির অভিভাবকরা বিয়ে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। আপাতত মেয়েটি বেঁচে গেল। তবে কতদিন এভাবে সাহসী মেয়েটি নিজেকে রক্ষা করতে পারবে আমরা জানি না। এই সাহস ও সচেতনতা দেখানোয় তাকে আমাদের অনেক অভিনন্দন। এই সাহস তার এসেছে এক অদম্য সংকল্প থেকে যে সংকল্প নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামের সাথে সম্পর্কিত। আমাদের বিশ্বাস এই সংকল্পই তাকে রক্ষা করবে। ওই মেয়েটির অভিভাবকদের উদ্দেশ্য আমরা শুধু বলতে চাই, আপনাদের মেয়ে পড়াশোনা করে নিজের যোগ্যতায় একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে চায়। মেয়েটি যখন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে তখন এই সুনামের ভাগীদার হবেন আপনারাও। তার গর্বিত পরিচয়ে গৌরবান্বিত হবে পুরো পরিবার। সুতরাং তাঁকে এই অপরিণত বয়সে বিয়ে দিয়ে তার সম্ভাবনাকে নষ্ট করবেন না দয়া করে। মেয়ে হলেও সে মানুষ, এই বিবেচনাবোধ খাটান। তাকে পরিবারের বোঝা মনে করবেন না। এখনকার যুগে ছেলে-মেয়ে কোনো প্রভেদ নেই। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বরং এগিয়ে গেছে। নারীদের এই অগ্রগতিকে মেনে নিন এবং ছেলে-মেয়ে নিয়ে যে বৈষম্যবোধ মগজে গেঁথে আছে তাকে ঝেড়ে ফেলুন। দেখবেন এক ছেলে যেমন তার পরিবারের ভরসা হয় তেমনি এক মেয়েও অনুরূপ বা এর চাইতে বেশি ভরসাস্থল হয়ে উঠতে পারে। অপরিণত বয়সে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিলে শারীরিক-মানসিক-সামাজিক কী ধরনের সমস্যা হয় প্রচার প্রচারণার কারণে আমরা তা জানি। কেন নিজের সন্তানকে এমন ভয়ানক অবস্থায় ঠেলে দিব আমরা? সন্তান তো অতি আদরের। তার সবধরনের বিকাশের সহযোগী হওয়া উচিৎ অভিভাবকদের। কে বলতে পারে তার ভিতর কোন্ অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনার দরোজা বন্ধ করে না দেয়ার মতো এক স্বাস্থ্যবান সমাজ মানস আমাদের কাম্য। এজন্য ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে যে অন্ধবিশ্বাস ও অপ-ধারণা রয়েছে তা দূর হওয়া দরকার। এই কাজে নেতৃত্ব দিতে হবে সমাজের অগ্রসর অংশকে। সামনে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছি। ওই প্রস্তুতির সাথে বাল্যবিয়ে সহ আরও কিছু সামাজিক কুপ্রথা বড় প্রতিবন্ধকতা। এই কুপ্রথাগুলো আমাদের জাতীয় বিকাশের সম্ভাবনাকে পিছিয়ে দিবে। সুতরাং সামাজিক অন্ধত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক লড়াই জারি রাখতে হবে ঠিক ওই সাহসী মেয়েটির মতো।
]]>মেঘ দেখলে বুক কাঁপে
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%98-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%aa%e0%a7%87/
Sat, 17 Jun 2023 03:23:20 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165313গত এক সপ্তাহ ধরে সুনামগঞ্জে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। গতবছরের ১৬ জুন ইতিহাসের সবচাইতে ভয়ানক বন্যায় প্লাবিত হয়েছিলো সুনামগঞ্জ। সেই ভয়াল বন্যায় মানুষের জীবন ও সম্পদকে করে তুলেছিলো ভীষণ বিপর্যয়কর। গতবছর এমন প্রলয়ংকরী বন্যার কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। এত বড় মহাপ্রলয় ধেয়ে আসছে তার সামান্য কোনো ধারণা দেয়া হয়নি আবহাওয়া বিভাগ থেকে। ফলে প্রায় অপ্রস্তুত মানুষকে ঢলের বেগে ধেয়ে আসা এই বন্যা অবাক করে দিয়েছিলো। ওই বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের কোনো হিসাব করা হয়নি। তবে সাধারণভাবে বলা যায়, প্রায় প্রতিটি মানুষের ভিটেমাটি, ধান-চাল, ঘরবাড়ির আসবাব ও সামগ্রি বিনষ্টকরণসহ বেশকিছু প্রাণহানিও ঘটিয়েছিলো। মানুষ এখন আকাশে মেঘ জমলেই ভয় পাওয়া শুরু করেছে। এবারও গতবছরের মতো বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বর্ষাকালে এমন বৃষ্টিপাত একেবারেই স্বাভাবিক হলেও গত বছরের অভিজ্ঞতা মানুষকে ভয়তাড়িত করে রেখেছে। আবহাওয়া দপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এবার এখনও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। এই আশ্বস্ত করার পিছনে বেশ কিছু কারণও আছে। এরমধ্যে প্রধান হলো, জেলার হাওরগুলো আগে থেকে জলমগ্ন হয়ে উঠতে পারেনি। ফলে অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাত ও উজানের ভারত অংশ থেকে নেমে আসা ঢল অনায়াসে হাওরগুলোতে নামতে পারবে। সামনের কিছুদিন হয়তো এই আশ্বস্ত থাকার বাস্তবতা বিরাজ করবে। কিন্তু উজানে ও অভ্যন্তরে টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হতে সময় লাগবে না। এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। জনপদগুলো এখন সহজেই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে যায়। ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই কৃত্রিম বন্যার দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়। জনপদগুলোর জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হলো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রাকৃতিক উৎসগুলোর বিলুপ্তি। সুনামগঞ্জ শহরের কথা বিবেচনায় নিলে বলা যায়, এই শহরে আগে যেসব খাল ছিলো সেগুলোর অস্তিত্ব এখন আর নেই। এইসব খাল ছিলো শহরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখার প্রধান অবলম্বন। এখন পানি নিষ্কাশনের জন্য যে ড্রেনেজ সিস্টেম করা হয়েছে তা আগের প্রাকৃতিক খালের সক্ষমতার তুলনায় অনেক দুর্বল। পাকা ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ থাকে। ফলে এইসব ড্রেন অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি টেনে নিতে পারে না। এর ফলে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে নাগরিকদের অশেষ দুর্ভোগের কারণ হতে দেখা যায়। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, মহিলা কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস যেটি আগে পুরানো জেলখানা ছিলো; এই বৃষ্টিúাতে তার আঙ্গিনায় হাঁটু জল জমে গেছে। এমন অবস্থা শহরের বহু জায়গায় তৈরি হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। প্রশাসনকে বন্যা মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যাতে সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে বানবাসী মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া যায়। বন্যার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘিœত হয়। বিপর্যস্ত হয় টেলি নেটওয়ার্ক। তৈরি হয় বিশুদ্ধ পানির সংকট। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। সমস্যা হয় রান্না করে খাবার তৈরির। বাজারে নিত্যপণ্যের সংকট তৈরি হয়। শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীনতায় পতিত হয়ে খাদ্যাভাবের সম্মুখীন হয়। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকেন। বিশেষ করে গ্রামগুলোতে যেখানে বহুতল ভবন নেই বললেই চলে সেখানকার দুর্ভোগ অকল্পনীয়। সুতরাং বন্যার আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করার সময় এসব বাস্তবতা বিবেচনায় রাখতে হবে। দুর্যোগের আশঙ্কাকে হালকাভাবে গ্রহণ না করে সঠিক পূর্বাভাসের ভিত্তিতে উপযুক্তভাবে তৈরি থাকতে হবে। সেটি যেমন প্রশাসনের তেমনি সকলের। আগাম মানসিক প্রস্তুতি থাকলে দুর্যোগকে মোকাবিলা করা সহজ হয়।
]]>সর্বনাশা বিদেশ-নেশা
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%be/
Fri, 16 Jun 2023 12:19:39 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165309অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার আশায় পাগলপারা যুবকদের হেনস্তা ও হয়রানির পরিমাণ কমছে তো না-ই, ক্রমাগত বেড়ে চলেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে অনুমান করা যায়। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের ভিকারগাঁও গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী তিন তরুণ ইতালি যাওয়ার জন্য দালাল ধরলে তারা প্রতারণা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। কথিত মাফিয়াচক্রের নামে লিবিয়ায় থাকা জনৈক বাঙালি ও দেশে থাকা তার পরিবারের মাধ্যমে এখন মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। এই তিন তরুণকে লিবিয়ায় আটক করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা হচ্ছে এবং লাঞ্ছনার ছবি প্রতারিত তরুণদের পরিবারবর্গের কাছে পাঠিয়ে ও আটককৃত তরুণদের সাথে কথা বলিয়ে দাবিমত টাকা দেয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে। প্রকাশিত সংবাদ ভাষ্য থেকে জানা যায়, উপজেলার ভিখারগাঁও গ্রামের সুমন মিয়া, কুশিউরা গ্রামের নোমান মিয়া ও চনোগাঁও গ্রামের সৌরভ আহমদ গত বছরে অক্টোবর মাসে লিবিয়া যান। লিবিয়ায় আগে থেকে অবস্থানরত একই উপজেলার বরখাল গ্রামের আব্দুল বারেক এই তিন তরুণের লিবিয়া আসার খবর জানতে পারে। সে তাদের লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে এবং জনপ্রতি সাড়ে সাত লাখ টাকা করে দাবি করে। দেশে থাকা আব্দুল বারেকের স্ত্রী, পুত্র ও শ্যালকের সাথে ওই তিন তরুণের অভিভাবকরা চুক্তি করেন এবং টাকা দেন। চুক্তি মোতাবেক টাকা দেয়ার কিছুদিন পর দালাল আব্দুল বারেকের পরিবার থেকে জানানো হয় ওই তিন তরুণ লিবিয়ায় মাফিয়াচক্রের হাতে আটক হয়েছে। মাফিয়ার হাত থেকে ছাড়াতে জনপ্রতি তিন লাখ টাকা দিতে হবে। তরুণদের অভিভাবকরা সেই টাকাও দেন। এরপর দুইমাস কেটে গেছে। কয়েকদিন আগে প্রতারিত তরুণদের সাথে মোবাইল ফোন কথা বলিয়ে তাদের চিৎকার ও আহাজারি শোনানো হয়। তরুণদের মারপিট করার ছবি সামাজিক যেগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, প্রতারক ও দালাল আব্দুল বারেকের স্ত্রী এখন আরও টাকা দাবি করে বলেছেন এই টাকা পেলে তাদের ইতালি পাঠানো যাবে, চাইলে তারা দেশেও ফিরে আসতে পারবে। অভিযোগটি গুরুতর নিঃসন্দেহে। বিশেষ করে অপরাধটি বিদেশে সংঘটিত হওয়ায় এর প্রতিকার প্রক্রিয়াও বেশ জটিল। অভিযোগকারীদের ভাষ্য মতে প্রতারিত তিন তরুণ এখনও কথিত মাফিয়াচক্রের হাতে আটক আছেন। তাই বিষয়টি স্পর্শকাতরও বটে। দোয়ারাবাজার থানার ওসি জানিয়েছেন, তিনি প্রতারিত যুবকদের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় দেখবেন। তবে বিষয়টি যে খুবই স্পর্শকাতর ও জটিল তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। এ ধরনের প্রতারণা কিংবা ইউরোপের কোনো দেশে মানবেতরভাবে যাওয়ার পথে করুণ মৃত্যুর খবর মাঝেমধ্যেই আমরা পেয়ে থাকি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এত সব ঘটনার পরও কেউ সাবধান হচ্ছেন না। আগুনে পতঙ্গের ঝাঁপ দেয়ার মতো বিদেশ যাওয়ার নেশায় এই ধরনের বিপজ্জনক পথকেই অনেকে বেছে নেন। অতিমাত্রার ঝুঁকি ও বিপদ জেনেও দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে আমাদের যুবক তরুণরা দলে দলে বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছে। কেউ যাচ্ছে বৈধ উপায়ে। বেশির ভাগ অবৈধ উপায়ে। অবৈধভাবে যারা যায় তারা ঝুঁকি জেনেই যায়। মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন; এই যেন বেপরোয়া যুব সমাজের সংকল্প। এই সর্বনাশা পথ থেকে বেরিয়ে আসা উচিৎ। দোয়ারাবাজারের তিন তরুণের বিষয়ে তাদের স্বজনরা যে ভয়াবহ অভিযোগ এনেছেন তার আদ্যান্ত খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং সবার আগে আটক তরুণদের উদ্ধার করা জরুরি। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা লিবিয়াস্ত বাংলাদেশ দুতাবাস ও লিবিয়া সরকারের সহায়তা নিতে পারে। প্রতারক হিসাবে অভিযুক্ত আব্দুল বারেকের পক্ষে দেশিয় এজেন্ট হিসাবে কাজ করা আত্মীয়দের আইনের আওতায় আনা হলে বিষয়টি সহজ হবে বলে আমরা মনে করি।
]]>বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা/ গোধূলির ছায়া সরিয়ে স্নিগ্ধ আলো ফুটিয়ে তুলুন
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%97/
Thu, 15 Jun 2023 03:19:38 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165248সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সম্মানী গ্রহণের মাধ্যমে বৈকালিক সেবা দানের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর ইতোমধ্যে আড়াই মাস গত হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেও দেশের ৫১টি হাসপাতালে চালু হওয়া স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। বরং বলা ভালো প্রচার-প্রচারণা ও আন্তরিকতার ঘাটতি সহকারে এই কর্মসূচিটিকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরকম অবস্থায় গতকাল আরও ১০০টি হাসপাতালে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার দৈনিক সমকালে ‘বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবায় গোধূলির ছায়া’ শিরোনামে দেশের ১০ হাসাপাতালে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি করা সংবাদে এই বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবাচিত্রের হতাশাজনক তথ্য উঠে এসেছে। বৈকালিক সেবাকেন্দ্রগুলোতে রোগিদের ভিড় নেই কিন্তু পাশের বেসরকারি চেম্বারে রোগির উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে বলে ওই সংবাদে তথ্য উঠে এসেছে। নির্ধারিত তালিকা অনুসারে চিকিৎসকদের চেম্বার না পাওয়ার কথা এসেছে। রোগীরা চিকিৎসক না পেয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছেন। এরকম অবস্থায় সাধারণ রোগিদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার এই সুযোগটি আতুড় ঘরেই মারা পড়তে যাচ্ছে বলে অনুমিত হয়। বিদ্যমান এই অবস্থায় নতুন করে আরও ১০০ হাসপাতালে এই সেবা সম্প্রসারণের খবরটি আমাদের যেরকম খুশি করার কথা ছিলো সেরকম করতে পারছে না। এই সেবা দান কাজ শুরুর পর্যায়ে আমরা বেশ আশান্বিত হয়েছিলাম। বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় মন্তব্য প্রকাশ করে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর। সরকারি হাসপাতালে টাকার বিনিময়ে সেবা পাওয়ার বিষয়টি অনৈতিক হলেও বিদ্যমান সেবাকাঠামোর দুর্বলতা বিবেচনায় মন্দের ভালো হিসাবে আমরা এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছিলো, বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিকে অর্থবহ, রোগিবান্ধব ও প্রসার ঘটানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। এই সেবার বিষয়ে কোনো প্রচার প্রচারণা ছিলো না। হাসপাতালের চেম্বারে চিকিৎসকরা নিয়ম করে বসেন না। দৈনিক সমকালের রিপোর্ট থেকেই জানা যায়, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চেম্বারে রোগি না থাকার কথা স্বীকার করে বলেছেন, রোগি আসলে চিকিৎসককে প্রাইভেট চেম্বার বা বাসা থেকে ডেকে এনে সেবা দেয়া হয়। এরকম কেন হবে? শিডিউল অনুসারে চিকিৎসক চেম্বারে থাকবেন এমনই কথা। এর ব্যত্যয় মানেই রোগিরা এই ব্যবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন। বাস্তবে তাই হচ্ছে। যেখানে সাশ্রয়ী খরচের কারণে রোগির ভিড় লেগে থাকার কথা ছিলো সেখানে ছিমছাম নিরবতা। এই নিরবতাই প্রমাণ করে ব্যবস্থাটিকে টিকিয়ে রাখতে চাওয়া হচ্ছে না। আমাদের দেশে এখন সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা পাওয়া ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। বেসরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি খাত এমন ব্যয়বহুল হয়ে গেছে যে নি¤œবিত্ত দূরে থাকুক মধ্যবিত্তরাও এই সেবা কিনতে রীতিমতো হিমশিম খান। সরকারি হাসপাতালের অভিজ্ঞতা আমাদের সকলের জানা। এরকম অবস্থায় নাগরিকদের অনেকেই বিনাচিকিৎসা বা অপূর্ণাঙ্গ চিকিৎসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ আমাদের সংবিধানে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াকে মৌলিক অধিকারের পর্যায়ভুক্ত করে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা পেশাটি অতিশয় সংবেদনশীল ও মানবিক। এই পেশায় জড়িতদের সকলকেই দরদী ও অনুভূতিপ্রবণ হতে হয়। কিন্ত আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর উল্টোচিত্র দেখি। এই মানবিক পেশাটি দিন দিন অতি বাণিজ্যিকরণকৃত হয়ে সাধারণ মানুষের নাগাল থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাটি ফলপ্রসূ ও অধিকতর কার্যকর হয়ে উঠুক এমনটি আমরা কামনা করি। সরকারের উদ্দেশ্য তাই। এজন্যই সেবা সম্প্রারণ করা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার সাথে জড়িতদের সরকারের এই মনোভাবের সাথে একাত্ম হতে হবে। তবেই এই সেবা থেকে গোধূলির ছায়া দূর হয়ে ¯িœগ্ধ ও নরোম আলোর বিচ্ছুরণ ঘটবে। দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণ গোধূলি। তেজি রোদ মাথার উপর থেকে নেমে যাওয়ার পর যে শান্তিময় বিকাল তা গোধূলি পর্যন্ত প্রবহমাণ। এই স্নিগ্ধ সময়টুকুকে রোগিদের জন্য ভরসার সময় করে দিতে পারেন চিকিৎসাসেবকরা।
]]>বাজারের লাগাম টেনে ধরুন
https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a8/
Wed, 14 Jun 2023 02:32:01 +0000http://sunamganjerkhobor.com/?p=165156বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ সকল ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমদানিকারক-ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ে-কমে। সুতরাং অভ্যন্তরীণ বাজারে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আমাদের বাজার মওকা পেলেই সিন্দবাদের দৈত্যের মতো ঘাড়ে চেপে সেই যে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয় তাকে আর নামানো যায় না। আগে ছোট ও মাঝারী ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের ব্যবসা করত। এই ধরনের ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিলো বেশি। সংখ্যা বেশি থাকার কারণে সিন্ডিকেটবাজির সুযোগ কম ছিলো। এখন নিত্যপণ্যের আমদানিকারক হাতে গোণা কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ ও প্রতিষ্ঠান। এরা সহজেই একমত হয়ে দাম বাড়ানোর কারসাজি করতে পারে। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এই বৃহৎ ব্যবসায়ীদের প্রভাব অনেক বেশি। মন্ত্রণালয়ে তাদের সাথে যেসব সভা হয় সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের অসহায় অবস্থায় দেখা যায়। ফলে সাধারণ ভোক্তা সমাজ এই অতি মুনাফাখোর বড় ব্যবসায়ীদের কারণে চোখে শর্ষে ফুল দেখতে শুরু করেছেন। সোমবার দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে গত এক বছরে গমের দাম কমেছে শতকরা পয়ত্রিশ শতাংশ। আশ্চর্য বিষয় হলো, দেশের বাজারে আটার দাম তো কমেইনি উল্টো এই সময়ে শতকরা ১২ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। একইভাবে রসুনের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ১৬ শতাংশ কমলেও দেশে বেড়েছে ৯৩ শতাংশ। সোয়াবিন তেলের দাম কমেছে ৪৪ শতাংশ কিন্তু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা দেশে কমিয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ থেকে ২ শতাংশ। অনেক পণ্যের ক্ষেত্রেই এরকম অবস্থা বিদ্যমান। কিছু কিছু সময়ে যখন নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় তখন কৌশল করে আগে থেকেই ওই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। এত নৈরাজ্যকর বাজার ব্যবস্থা আর কোথাও রয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই। বাজারের নিত্যপণ্যের দামের উপর সবসময় সরকারি নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। দেশে এই ধরনের একটি কাঠামো রয়েছে। কিন্তু তা কার্যকর হয়ে উঠতে পারে না। অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর জন্য কোনো বড় ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো যে অভিযান পরিচালিত হয় তা মূলত খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে। এই খুচরা বিক্রেতাদের দাম বাড়ানোর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। আমদানিকারক বা আড়ৎদার পর্যায়ে সঠিক নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও নজরদারি না রাখলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কখনও সম্ভব নয়। সামনে কোরবানির ঈদ আসছে। এসময় পেঁয়াজ, রসুন, মশলা, ভোজ্যতেল প্রভৃতির চাহিদা বেড়ে যায়। এই বর্ধিত চাহিদার সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি। সংবাদপত্র অনুযায়ী জানা গেল সরকার প্রতি লিটার সোয়াবিন তেলে ১০ টাকা দাম কমিয়েছেন। কমানোর এই হার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সাথে তুলনা করলে আশাহত হতে হয়। দেশিয় বাজারে চিনির দাম আরেক দফা বাড়ানোর জন্য সরকারের নিকট আবেদন করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। সমকালের ওই প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম ৩৮ শতাংশ বাড়ানোর তথ্য দিয়ে বলা হয় এ কারণে দেশিয় বাজারে চিনির দাম বাড়ানো হয়েছে ৫৮ শতাংশ। আমদানি করতে হয় না এমন পণ্যের দামও বেড়ে যায়। কৃষক পর্যায়ে যে দামে কেনা হয় ভোক্তার নিকট পৌঁছাতে সেই পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই একদিকে উৎপাদক কৃষক সমাজ ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আহাজারি করছেন অন্যদিকে ভোক্তারা মাত্রাতিরিক্ত দামে জিনিস কেনার অত্যাচারে জর্জরিত। বাজারের বিশেষ করে নিত্যপণ্যের বাজারের লাগাম টেনে ধরা বিশেষ জরুরি। মুনাফা অর্জনের একটা সীমা থাকা দরকার। এই সীমা নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের। সরকার এই জায়গায় ব্যর্থ হলে জনরোষের পুরোটাই সরকারের গায়ে লাগবে, তখন ব্যবসায়ীরা আড়ালে নিরাপদে বসে মুচকি হাসবে আর পরবর্তী শোষণমূলক কর্মকৌশল ঠিক করতে মাথা খাটাবে।
]]>