সু.খবর ডেস্ক
সরকার ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ২ সেপ্টেম্বর বুধবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সকল সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মুত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই দুঃখজনক সময়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমিও তাঁর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের একজন বিদগ্ধ রাষ্ট্রনায়ক এবং দক্ষিণ এশিয়ার শ্রদ্ধাভাজন নেতা হিসাবে প্রণব মুখার্জি সকলের কাছে শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র ছিলেন।
তিনি বলেন, ভারতের জনগণের কল্যাণে ‘ভারত রত্ন’ প্রণব মুখার্জির নিরলস কর্মকান্ড শুধু ভারত নয়, এই অঞ্চলের দেশগুলোর আগামী প্রজন্মের নেতাদের প্রেরণা যোগাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের একজন ‘প্রকৃত বন্ধু’ ছিলেন। আমাদের দেশের জনগণ তাঁকে উচ্চ মর্যাদা দেয় এবং ভালবাসে।
তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে বিশেষ করে ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে তাঁর মেয়াদকালে দৃঢ় সমর্থন ও অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে তাঁকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ প্রদান করে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতির জন্য ভারতের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও শোক জানাচ্ছি। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি সোমবার নয়াদিল্লীর আর্মি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ১০ আগস্ট তাঁকে সেখানে ভর্তি এবং মস্তিষ্কে সার্জারি করা হয়। এরপর তিনি কোমায় চলে যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি করোনায়ও আক্রান্ত হন।
সূত্র : বাসস


