স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজার অগ্রণী ব্যাংক থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবার ঘটনার ক্লো উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। থানা পুলিশের পাশাপাশি, ডিবি পুলিশও এই প্রতারণার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করার কাজে নেমেছে। পুলিশ মনে করছে এটি একটি প্রশিক্ষিত প্রতারক দল। এরা এমন ঘটনা হয়তো আরও ঘটিয়েছে বা আরও ঘটাতেও পারে। পুলিশের সন্দেহের তালিকায় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত বুধবার বেলা ১১ টা থেকে একই হিসাব থেকে তিন দফায় চেক দিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার তিন দফায় চেক ক্যাশ করার সময় একবারও গ্রাহকের হিসাব যাচাই করেন নি।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জিয়াউল ইসলাম লিটন জানালেন, প্রতারকরা ব্যাংকের আরেক অফিসার মাহতাব উদ্দিনের স্বাক্ষর ও সীল জাল করে সরাসরি ক্যাশ
অফিসারের কাছে চেক নিয়ে যায়। ব্যাংকে ভিড় থাকায় ক্যাশ অফিসার সেটি যাচাই করেন নি। তবে তিনি হিসাব যাচাই করে গ্রাহককে টাকা দেওয়া জরুরি ছিল। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছে। দোয়ারাবাজার থানার ওসি মো. নাজির আলম জানান, অগ্রণী ব্যাংক টাকা হাতিয়ে নেবার বিষয়ে কোন মামলা করেন নি। তবে তারা ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করবেন জানিয়েছেন। পুলিশ ও ডিবি স্বউদ্যোগেই ঘটনাটি নিবিরভাবে তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে ওই প্রতারক ও নমিনীর ভোটার আইডি অনুযায়ী ঠিকানায় গিয়ে জানা গেছে, এই দুই নামের কোন মানুষ নেই দোহালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। তাদের ভোটার আইডিও নকল। এ ঘটনায় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারও গাফিলতি ছিল বলে মনে করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত. গত ১৬ আগস্ট মো. ফারুক মিয়া, পিতার নাম কাদির মোল্লা, মাতা মেহেরজান, গ্রাম ভবানীপুর, ইউনিয়ন দোহালিয়া লিখা জাতীয় পরিচয়পত্র (নম্বর- ৯০১৩৩৩২২৮৫৬২৭) দিয়ে দোয়ারাবাজার অগ্রণী ব্যাংকে হিসাব খোলে এক প্রতারক। তার নমিনী দেয় একই গ্রামের মো. আরিফ মিয়াকে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র (নম্বর ৯০১৩৩৩২২৮৫৬৩৫) সহ কাগজপত্র জমা দেয়। তাদের সনাক্ত করেছিলেন উপজেলার পা-ারগাঁও ইউনিয়নের হিম্মতেরগাঁওয়ের বয়োজ্যেষ্ট স্কুল শিক্ষক আরব আলী।
আরব আলী জানান, ব্যাংকে বসা অবস্থায় তার সামনে কাগজ নিয়ে আসলে, তিনি সরল বিশ^াসে স্বাক্ষর করেছিলেন।
হিসাব খোলার সময় প্রতারকরা ৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছিল। ১৭ তারিখ ঢাকা থেকে অনলাইনে আরও ১০ হাজার টাকা জমা দেয়। ২৪ আগস্ট ব্যাংকে এসে চেক বই উত্তোলন করে এবং ওইদিনই ১৩ হাজার টাকা উত্তোলন করে। গত বুধবার তিন দফায় তিন চেক দিয়ে সাড়ে ৮ লাখ উত্তোলন করে পালায় এই প্রতারকচক্র।
ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. জিয়াউল ইসলাম জানালেন, ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।


