পশুর হাট/নিরাপত্তায় পুলিশ ও সিসি ক্যামেরা

স্টাফ রিপোর্টার
আগামী ২৯ জুন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার ৭০টি জায়গায় বসেছে স্থায়ী অস্থায়ী পশুর হাট। এরমধ্যে স্থায়ী পশুর হাট ২২টি এবং অস্থায়ী ৪৮টি। নির্ধারিত এসব পশুর হাটে বিক্রি হবে কুরবানির পশু। পৌর শহরের জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তার স্বার্থে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও কন্ট্রোল রুম। এদিকে পৌর শহরের বাইরের সকল হাটে পুলিশের কন্ট্রোল রুম এবং পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে পশুর হাটে। হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো এহসান শাহ বলেন, ঈদে সুনামগঞ্জ জেলায় এ বছর ৭০ টি পশুর হাট বসেছে। পৌর শহরের হাটে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য প্রত্যেকটি হাটে আমরা পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। ইজারাদারদের সহযোগিতায় একটি করে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছি। কারো কিছু হারিয়ে গেলে বা জরুরী কিছু ঘটলে যেন সেখান থেকে সহযোগিতা পেতে পারে। এছাড়াও পশুর হাটে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। হাটের নিরাপত্তায় আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সুনামগঞ্জ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার ২২ টি স্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৬ টি। এছাড়াও সুনামগঞ্জ সদরে ৩ টি, বিশ্বম্ভপুরে ২ টি, শান্তিগঞ্জে ২ টি, জগন্নাথপুরে ২ টি, ছাতক ২ টি, ধর্মপাশা ২টি এবং দিরাই, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ১ টি করে স্থায়ী হাট বসবে। একটিও স্থায়ী হাট নেই শাল্লায়। ৪৮ টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬ টি পশুর হাট বসেছে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে। ছাতকে ১০ টি, তাহিরপুর ৬ টি, বিশ্বম্ভপুরে ৬ টি,সুনামগঞ্জ সদরে ৫টি, শান্তিগঞ্জ ২টি, দোয়ারাবাজার ২ টি, দিরাই ১ টি। প্রত্যেকটি অনুমোদিত পশুর হাটে ৭ শতাংশ হাসিল নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। তবে এই হারে হাসিল নিতে চাইলে হাটে ক্রেতা আসবেনা বলে জানান হাট ইজারাদাররা।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার মুজিবুর রহমান বলেন, অনেক বছর ধরে হাট ইজারার সাথে যুক্ত আছি। প্রত্যেকবছর সরকার হাসিলের পরিমাণ নির্ধারণ ক্ক্রে দেয় ৭ শতাংশ। কিন্তু আমরা এতো টাকা নিতে পারি না। আমরা ৪ টাকা বা ৫ টাকা নেই। ৭ শতাংশ হাসিল দিলে কোনো ক্রেতা হাটে আসবেনা। হাসিলের পরিমান না কমালে পশুর হাটে যে সাইনবোর্ড দেয়া হয় সেটা না থাকাই ভালো। ৭ শতাংশ হাসিল দেখলে বাহির থেকেই ক্রেতা বিক্রেতা চলে যাবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট পাথারিয়া বাজারের ইজারাদার আব্দুল মমিন বলেন, বাজারের অবস্থা এই বছর খারাপ। মানুষ ঠিকঠাক মতো ধান পাওয়ার পরও ক্রেতা কম। এমনিতেই গরুর দাম বৃদ্ধি তার উপর যদি সরকার নির্ধারিত হারে টাকা নেই তাহলে মানুষ হাট থেকে গরু কিনবে না। ক্রেতা যেন গরু কিনতে আসে সেই উদ্দেশ্যে টাকা কমিয়ে ২ বা ৩ টাকা হারে নিচ্ছি।