বাংলাদেশ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে লন্ডনে মির্জা ফখরুল

লন্ডন প্রতিনিধি
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর বলেছেন,‘দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ একটি ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিতি  পেয়েছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি দেশের জন্যে অশনি সংকেত।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশ। এদেশের মানুষ গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও পারস্পরিক সহাবস্থানে বিশ্বাস করে’। এসব এড়িয়ে গিয়ে সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসের দায় দেশের বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব।  তার মতে, বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে অভিযুক্ত করার চেষ্টা হাস্যকর।  
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইষ্টলন্ডনের বিএনপি কার্য্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেয়া আদালতের রায় সম্পর্কে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে রাখতেই তার বিরুদ্ধে ৭ বছরের সাজার রায় দিয়েছে আদালত।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২৯টি মামলা হয়েছে। সব কয়টিতে চার্জসিট দেয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৮৬টি‘র উপরে। বিএনপির এমন কোন শীর্ষ নেতা নেই যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। তারা জেল না খাটেননি।
তিনি বলেন, দেশে বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আসামীর সংখ্যা ৫লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ১হাজারের বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছে, ৫শ’র মত নেতাকর্মী গুম হয়েগেছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে চেতনা নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, সেটিকে ভুলুন্ঠিত করে দিয়ে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য একটু ভিন্ন আঙ্গীকে গণতন্ত্রের মোড়কে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কার্যত দেশে একদলীয় শাসন আর সন্ত্রাসের রাজত্বের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ এর পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, হাউস অব কমন্সের সেমিনার থেকে জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লাকে বের করে দেওয়া এটি আমাদের আয়োজকদের নিজস্ব বিষয়।
আমাদের নয় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারের হাইকোর্টের কারাদন্ড ও জরিমানার রায় সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব এটিকে রাজনীতি থেকে তারেককে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘এ মামলার ঘটনার সঙ্গে তারেক রহমানের কোনোই সম্পর্ক নেই প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শুধু তারেক রহমানই নয়, বিএনপির চেয়ারপার্সন তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক হয়রানির কারণে দেশের কারাগারগুলোতে আজ আর তিল ধারণের জায়গা নেই। সরকারের সমালোচনা করলেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় ঢোকানো হচ্ছে জেলে’।  
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, জায়াতকে ছাড়ার কথা তারা যে বলে, এটাত স্ববিরোধী কথা, তারাই জামায়াতকে সাথে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। গোলাম আজম, নিজামী সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এক সাথে সভা করেছেন। বাসায় দায়াত দিয়েছেন।  তিনি বলেন, রাজনীতিতে অনেক সময় অনেক কিছু ঘটে। কিন্তু জাতীয় সংকটে যে নেতৃত্ব জাতীকে ঐক্যবদ্ধ করবে না বিভক্ত করবে তাদের মোটিভ নিয়ে সন্দেহর সৃষ্টি হয়।
আওয়ামীলীগ যদি জামায়াতকে সঙ্গে নিবে না বলে ঘোষনা দেয় তখন আপনারা কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে  সেটি তারা আগে করুন। তারা কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না কেন। তারাতো  সরকারে আছে, জামায়াতকে রাজনীতি করতে দিবে কি দিবে না এই উদ্যোগত তারাই নিতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদী সন্ত্রাসের উত্থানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এগুলোর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু তা না করে কোনো কিছু ঘটলেই বিএনপিসহ বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রকৃত অপরাধীরা’।
‘বিশ্বের যেসব দেশ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে আমরা তাদের পরিণতি দেখতে পাচ্ছি’- এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আর একারণেই দেশের ভবিষ্যত নিয়ে মানুষ আজ শঙ্কিত। রাজনৈতিক সংকীর্ণতা পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশের মানুষের এ শঙ্কা দূর করতে হবে’।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোন ঐক্য সৃষ্টি হয়। আমরা ভাষা আন্দোলনে, স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এক সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছিলাম। সেই জায়গা থেকে দেশবাসীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। দু:খজন হলেও সত্য এই বিভাজ সৃষ্টি করেছে বর্তমান সরকার। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমরা সন্ত্রাস নিমূল করতে পারি।  সন্ত্রাস ও গণতন্ত্রের ইস্যুতে এক না হওয়ারত কোন কারন নেই।