তাড়ল ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুসের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও টাকা আত্মসাতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসি।
সোমবার উপজেলা সদরের থানা পয়েন্টে দুপুর ১২টার দিকে তাড়ল ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এলাকার শতাধিক নারী পুরুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ইউপি সদস্য লাল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক তাজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ, রাশেদ মিয়া, শাফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক ইউপি সদস্য কবির মিয়া, সেনু বেগম, খোদেজা বেগম, আছমা বেগম প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতসহ ভিজিডি, ভিজিএফ ও ট্যাক্সের টাকা আত্মসাত করে আসছেন। পরিষদের সদস্যগণ চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। যার ফলে চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস দুর্নীতির মহোৎসবে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
এলাকাবাসী ও স্বারকলিপি সূত্রে জানা গেছে, ভিজিডি কার্ডের জমাকৃত প্রায় ৫ লাখ টাকা চেয়ারম্যান ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাত করেছেন। করোনা মহামারী ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান সঠিকভাবে বণ্টন না করে আত্মসাত করেন। চেয়ারম্যান পৌর সদরের নিজ বাসায় বসে অফিস করেন যার ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জন্ম নিবন্ধন, উত্তরাধিকারী সনদ দেয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রতি ৫শ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছর ইইতে অদ্যবধি পর্যন্ত পরিষদের ট্যাক্স, জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সম, হোল্ডিং কর ইত্যাদি হতে আদায়কৃত অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে চেয়ারম্যান আত্মসাত করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ার্ড সদস্যগণের প্রাপ্য সম্মানী ভাতা না দিয়ে এবং ওয়ার্ড সভার টাকাও সদস্যদের না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজে আত্মসাত করেন। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত বিভিন্ন কাবিখা ও কর্মসংস্থান কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একজন সদস্য দ্বারা বারবার প্রকল্প কাজ করাচ্ছেন। বিগত ২০১৭ সালের পহেলা জুলাই ভিজিএফ এর ৩০ বস্তা চাউল আত্মসাত করেন। যা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস টেলিফোন বাজারের রাস্তা উন্নয়নের জন্য ইপিজিপি প্রকল্প দিয়ে কাজ করানোর পরও একই জায়গায় আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এলজিএসপির ৪ লাখ ১১ হাজার টাকার আরেকটি প্রকল্প হাতে নেন।
মানববন্ধনে চেয়ারম্যান আবদুর কুদ্দুসের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থসাতের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এলাকাবাসি।