Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php:146) in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-includes/feed-rss2.php on line 8
সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক https://archive.sunamganjerkhobor.com Sun, 25 Jun 2023 19:03:52 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.0.12 ইউরোপ-জাপান-চীনের মতো হবে বাংলাদেশ- পরিকল্পনামন্ত্রী https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%aa-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%9a%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a7%8b-%e0%a6%b9%e0%a6%ac%e0%a7%87/ Sun, 25 Jun 2023 19:03:46 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165859 শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর অফিস
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ কখনো শ্রীলংকা হবে না, হওয়ার আশঙ্কা নেই। এই নিয়ে কোনো ভয় নেই। বাংলাদেশ এখন ইউরোপ-জাপান-চীন হবে। গত একবছর ধরে কিছু লোক মানুষকে নানাভাবে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। এসব উস্কানি দিয়ে লাভ হবে না।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মজিদ কলেজ মিলনায়তনে পরিকল্পনামন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে হতদরিদ্রের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদানকালে এসব কথা বলেন তিনি।
‘আন্তর্জাতিকভাবে দেশ একঘরে হয়ে গেছে’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি’র এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এক ব্যক্তির কথায় দেশ একঘরে হয়ে যায় না। জাতিসংঘই জানে না বাংলাদেশ একঘরে হয়ে গেছে, রিজভি কীভাবে জানেন? আমরা বিশ্ব সমাজে আছি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হবে। এর আগেও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। তবে যদি কেউ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা, মারামারি ও অগ্নিকা- করতে চায় তাদের প্রতিহত করা হবে। এলাকার মানুষ তাদের প্রতিহত করবে।
বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যা অনেক কমে গেছে। আগের মতো দেশে লোডশেডিং নেই। ১০ লাখ টন কয়লা বন্দরে এসেছে। বন্দরে কয়লার জাহাজের ভিড় লেগে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছে। বিএনপি একটি ঘরেও বিদ্যুৎ দিতে পাওে নি, তাই তারা বিভ্রান্তি ছড়ায়।
পেঁয়াজের দামবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমরা সেটা কমিয়ে দিয়েছি। এখন কেউ যদি দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াতে যায়, আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে পণ্য আমদানী করে কম দামে বাজারে বিক্রি করবো।
মন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছে, টিউবওয়েল দিয়েছে, ল্যাট্রিন দিয়েছে, ঘর দিয়েছে। বিএনপি সরকারে থাকাকালে এগুলো কি দিতে পেরেছে? তাদেরকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি পারলে প্রমাণ করুক।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার উজ্ জামানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিতাংশু শেখর ধর সিতু।
এরপর শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৪১৭ জন হতদরিদ্রের মাঝে ১২৭০ টাকা করে মোট ৫ লক্ষ টাকা তুলে দেন অতিথিরা।
সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় আ.লীগ
এদিকে বিকালে জগন্নাথপুর উপজেলার আবদুস সামাদ আজাদ মিলনায়তনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান’র স্বেচ্ছাধীন তহবিলের নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এসময় তিনি বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হোক আমরা চাই। তবে কেউ যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় নির্বাচন আটকে থাকবে না। বিশৃঙ্খলা করে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি শিক্ষক সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) শুভাশীষ ধর, পরিকল্পনামন্ত্রীর জ্যেষ্ঠপুত্র ব্যাংকার শাহাদাৎ মান্নান অভি, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসাইন প্রমুখ।
শেষে ৩৭১ জন হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে নগদ ৪ লাখ ৭৩ হাজার ২৫ টাকা বিতরণ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

]]>
নিখোঁজের ৮দিন পর ভারতের অভ্যন্তরে মিললো তরুণের মরদেহ https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a7%ae%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85/ Sun, 25 Jun 2023 18:57:57 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165856 মধ্যনগর প্রতিনিধি
মধ্যনগরে নিখোঁজের ৮দিন পর বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভারতের ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে মেঘালয় রাজ্যের রংঢংগা এলাকা থেকে আলমগীর হোসেন (১৯) নামে এক তরুণের লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে।
রবিবার সকালে ওই নিখোঁজ তরুণের লাশের সন্ধান পায় তার পরিবারের স্বজনরা। নিহত ওই তরুণ উপজেলার রূপনগর গ্রামের মৃত. জামাল উদ্দিন মেম্বারের ছেলে।
নিহতের ফুফাতো ভাই আমিরুল ইসলাম বলেন, আলমগীর নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। গত সোমবার (১৯ জুন) রাতে নিখোঁজের বড়ভাই জাহাঙ্গীর মিয়া বাদী হয়ে মধ্যনগর থানায় জিডি করেছেন। রবিবার সকালে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রংঢংগা এলাকার জঙ্গল থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে আমাদের কাছে। সেখান থেকে লাশের ছবি পাঠালে আমরা ঝুঝতে পারি এটি আলমগীর লাশ।
জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই আলমগীর তার মায়ের সাথে নানার বাড়িতে থাকতো। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে সে। পরে পড়াশোনা বাদ দিয়ে সংসারের হাল ধরে। গত ১৭ জুন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ওই মধ্যনগর ইউনিয়নের বাকাতলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আলমগীর।
মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, নিহতের পারিবার আমাদের জানিয়েছে- ভারতের ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে আলমগীরের লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে। লাশের ছবি দেখে তারা এটি আলমগীরের লাশ বলে শনাক্ত করেছেন।

]]>
ইউএনও’র পরিচয়ে শিক্ষকদের সাথে প্রতারণা https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%8f%e0%a6%a8%e0%a6%93%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0/ Sun, 25 Jun 2023 18:49:34 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165854 জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে ইউএনও পরিচয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫শত’ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সাচনাগ্রামের রুস্তম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য রবিন্দ্র কুমার দাস জানান সরকারি ভাবে স্কুলের জন্য ল্যাপটপ বরাদ্দ এসেছে। সে জন্য প্রত্যেক শিক্ষকদের ইউএনও এর সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ইউপি সদস্যের বরাতে প্রধান শিক্ষক সেই নাম্বারে যোগাযোগ করলে ইউএনও পরিচয় দিয়ে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় আপনার বিদ্যালয়ের নামে একটি ল্যাপটপ বরাদ্দ হয়েছে। সেজন্য আপনাকে ০১৯৫৬৪৫৬১৮৬ এই নাম্বারে বিকাশে ৭ হাজার ৫শত টাকা পাঠাতে হবে।
কথা অনুযায়ী সাচনা রুস্তম আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৫শত টাকা প্রতারকের দেওয়া বিকাশ নাম্বারে পাঠান এবং ৪ হাজার টাকা সকালে পাঠানোর জন্য বলেন।
একই ভাবে কালীবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিতা রানী তালুকদার কেও বিকাশ নাম্বার দিয়ে একই ভাবে টাকা পাঠানোর জন্য বলা হয়।
এছাড়াও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন ও খন্দকার মুজিবুর রহমানকে একই ভাবে ল্যাপটপের কথা বলে তাদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে টাকা পাঠানোর জন্য বলা হয়। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
এ ব্যপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম রাব্বানী জাহান বলেন, অনেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে এ ব্যাপারে জানিয়েছেন। তাদেরকে এসব ভুয়া বলে সতর্ক করে দিয়েছি।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, কয়েকজন এ বিষয়ে আমাকে জানিয়েছেন। আমি তাদেরকে থানায় সাধারণ ডায়রি করতে বলেছি। প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মো. আব্দুন নাসের বলেন, এ ব্যপারে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

]]>
কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৬০ হাজারের বেশি পশু https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a4-%e0%a7%ac/ Sun, 25 Jun 2023 18:47:48 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165851 সোহানুর রহমান সোহান
আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ২৯ জুন মুসলিম ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ পালন করা হবে। ঈদের দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কুরবানি দেয়া হবে। সামর্থ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বড় এবং সুন্দর পশু কেনার প্রতিযোগিতা চলছে গরুর হাটগুলোতে। তাই কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৮ হাজার ৪১৩টি গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া। এসব গরু ছাগলের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পশুর হাটগুলোতে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। পাশাপাশি জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে জেলা অফিসে থাকবে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যেখান থেকে সেবা নিতে পারবেন কুরবানির পশুর ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর জেলায় কুরবানিযোগ্য মোট গরুর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩২৩টি, মহিষ আছে ১ হাজার ৩০১টি। এছাড়াও ৯ হাজার ৭৮৯টি ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে মোট চাহিদা ৫৪ হাজার ৩৬২টি। চাহিদা পূরণ করে প্রায় ৪ হাজার পশু থাকবে উদ্বৃত্ত। জেলায় মোট পশু খামারির সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮০ জন। সবচেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত আছে ছাতক ও সদর উপজেলায়। ছাতকে ১২ হাজার ২২০টি ও সদরে ৮ হাজার ২০২টি। এছাড়াও প্রত্যেকদিন জেলার বাইরে থেকে ট্রাকভর্তি গরু-ছাগল আসবে এবং যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ বছর পশু কুরবানির সংখ্যা কমবে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। তারা জানান, আগে অনেকে কম মূল্যে কুরবানি দিতে পারতেন, কিন্তু এ বছর সেই টাকায় পশু পাবেন না। জেলার অস্থায়ী পশু হাটগুলো এখনো মানুষের পদাচরণা না হলেও গত কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ার পর রোদ উঠায় জমে উঠেছে গ্রামীণ স্থায়ী হাটগুলো। পছন্দের গরু-ছাগল কিনতে ও দেখতে হাটে যাচ্ছেন মানুষ। গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম বেশি বলে জানিয়েছেন হাটে আসা মানুষ।
বিশ্বম্ভপুরের কারেন্টের বাজার পশু হাটে গরু কিনতে আসা আকমল হোসেন অভি বলেন, জেলার সকল হাট সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা আছে। কুরবানি ছাড়াই আমি পশুর হাটে ঘুরি। গরুর হাটে গরু কেনা এবং দেখা আমার শখ ও নেশা। এ বছর গরুর দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও বেশি। গত বছরের ৬০ হাজার টাকার গরু এবছর ৯০ হাজার টাকা।
অনিক আহমেদ বলেন, মধ্যবিত্তরা একটি মাঝারি বা ছোট সাইজের গরু খোঁজে। কিন্তু এই সাইজের গরুগুলোরই দাম সব থেকে বেশি। যার কারণে গতবার যারা ছোট বা মাঝারি সাইজের পশু কুরবানি দিয়েছেন এবছর মনে হয় না সেই টাকায় তারা কুরবানি দিতে পারবেন না। সংসার চালানোই কষ্ট যেখানে সেখানে বাড়তি টাকা দিয়ে গরু কিভাবে কিনবে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর কুরবানির জন্য সুনামগঞ্জে প্রায় ৫৮ হাজারের অধিক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এদের স্বাস্থ্য সহ অন্যান্য সেবা দিতে সার্বক্ষণিকভাবে তত্বাবধানে রাখা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা থেকে আমার নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। আমাদের পশু ঘাটতি নেই।

]]>
পশুর হাট/নিরাপত্তায় পুলিশ ও সিসি ক্যামেরা https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%aa%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9f-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf/ Sun, 25 Jun 2023 18:45:52 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165848 স্টাফ রিপোর্টার
আগামী ২৯ জুন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার ৭০টি জায়গায় বসেছে স্থায়ী অস্থায়ী পশুর হাট। এরমধ্যে স্থায়ী পশুর হাট ২২টি এবং অস্থায়ী ৪৮টি। নির্ধারিত এসব পশুর হাটে বিক্রি হবে কুরবানির পশু। পৌর শহরের জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তার স্বার্থে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও কন্ট্রোল রুম। এদিকে পৌর শহরের বাইরের সকল হাটে পুলিশের কন্ট্রোল রুম এবং পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে পশুর হাটে। হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো এহসান শাহ বলেন, ঈদে সুনামগঞ্জ জেলায় এ বছর ৭০ টি পশুর হাট বসেছে। পৌর শহরের হাটে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য প্রত্যেকটি হাটে আমরা পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। ইজারাদারদের সহযোগিতায় একটি করে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছি। কারো কিছু হারিয়ে গেলে বা জরুরী কিছু ঘটলে যেন সেখান থেকে সহযোগিতা পেতে পারে। এছাড়াও পশুর হাটে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। হাটের নিরাপত্তায় আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সুনামগঞ্জ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার ২২ টি স্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৬ টি। এছাড়াও সুনামগঞ্জ সদরে ৩ টি, বিশ্বম্ভপুরে ২ টি, শান্তিগঞ্জে ২ টি, জগন্নাথপুরে ২ টি, ছাতক ২ টি, ধর্মপাশা ২টি এবং দিরাই, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ১ টি করে স্থায়ী হাট বসবে। একটিও স্থায়ী হাট নেই শাল্লায়। ৪৮ টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬ টি পশুর হাট বসেছে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে। ছাতকে ১০ টি, তাহিরপুর ৬ টি, বিশ্বম্ভপুরে ৬ টি,সুনামগঞ্জ সদরে ৫টি, শান্তিগঞ্জ ২টি, দোয়ারাবাজার ২ টি, দিরাই ১ টি। প্রত্যেকটি অনুমোদিত পশুর হাটে ৭ শতাংশ হাসিল নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। তবে এই হারে হাসিল নিতে চাইলে হাটে ক্রেতা আসবেনা বলে জানান হাট ইজারাদাররা।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার মুজিবুর রহমান বলেন, অনেক বছর ধরে হাট ইজারার সাথে যুক্ত আছি। প্রত্যেকবছর সরকার হাসিলের পরিমাণ নির্ধারণ ক্ক্রে দেয় ৭ শতাংশ। কিন্তু আমরা এতো টাকা নিতে পারি না। আমরা ৪ টাকা বা ৫ টাকা নেই। ৭ শতাংশ হাসিল দিলে কোনো ক্রেতা হাটে আসবেনা। হাসিলের পরিমান না কমালে পশুর হাটে যে সাইনবোর্ড দেয়া হয় সেটা না থাকাই ভালো। ৭ শতাংশ হাসিল দেখলে বাহির থেকেই ক্রেতা বিক্রেতা চলে যাবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট পাথারিয়া বাজারের ইজারাদার আব্দুল মমিন বলেন, বাজারের অবস্থা এই বছর খারাপ। মানুষ ঠিকঠাক মতো ধান পাওয়ার পরও ক্রেতা কম। এমনিতেই গরুর দাম বৃদ্ধি তার উপর যদি সরকার নির্ধারিত হারে টাকা নেই তাহলে মানুষ হাট থেকে গরু কিনবে না। ক্রেতা যেন গরু কিনতে আসে সেই উদ্দেশ্যে টাকা কমিয়ে ২ বা ৩ টাকা হারে নিচ্ছি।

]]>
শাল্লায় ভিজিএফ’র চালসহ ইউপি সদস্য আটক https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%8f%e0%a6%ab%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%b8%e0%a6%b9-%e0%a6%87/ Sun, 25 Jun 2023 17:51:55 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165846 স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের শাল্লায় ভিজিএফ’র চালসহ আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। পরে শাল্লা আদালতের বিচারক ওই ইউপি সদস্যকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটগাঁও ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ভিজিএফ’র চাল বিতরণ না করে তার নিজের ঘরে রেখেছেন বলে খবর পায় পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে আটটায় ৩৩৫ কেজি চালসহ পুলিশ ওই ইউপি সদস্যকে আটক করে। শেষে উপজেলা একাডেমী সুপারভাইজার কালীপদ রায় বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে সরকারি চাল আত্মসাতের চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
শাল্লা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাককে রবিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

]]>
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-6/ Sun, 25 Jun 2023 16:59:48 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165843 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
ধনপুর আছমত আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়, ডাক- মেরুয়াখলা, উপজেলা-বিশ^ম্ভরপুর, জেলা- সুনামগঞ্জ’এর জন্য সর্বশেষ জারিকৃত এমপিও নীতিমালা-২০২১ অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী ও ট্রেড অ্যাসিসট্যান্ট (সিভিল) এইচএসসি ভোকেশনাল আবশ্যক। সহকারী প্রধান শিক্ষক ২০০০/= (দুই হাজার টাকা), অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী ও ট্রেড অ্যাসিসট্যান্ট (সিভিল) পদে ১০০০/= (একহাজার টাকা) সোনালী ব্যাংক বিশ^ম্ভরপুর শাখার অনুকূলে পে-অর্ডারসহ (অফেরৎযোগ্য) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান শিক্ষক বরাবর আবেদন পৌঁছাতে হবে। প্রধান শিক্ষক, মোবাইল ০১৭১৬৮৮৫১২০

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
আমবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, ডাক- আমবাড়ী বাজার, উপজেলা- দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ’এর জন্য বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী সরকারী বিধিমোতাবেক শূন্যপদে ০১ (এক) জন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক ও আয়া আবশ্যক। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে সকল পদের জন্য ৫০০ (পাঁচশত) টাকার ব্যাংক ড্রাফট/ পে-অর্ডার (অফেরৎযোগ্য) অগ্রণী ব্যাংক আমবাড়ী বাজার শাখার অনুকূলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রধান শিক্ষক বরাবরে আবেদন করুন।

]]>
একটি শুঁটকি-আমের কথা https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%9f%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/ Sun, 25 Jun 2023 16:57:38 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165838 ইকবাল কাগজী
কবি আম কিনলেন, দেখাদেখি আমিও
কবি কুমার সৌরভের সঙ্গ আমার জন্যে প্রিয় ও প্রীতিপ্রদ। একটি নির্দিষ্ট মানে তাঁর সঙ্গে তর্ক চলে, যা আসলেই বিরল একটি মাত্রাসূত্রে বাঁধা। তর্কবিতর্কে সময়টা কী করে পেরিয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। গত সপ্তাহ দুয়েক আগে তাঁর সঙ্গ নিয়ে রাত সাড়ে আটটার পর বাসায় ফিরছিলাম। পিটিরপিটির বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল, আলফাত চত্তরে থাকতেই। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কবি এখনও পুরো সুস্থ হয়ে ওঠেন নি, স্ট্রেচার নির্ভরতা তাঁকে দিয়েছে শম্ভুক গতি। তবু সান্ত¡না এই যে কবি তো চলতে ফিরতে পারছেন। আমি তাঁর পাশে থেকে মাথায় ছাতা ধরে রেখেছি। দুজনেই বৃষ্টির হামলা থেকে বাঁচতে চেয়ে কেউই পুরোপুরি রেহাই পাচ্ছি না, কাক ভেজা হয়ে পড়ছি আর মনে মনে বৃষ্টির বাপান্ত করছি। কবি আম কিনতে চাইলেন, কিনলেন এক কেজি। আমি তাঁর দেখাদেখি কিনলাম আধ কেজি, তেমন দরকার ছিল না তবু। আমি সাধারণত বাজার থেকে কেনা ফল খাওয়া যতোটা পারি পরিহার করে চলি। বাসায় এসে দেখি একটা আম একট ুপচাপচামতো নরোম কিন্তু ঠিক পচা নয়। ছোট ছোট চারটি আমের মধ্যে এটিকে খেতে মন চাইল না, পড়ে রইল যেমন রেখেছি তেমন। কয়েকদিনে বেশ একটু শুঁকিয়ে গিয়ে আমসি আমসি হয়ে উঠলো আমটি কিন্তু অবাক কা- পচে গেলো না। সন্দেহ বশত আমি আমটিকে সযতেœ সংরক্ষণ করলাম। দেখি কী হয় ? সপ্তাহ দুয়েক পেরিয়ে গেলে আমটির ছোলা কালচে ও একটু কাঠ কাঠ শক্ত হলো বেটে কিন্তু পচে গিয়ে নরোম হয়ে উঠলো না, বলা যায় শুঁটকি হলো।
শুঁটকি-আমের কথকতা
আমের আমসির কথা বোধ করি সকলেই শুনেছেন বা কেউ কেউ খেয়েছেনও। এবার শুনুলেন আমের শুঁটকি কিংবা শুঁটকি-আমের কথা। কিন্তু আগেই বলে রাখি, আম খাবেন কিন্তু শুঁটকি-আম খাবেন না কিন্তু, যদি পেয়ে যান। শুঁটকি-আম অবশ্যই খুব দুর্লভ দ্রব্য, সচরাচর পাওয়া যায় না। তবে আগেই বলেছি, আমার বাসায় একটি শুঁটকি-আম আছে, আমি বিশেষ যতেœ সংরক্ষণ করে রেখেছি, কেউ এলে দেখিয়ে দিতে পারবো। আর যিনি দেখবেন তাঁর জীবনে সেটা হবে নবমাশ্চর্য দরশনের মতো চমকপ্রদ ঘটনা। আর একটি কথা বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বলে রাখছি, আম খাবার আগে অবশ্য অবশ্যই মনে রাখবেন, আম যেনো ফরমালিনমুক্ত হয়। ফরমালিনযুক্ত একটি আস্ত আমই কেবল সাধারণত শুঁটকি-আম হতে পারে। আবার বলেছি, আমার বাসায় তার নমুনা আছে। সুতরাং শুঁটকি-আম হবার সম্ভাব্যতাপূর্ণ-আম খাওয়া কীছুতেই সঙ্গত নয়। সঙ্গত নয় এই কারণে যে, লোকে বলেন, ফরমালিন মেশানো যে-কোনও খাদ্য শরীর-স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ রকমের ক্ষতিকর। আমি চিকিৎসক নই, এ বিষয়ে দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের কী অভিমত আমি জানি না। তবে আমার বাসায় সংরক্ষিত শুঁটকি-আমটি প্রতিপন্ন করছে যে, আমাদের সম্মানিত চিকিৎসকরা জানেন যে, ফরমালিনযুক্ত খাদ্যসামগ্রীর পক্ষে মানুষের শরীর-স্বাস্থ্যগত কোনও ক্ষতিসাধনের ক্ষমতা নেই, অথবা এ বিষয়ে তাঁরা মোটেও অবগত নন, তাঁরা কোনও না কোনওভাবে নিশ্চিত যে ফরমালিন খেলে মানুষের স্বাস্থ্যের কোনও ক্ষতি হয় না। আর যদি তাঁরা, ‘ফরমালিন খেলে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়’ এই তথ্যটি অবগত থাকেন অর্থাৎ ফরমালিনের দ্বারা মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি তাঁদের অবগতি ও শিক্ষাভিজ্ঞানের মধ্যে থাকে, তা হলে আমার প্রশ্ন হলো, আমার বাসায় শুঁটকি-আমটি আম থেকে কী করে শুঁটকি-আম হতে পারলো কিংবা কী পদ্ধতিতে ফরমালিন আমের ভেতরে প্রবিষ্ট হয়ে বাজারজাত হয়ে শেষে আমার বাসায় এসে উপস্থিত হলো ?
আমার কাছে এর একটাই উত্তর আছে। চাড্ডায় বসে প্রসঙ্গক্রমে বিষয়টি উত্থাপিত হলে দুর্মখ বলে বিখ্যাত আমাদের চাড্ডাচত্বরের বীর বাতেলা পীর বললেন, “সাধারণ মানুষ ফরমালিন খেয়ে অসুস্থ হলে চিকিৎিসকদের কাছে যাবে, তাঁরা মানুষের অসুখ নিয়ে বাণিজ্য করবেন এবং ঔষধপ্রস্তুত সংস্থাসমূহের লাভ সুনিশ্চিত হবে, চিকিৎসাসেবার নামে ঔষষ নিয়ে বাণিজ্যই তাঁেদর একমাত্র ফিকির।” চিকিৎসকরা তা অস্বীকার করতে পারেন, প্রয়োজনে বীর বাতেলা পীরের বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতে যেতে পারেন, মানহানির মামলা রজু করতে পারেন। সেটা করার স্বাধীনতা তাঁদের আছে। কিন্তু আমি বলবো, বীর বাতেলা পীরের চাড্ডাবাতেলার মধ্যে সত্যের কীছুটা হলেও উপস্থিতিকে একেবারে অস্বীকার করা যায় কি ? বর্তমান ফলবাজারের সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে সেটাকে (ফলে ফরমালিন আছে) অস্বীকার করা হবে সত্যকে পায়ে ঠেলে মিথ্যাকে আলিঙ্গন করার নামান্তর। বীর বাতেলা পীর মনে করেন, দেশে চিকিৎসকরা থাকতে কেন তাঁরা ফল-সবজি ও মাছ-মংাস ইত্যাদিতে ফরমালিন মেশানোর প্রতিবাদ করবেন না ? মানুষকে সুস্থ রাখার ব্রতই যদি তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য হয়, তা হলে সরকারকে কেন তাঁরা খাদ্যসামগ্রীতে ফরমালিন মেশানো প্রতিরোধ করতে বাধ্য করছেন না ? এর (ফলে ফরমালিন দেওয়া) প্রতিবাদে তাঁরা অন্তত প্রশাসনের যে অংশের লোকদের গাফিলতির কারণে ফলে কিংবা অন্য কেনও খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন মেশানো সম্ভবপর হচ্ছে তাঁদেরকে চিহ্নিত করে চিকিৎসা করবেন না বলে ঘোষণা দিতে পারেন। তাছাড়া সরকার বাজারজাত হওয়ার আগেই ফরমালিন মেশানো ফল পরিবহণকারি যানগুলোকে আটকে দিতে পারেন সহজেই, সড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি জনবলকে কার্যকর পদ্ধতিতে কাজে নিয়োজিত করে। এই কার্যকর পদ্ধতির ভেতরে উৎকোচ গ্রহণপূর্বক ফরমালিনযুক্ত পণ্য বহনকারি পরিবহণযান ছেড়ে দেওয়ার প্রচলিত প্রকাশ্য গোপন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত নয় ধরে নিতে হবে এবং এটা অবশ্যই যে-করেই হোক প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
আমের পরিণতি শুঁটকি-আম হওয়ার কারণ কী ?
পাঠককে বোধ করি আওয়াজ দিয়ে আমের এই শুঁটকি হয়ে পড়ার কারণ সম্পর্কে অবহিতকরণের কোনও প্রয়োজন নেই। কানার মনে মেনে জনার মতো আমরা সকলেই এর কারণ জানি। তারপরেও দৈবাৎ কারও যদি কারণটি জানা না থাকে, কেবল তাঁর জন্যে বলছি, উক্ত (আমার বাসায় সংরক্ষিত) আমটির মধ্যে ফরমালিন দেওয়া আছে। এখানে আমার একটি বিজ্ঞতার বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান উচিৎ হবে বলে বিবেচনা করছি, আর সেটি হলো : সাধারণ জ্ঞানের সহায়তায় আমি জানি যে, ফরমালিন পচনরোধক পদার্থ, কোনও পচনশীল পদার্থে ফরমালিন মেশালে সে পদার্থটি আর পচে না। সে জন্য একটি আমের শূঁটকি-আমে পরিণত হওয়ার রহস্যটি আমার কাছে সহজেই বোধগম্য হচ্ছে।
আমটিতে ফরমালিন আছে কিনা নেই সেটা আমি পরীক্ষা করাই নি। শুনেছি প্রয়োজনে পরীক্ষা করানোর সরকারি ব্যবস্থা আছে। কিন্তু পরীক্ষা না করালেও আমার দৃঢ় বিশ^াস এতে ফরমালিন দেওয়া আছে, বা পরীক্ষা করালে ফরমালিন পাওয়া যাবে। ফলবিক্রেতা অথবা বাগানমালিক আমটিকে নির্ঘাত ফরমালিনে চুবিয়ে তারপর বাজারজাত করেছে। খাদ্যপণ্যে ফরমালিন আছে কি না নেই সে পরীক্ষায় নিযুক্ত সরকারী সংস্থা আমার বাসায় সংরক্ষিত আমটিতে ফরমালিন আছে কিনা নেই তা পরীক্ষা করতে পারতেন, আমটি বাজারজাত করার আগে কিংবা আমি আমটি ক্রয় করার আগে। দেশে এমন কোনও কার্যকর ব্যবস্থা যে নেই তা সহজেই বুঝাই যাচ্ছে বা ব্যবস্থা থাকলেও সে-ব্যবস্থা অথর্ব হয়ে বসে আছে এবং জনগণের করের টাকায় বেতন পরিশোধের মাধ্যমে তাঁদের পকেট টাকায় ভরে উঠছে। সুতরাং যা হবার হোক তাতে তাঁদের কীছু যায় আসে না। তাঁদের তো তঙ্কা লাভে কোনও কমতি হচ্ছে না। পুঁজির পূজা সুচারুরূপে সম্পন্ন হলেই হলো, এতেই জীবন ধন্য।
ফলে ফরমালিন দিলে কী হয় ?
ফলে ফরমালিন দিলে নাকি অনেক কীছই হয়, আমি কেবল এইটুকু জানি, সুনির্দিষ্টভাবে কীছুই জানি না। এই অনেক কীছুর হওয়ার মধে একটি হলো ফলে পচন না ধরা, সেটার প্রত্যক্ষ প্রমাণ আমি পেয়েছি। আমার ঘরে রক্ষিত আমটি আমার দৃষ্টিসীমায় এসে সে সত্যটি বার বার আমাকে জানান দিচ্ছে। ফল সহজে পচনশীল পণ্য, সকলেই জানেন, ফলবিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েই জানেন। টাটকা ফল দুয়েক দিনের মধ্যেই পচে যেতে পারে। তাই দেকানী ফলটিকে পচনের হাত থেকে রক্ষার ‘মহৎ’ কাজে কোমর বেঁধে লেগে পড়েন। ফল পচে গেলে বিক্রি করা যাবে না, তাঁর লোকসান হবে। লোকসান দেওয়া যাবে না, লাভ অবশ্যই করতে হবে। মুনাফানির্ভর মুক্তবাজারব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক। পুঁজিবাদের এটাই নিয়ম। এই নিয়ম ভঙ্গ করা যাবে না। এই লাভের লোভে জীবনরক্ষাকারি ঔষধে পর্যন্ত ঔষধনির্মতাসংস্থা ভেজাল মিশিয়ে দিতে কসুর করে না এবং প্রকারান্তরে মানুষ খুনের অপরাধে লিপ্ত হয়ে পড়ে। খুন বলছি এজন্য যে, ভেজাল ঔষধ সেবন করে লোকেরা সুস্থ না হয়ে আরও অধিক হারে অসুস্থ হয় এবং অচিরেই পটল তোলে।
গেলো ফলে পচন না ধরার প্রসঙ্গ। কিন্তু একটি প্রশ্ন উঠে এলো। ফলে পচন না ধরলে কী হয় ? অর্থাৎ ফলে ফরমালিন দিলে কী হয় ? আমি জানি সেটা টাটকা থাকে, তরজাতা মনে হয়। ক্রেতাদেরকে সহজে ঠকানো যায়। পচন না ধারার জন্যে দোকানীর লোকসান হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই থাকে না। আর কী কী হয় ? আমি সে-সবের উত্তর জানি না। উত্তর জানেন চিকিৎসক। উত্তরটা আমার জানা না থাকলেও লোকদেরকে বলতে শুনেছি, ফরমালিন মানুষের স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকর। এই ক্ষতিটা কেমন সেটা চিকিৎসক জানেন। আমার সে ব্যাপারে একেবারেই জানা নেই, আমি তো চিকিৎসক নই। তো কী করা ?
হঠাৎ মনে হলো গণকযন্ত্রের (কম্পিউটার) শরণ নিলে কী হয় বা কেমন হয় ? সেখানে তো সবজন্তা প-িত গোগল আছেন। গোগলের জ্ঞানভা-ার সন্তরণ সম্পন্ন করে জানা গেলো, “… খদ্যদ্রব্য গ্রহণের পর বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট বর্জ্য উপাদানগুলোকে ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র ও কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়ার কাজ করে মানুষের লিভার। কিন্তু সে ফরমালিনে আক্রান্ত কোষগুলোকে শরীর থেকে বের করে দিতে পারে না। ফরমালিনের কারণে লিভার থেকে বের হওয়া এনজাইমগুলো নষ্ট হয়। এর ফলে লিভার ও কিডনির উপর চাপ পড়ে। পরিণতিতে লিভার সিরোসিস হতে পারে। কিডনি নষ্ট হতে পারে। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে। খাদ্যে খুব সামান্য পরিমাণ ফরমালিন মানুষের শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। ফরমালিন মেশানো ফল বা মাছ-মাংস অনেক দিন ধরে খেলে লিভার ক্যানসার, হার্টের অসুখ, কিডনি নষ্ট প্রভৃতি হতে পারে।” মানবদেহে প্রবিষ্ট ফরমালিনের ক্ষতি নিয়ে এতো কীছু জানার পর আমার তো একেবারে সুকুমার রায় হয়ে গিয়ে ‘মাথায় কতো প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবার তার’ অবস্থা।
ফরমালিন খাওয়া মানে মুনাফার পদতলে আত্মসমর্পণ
আমরা প্রতিনিয়ত মাছ-মাংস, ফল-মূল, শাক-শবজি খাচ্ছি। বাঁচার তাগিদে এসব খেতেই হচ্ছে এবং খাওয়া বন্ধ করা যাবে না এবং আমার মনে হচ্ছে বাজারজাতকৃত এসবের মধ্যে ফরমালিন মেশানো আছে। অন্তত শুঁটকি-আমটা প্রতিনিয়ত আমাকে তা-ই জানান দিচ্ছে। একজন বললেন, আর একটি প্রমাণ আছে। সেটা হলো, ফলের দেকানের আশেপাশে একটি মাছিও পাবেন না। ফরমালিন মেশানো ফলে মাছি বসে না। কারণ পচা জিনিসে সাধারণত মাছি বসে আর ফরমালিন মেশানো ফলে পচন ধরে না বলে মাছির তাতে কোনও লাভ নেই। তাছাড়া সন্ধান করে দেখুন, আজকালকার ফলের দোকানে, ব্যতিক্রম বাদে, কোনও পচা ফল পাবেন না।
ফলে ফরমালিন মেশানো আছে, এই অনুমানটা কি নিতান্ত কোনও ব্যক্তিগত ব্যাপার ? আমার নিজস্ব একটি সমস্যা ? ফরমালিন কি কেবল আমাকেই আক্রমণ করবে ? সমাজের আর কাউকে আক্রমণ করবে না ? চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, ধনকুবের পুঁজিপতি, প্রশাসক, বড় আমলা প্রমুখকে ভয় করে ফরমালিন কি তাঁদের দারেকাছে যায় না ? যাবার তো কথা, এমন তো হবার কথা নয়। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে খাদ্যে ফরমালিনের মিশ্রণ আত্মসমর্পিত ও নির্লিপ্ত বৃহত্তর সমাজের সমস্যা হলেও দেশ-পরিচালক উচ্চমহলের কোনও সমস্যা নয়। তারপরও পশ্ন থেকেই যায়। আসলেই কি দেশ, রাষ্ট্র, আইন এই খাদ্যপণ্যে ফরমালিন মিশ্রণের সঙ্গে জড়িত নয় ? ফল বিক্রেতা, প্রশাসক, চিকিৎসক, ভোক্তা অধিকার আইন, বাজার তদারকি সংস্থা, নাগরিক সমাজের অধিপতি, ভ্রম্যমাণ আদালতসহ বৃহত্তর শ্রমজীবী সমাজের নি¤œ আয়ের মানুষের কি কোনও সম্পর্ক-সংশ্লিষ্টতা নেই এই ফরমালিন-সঙ্কটের সঙ্গে ? এমন কি পৌরসভার ভেতরে প্রাণঘাতী পণ্য প্রকাশ্য দিবালোকে বিক্রয় হলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কীছু করার কি থাকে না ? মনে তাই প্রশ্ন জেগে রয়, এ কেমন পৌরসভা, যে-পৌরসভা তার নাগরিককে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে না, খুনিকে দোকান সাজিয়ে বসতে দেয়, প্রতিনিয়ত তার নাগরিকরা বিষ কিনে খায় আর প্রতিকারহীন মৃত্যুপথের যাত্রী হয়ে উঠে ? বুঝি না, কী করে পৌরকর্তৃপক্ষ নির্বিকার থাকে, নির্বিকার থাকে সাধারণ মানুষ ? যাঁরা ব্যবসা করেন তারা না হয় লাভের লোভে পড়ে প্রকারান্তরে খুনি হয়ে উঠেন, কিন্তু যাদেরকে খুন করা হচ্ছে তাঁরাই বা কেন এই মুনাফা লোভীদের লোভের শিকার হচ্ছেন ? আবস্থাটা একেবারেই বোধগম্য নয়। কিন্তু একটা কীছু কারণ তো অবশ্যই আছে।
মনে হচ্ছে, সমাজের সামগ্রিক দৃষ্টিতে এই সামাজিক সমস্যাটি নিয়তিনির্ধারিত একটা কীছুর মর্যাদা পেয়ে গেছে। এমন মর্যাদায় উন্নীত না হলে সামাজিক সমস্যা হিসেবে সেটাকে সমাজের পক্ষ থেকে প্রতিহত করার চেষ্টা পরিলক্ষিত হতো। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি কোথাও কেউ তো কুটোটি পর্যন্ত নাড়ছেন না। এমন হলে বিষয়টা দাঁড়ায় যে, ফলে ফরমালিন আছে, জানলেই বা কী আর না জানলেই বা কী। ফলে, সবজিতে, মাছ-মাংস ইত্যাদিতে ফরমালিন মেশানো হবে, চূড়ান্ত পরিণতিতে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মৃত্যুবরণ করলে করুক তাতে কারও কীচ্ছু আসে যায় না। মুনাফামুখি কারবার চলছে কি না, কারবারে লাভ হচ্ছে কি না, এই হলো সার কথা। পুঁজির রাজত্বে সবার উপরে মুনাফা সত্য তাহার উপরে নাই এবং এই সত্যের অন্তরালে সমাজটা মুনাফার বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে নিয়তিনির্ধারিত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে এবং চ-ীদাসের ঘোষণা থেকে সরে গিয়ে, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উরে নাই’ এই সত্যকে মিথ্যা করে তুলে প্রকারান্তরে মুনাফার পদতলে মানুষ আত্মসমর্পণ করেছে।

]]>
বাইশের বন্যার ভয়াল স্মৃতি https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4/ Sun, 25 Jun 2023 16:55:43 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165839 খলিল রহমান
১৬ জুন, ২০২২। বেলা করেই আজ বেড়িয়েছি। ১২টা হবে। কাজীর পয়েন্টে এসে পানি দেখি। এটাতে মনে ধরেনি। কিন্তু সামনে এগুনোর পর উকিলপাড়ায় সড়কে পানি দেখে ভাবি, বন্যা তাহলে হয়েই গেল। আগের পানি বাড়ছে রিপোর্ট দিয়েছি। থানার সামনে গিয়ে উত্তরের সড়কে হালকা পানি দেখলাম। ময়লা পানি। নদীর নাকি বৃষ্টির বুঝতে পারিনি। অফিসে গিয়ে বন্যার রিপোর্টের জন্য নানা জায়গায় ফোন করি। এর মধ্যেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। যেন আকাশ ভাইঙ্গা পড়ছে। বন্যা নিয়েই একাধিক রিপোর্ট পাঠালাম। সবশেষ কাগজের জন্য একটি মেইল করে যখন পৌরবিপনির দুতলা থেকে নামি তখন দেখি নিচে পানি। আমি অবাক। প্রবল বর্ষণ, বজ্রপাত। থামছেই না। পৌরবিপণিতে ২০০৪ সালে সামান্য পানি উঠেছিল। আমি পঙ্কজ দার লাইব্রেরিতে এসে দাঁড়াই। সন্ধা নামছে। বৃষ্টি বাড়ছে। বিদ্যুৎ চলে গেছে। আমি মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখে দেখি চার্জ নেই। মোবাইল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রিকশা মিলছে না। অন্ধকার। মানুষ ছুটছে বাড়িঘরে। আমি জালালাবাদ বেকারির সামনে থাকতে থাকতেই দেখি পানি শহরের নাভিমূল আলফাত স্কয়ার ছুয়েছে।
বৃষ্টির জন্য আজ মোটরসাইকেল আনিনি। এখন কিভাবে ফিরব। অটোরকশা, রিকশার জন্য অপেক্ষা করতে করতে আটটা বেজে যায়। কোনো কিছুরই ব্যবস্থা হচ্ছে না। মানুষ যে যেভাবে পারছে বাড়ি ফিরছে। এক পর্যায়ে লাইব্রেরি থেকে স্বপন আমাকে একটি ভাঙা ছাতা দেয়। আমি সেটি নিয়েই বাড়ি পথ ধরি। রাস্তায় কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর পানি। মানুষ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে শুরু করেছে। সড়কে সুরমার ¯্রােত ঠেলে বাড়ি ফিরতে রাত ১০টা বেজে যায়। বৃষ্টি থামছে না। বাড়ির সামনের সড়েক পানি চলে এসেছে। আমার ২০০৪ সালের বন্যার কথা মনে পড়ে। এর সঙ্গে বারবান মনে পড়ছিল বিকেলে যখন ছাতকের ইউএনও মাহমুদুর রহমানকে মুঠোফোনে বন্যার অবস্থা জানতে চেয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, ছাতকের সবাই পানিবন্দী। ছাতকে দাঁড়ানোর মাটি নেই। আমার মনে পড়ে যায়, ২০০৪ সালে ভয়াবহ বন্যার সময়ে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় একটা নিউজের শিরোনাম ছিল ‘সুনামগঞ্জ দাঁড়ানোন মাটি নেই।’
ঘরবন্দী আমি। একটি মোবাইল বন্ধ। অন্যটিতে সামান্য চার্জ আছে। আমি আমার পত্রিকার বিভাগীয় সম্পাদককে বন্যার বিষয়টি জানিয়ে রাখি। সঙ্গে এও বলি আমার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি ভালো না। রাস্তাঘাট সব তলিয়ে গেছে। তবুও কাল অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করব।
রাত বাড়ে, সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি, পানি বাড়তে বাড়তে এক সময় আমাদের উঠানে চলে আসে। রাত ১২ টায় এলাকার কয়েকজন আত্মীয় নৌকা নিয়ে আমাদের বাড়িতে চলে আসেন। সবাই দুশ্চিন্তায়। আমাদের ওঠানে পানি, আমি ভাবি শহরের কোনো বাসাবাড়ি বাকি নেই। রাত ভয়ংকর হচ্ছে। চারটার দিকে ঘরে পানি প্রবেশ করে। ঘরে থাকা সবাইকে তখন দুতলায় তুলে দিই। বিশেষ করে নারী শিশুদের। পানি বাড়ে। নিচে ইট দিয়ে খাট ও আসবাব বাঁচানোর চেষ্টা চলে। আতঙ্ক, ভয়, রাস্তায় আসার পথে কোমরপানি ভেঙে, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে চলা নারী-শিশুদের কথা ভাবতে ভাবতে ভোর হয়।
১৭জুন ২০২২। ভোরের আলো নেই। আছে অন্ধকার।
তখনো তুমুল বৃষ্টি, মুহুর্মুহু বজ্রপাত। যেন ঘরের উপরে, বারান্দায় পড়ছে। জানালা কাপছে। সুনামগঞ্জ বিশ্বের সবচেয়ে বজ্রপাত প্রবণ জেলার যে তকমা পেয়েছে সেটি নিয়ে আর কোনো সন্দেহ রইল না। যে মোবাইলে কিছু চার্জ ছিল সেটি হাতে নিয়ে দেখি নেট নাই। কি করব। অস্থির। কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। সহকর্মীদের সঙ্গে যগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছি। ঘরের উঠানে কোমরপানি, রাস্তায় সাঁতার। কি করব। অস্থিরতা বাড়ে। এর মধ্যে প্রথম আলোর বিশাল বাংলা বিভাগের সম্পাদক তুহিন ভাইয়ের একটি খুদে বার্তা দেখি হোয়াটসঅ্যাপে। লিখেছেন,’কি খবর, আপনারে পাইতাছি না’।
আমি সব জানিয়ে ফিরতি বার্তা দিই। কিন্তু তিনি সেটা পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে না। সুনামগঞ্জের অবস্থা কি, মানুষ কেমন আছে। এই খবর যারা দুনিয়াকে জানাবে তাদের মধ্যে আমি একজন। অথচ আমি নিজেই কিছই জানি না। আমি বিচ্ছিন্ন। আমি একা। আমি ঘরবন্ধী।
আমি সিলেটের সহকর্মী সুমনকুমার দাশকে একটা বার্তা দিই। বলি, নিউজ সিলেট থেকে করতে হবে। সঙে এটাও বলি এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টাতে যেন গুরুত্ব থাকে। কারণ, পরদিন থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। আমি বারবার মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখি। ফিরতি বার্তার অপেক্ষায় থাকি। একসময় ফিরতি বার্তা আসে। আমার বিষয়ে অফিস অবগত। আর এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত। আমি স্বস্তি পাই পরীক্ষা স্থগিতে বিষয়টি জেনে। এরপর এই মোবাইলটিও বন্ধ হয়ে যায়। আমি এখন পুরোপুরি অকর্মা। কারো সঙ্গে আর যোহগাযো নেই। ঘর ভরতি মানুষ। আমি এক কোণায় বসে আছি। আমার স্ত্রী সেটা বুঝতে পারে। শান্তনা দেয় ‘তোমার অবস্থা তো অফিস জানে, তাহলে এ টেনশন করছ কেন।’ আমরা যে কি কষ্ট হচ্ছে সেটি থাকে বোঝাতে পারছি না। আমার চিৎকার করে কাঁদছে ইচ্ছে করছে। আমি সবার থেকে বিচ্ছন্ন। সুনামগঞ্জের খবর জানি না। শহরে কি ঘটছে আমি জানতে পারছি না। কাউকে জানাতে পারছি না। এ রকম অস্থিরতায়, হতাশায় দিন যায়। আবার রাত আসে। গতরাতও ছিলাম মোমবাতির আলোয়। আজ মোমবাতি কম। আলোও কম। ঘুম আসে না। কখন ভোর হবে।
১৮জুন ২০২২। ঘরে এত এত মানুষ। খাবার পানি নেই। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে খাওয়া হচ্ছে। আকাশের কান্না থামছে না। পানি বাড়ছে। তবে কিছুটা ধীরে। যেন আগের দুই দিনের গোসসা কিছটা কমেছে। আজও কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। খাটের ওপর গা এলিয়ে আছি। আমার কোনো কাজ নেই। তবে চিন্তা আছে। কান্না পাচ্ছে। শহরের কতশত মুখ চোখে ভাসে। কে কোথায়, কিভাবে আছে। কারো কোনো ক্ষতি হয়নি তো। আচ্ছা ইন্টারনেট সেবা কেন বন্ধ হলো। অন্য কোনো বিকল্প উপায়ে কি যোগাযোগ করা যায় না। বিকেলে বৃষ্টি কিছটা কমে। আমার একটা নৌকা চাই। আমি বের হবই। অবশেষে আমার এক ছোটভাই পাড়ার পয়েন্টে প্রায় সাঁতরে গিয়ে একট নৌকা জোগার করে নিয়ে এসেছে। আমি বের হলাম। যেদিকে যাই শুধু পানি আর পানি। মানুষের বাসাবাড়িগুলো সুনাসন। যেসব বাসা একতলা তার কোনোটিতেই মানুষ থাকার অবস্থা নেই। রাস্তায় নৌকায় করে মানুষজন এখানে-ওখানে যাচ্ছে। একে অপরের খোঁজ নিচ্ছে। আমি লজ্জা পাচ্ছি। এই দুদিন আমি ঘরে ছিলাম। আহা, মানুষের কত কষ্ট। বৃষ্টি কমায় মানুষজন দুদিন পর বাড়ির ছাদে উঠেছেন। নারী-শিশুরা বাড়ি ছাদ থেকে যতদুর চোখ যায় পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। আমি সোজা গেলাম এ আর জুয়েলে বাসায়। বাসায় নৌকা ভিরিয়ে ডাকাডাকি শুরু করি। কিন্তু সে বাসায় নেই। অনেক্ষণ ডাকাডাকির পর খোঁজ মিলল পাশের বাসার তিনতলায়। বন্যার্ত হিসেবে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। সে জানাল, সবার অবস্থা এক। কেউই কাজ করতে পারেনি। সুনামগঞ্জ দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন। অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। মানুষ দেখা হলে এমনভাবে কুশল জানতে চায় যেন কতকাল পর দেখা। আহা জীবন। নৌকার মাঝির বাড়ি ফেরার তারা। তাই আর শহেরর ভিতর দিয়ে যাওয়া হলো না। অথচ আমার ইচ্ছে করছে আমি। সাতার কেটে পুরো শহর ঘুরে আসি। মানুষদেও দুঃখ দুর্দশা দেখে আসি। সেটি হয় না। আবার ঘরে ফিরি। রাত হয়। আলোহীন, ঘুটঘুটে কালো এই রাত বড় লম্বা।
১৯জুন ২০২২। আজকের সকালটা একটু ফর্সা। বৃষ্টি নেই আবার রোদও নেই। দুদিনের অঘুমা থাকায় ঘুম ভেঙ্গেছে দেরিতে। দুপুরের পর প্রতিবেশি এক ভাগনা আসে। সে বিদ্যুৎ মিস্ত্রির কাজ করে। সে নাকি সৌরবিদ্যুতের প্যানেলে ইনোভেটর দিয়ে মোবাইলে চার্জ দিতে পারবে। আমার অবস্থা দেখে সে এটি কোথায় থেকে জোগার করে নিয়ে এসেছে। আমি তাকে মোবাইল দিই। ঘণ্টাখানেক পর ব্যাটারি কিছুটা চার্জ হওয়ার পর সেটি নিয়ে আসে। আমি মোবাইল নিয়ে তিনতলার ছাদে উঠি। চেষ্টা করি, কিন্তু কারো সঙ্গেই সংযোগ হয় না। ছাদে দাঁড়িয়ে চারপাশটা দেখি। সময় যায়। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে একটা বার্তা ঢুকে। ঢাকা অফিস থেকে, তুহিন ভাই লিখেছেন,‘ খলিল কোথায় আছেন, কেমন আছেন? সুযোগ হলে জানাবেন।’ আমি চমকে উঠি, তাহলে নেটে কাজ করছে। আমি উনাকে ফোন দিই, অফিসের আওে ভাইকে ফোন করি। ফোন যায় না। মনের দুঃখে হোয়াটসঅ্যাপ লিখতে বসি। গতকাল সড়কে বের হয়ে যা দেখলাম। বাড়ির পাশে যা দেখছি। তাই। এরপর আমাদের অফিসিয়াল গ্রুপে সেন্ট করি। গেল না মনে হয়। আমি বসে আছি কারো কোনো সাড়া পাই কিনা। হঠাৎ হোয়াটঅ্যাপে ঢাকা অফিসের হাসনাত ভাইয়ের বার্তা,‘স্টোরি পেয়েছি। ফোন করার দরকার নাই। ম্যেসঞ্জারেই কথা বলব।’ এরপর কথা শুরু। আমার কি আনন্দ। শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে রোরবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় ৬০ ঘন্টা বিচ্ছিন্ন থাকার পর আবার যুক্ত হতে পেরে। যাই পারি, আমি লিখছি। সেন্ট করছি। বড় ভালো লাগছে। আমি তিনতলার ছাদ থেকে নামি না। সিলেট থেকে উজ্জ্বল মেহেদী ফোন দেয়। ‘ভালো আছি’ বলার সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আবার ফোন করি, সংযোগ হয় না। আমার ছোট ভাইও সিলেট থেকে ফোন দিচ্ছে। ধরছি, কথা হচ্ছে। আমার গলা কাঁপছে। গাল বেয়ে অশ্রু ঝরছে…।

]]>
লাম্পি স্কিন রোগে শতাধিক গরু মৃত্যুর খবর সঠিক নয় https://archive.sunamganjerkhobor.com/%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95/ Sun, 25 Jun 2023 16:40:42 +0000 http://sunamganjerkhobor.com/?p=165830 স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজারে লাম্পি স্কিন রোগে শতাধিক গরুর মৃত্যুর বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস।
এর আগে একটি জাতীয় দৈনিকে দোয়ারাবাজারে লাম্পি স্কিন রোগে শতাধিক গরু মৃত্যুর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে এর তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে শনিবার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক গরু মারা যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তবে মাঝে তীব্র গরমের সময় কিছু গরু শরীরে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। ধীরে ধীরে সেসব গরু সুস্থ হয়ে উঠছে। ওইসব এলাকায় টিকা ক্যাম্পেইন কর্মসূচি চলছে।
বাংলাবাজার ইউনিয়নের পশ্চিম পাইকপাড়া গ্রামের দোকানি সুমন মিয়া বলেন, এতো গরু মারা যাওয়ার খবর ঠিক না। তবে দু-একটা গরু মারা গেছে, সেটাও ৫-৬ মাস আগে। তবে এই রোগে মারা গেছে কি না তা নিশ্চিত না।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, তীব্র গরমের সময় এই রোগের বিস্তৃতি মারাত্মক ছিল। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও এতো পরিমাণে গরু মারা যায়নি। এতো গরু মারা গেলে ইউপি সদস্য হিসেবে অবশ্যই আমার কানে আসত।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, এই সংবাদটি দেখার পর ডিজি স্যার আমাকে ফোন দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। আমি শনিবার দিনব্যাপী দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়েছি, মানুষের সাথে কথা বলেছি। গরমের সময় কিছু গরু আক্রান্ত হওয়ার প্রকোপেফ কথা জানিয়েছেন। এখন ঠান্ডা পড়ায় সেই প্রকোপ নেই। আক্রান্ত গরু সুস্থ হয়ে উঠছে। গরু মারা যাওয়ার বিষয়টি একদমই সঠিক না।

]]>