জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার হবিবপুর কেশবপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ২০২০ সালের দাখিল পরীক্ষার ব্যবহারিক ও মৌখিক তিন বিষয়ে এক শিক্ষার্থীকে সর্বনিম্ন নম্বর প্রদানের মাধ্যমে অপূরনীয় ক্ষতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক আশু পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীর বাবা।
গত বুধবার জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে শিক্ষার্থীর বাবা অভিযোগ করেছেন। এর আগে গত ২২ আগস্ট তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও গর্ভনিং বডির সভাপতি বরাবরে লিখিত আবেদনে এমন দাবি জানান।
জগন্নাথপুর পৌরসভার কেশবপুর কলেজপাড়ার বাসিন্দা শুয়াইবুর রহমান লিখিত অভিযোগে বলেন, তার ছেলে মাসউদুর রহমান রোল নং ২৬৫৫০৫ কে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞান খেলাধুলা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষক সর্বনিম্ন নম্বর দিয়ে মাধ্যমে তার ফল বিপর্যয় ঘটিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, মাসুদুর রহমান মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রথম শ্রেণী থেকে দাখিল দশম শ্রেণী পর্যন্ত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করে দাখিল টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে। দাখিল পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে তাহার প্রাপ্ত গ্রেড নম্বর ৩.৮৮ (ধ-) অনলাইন থেকে মার্কসিট বের করে দেখা যায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয় পরীক্ষায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীকে ২৪-২৫ নম্বর প্রদান করেছেন। শুধু মাত্র মাসুদুর রহমান কে ১৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষার অন্য দুই বিষয় শারীরিক শিক্ষা স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা ব্যবহারিক পরীক্ষার মোট ১০০ নম্বর। ঐ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সকল শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ নম্বর ৮১ থেকে ৯৮ নম্বর প্রদান করেছেন। শুধু মাত্র মাসুদুর রহমান কে ৭৬ নম্বর প্রদান করা হয়েছে। ক্যারিয়ার শিক্ষার ব্যবহারিক মৌখিক বিষয় পরীক্ষায় মোট নম্বর ২৫। ঐ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সকল শিক্ষার্থীকে ২৪ থেকে ২৫ নম্বর প্রদান করেন। শুধু মাত্র মাসুদুর রহমান কে সর্বনিম্ন ১৪ নম্বর প্রদান করেন। এতে করে মেধাবী শিক্ষার্থীর সাথে অবিচার করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ব্যবহারিক পরীক্ষার নাম ভাঙ্গিয়ে বিনা রশিদে ছাত্র প্রতি ১৫০ টাকা হারে ৩৭ জন শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ৫৫৫০ টাকা আদায় করেছিলেন। এতে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা মনোক্ষুন্ন হয়। মানবিক কারণে আমি এর প্রতিবাদ করেছিলাম। এটাই হতে পারে মাসুদুর রহমানকে নম্বর অবমূল্যায়নের কারণ।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আমি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পূণ নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ফলাফলে একই থাকে। ব্যবহারিক বিষয় পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট মূলত তিন জন। প্রিন্সিপাল আবদুল হাকিম, অফিস সহকারী মাহমুদুল হাসান ও ইবতেদায়ী জুনিয়র শিক্ষক ছানাওর আলী।
প্রিন্সিপাল আবদুল হাকিম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।
- ‘ইউএনও ওয়াহিদা যথেষ্ট বিপজ্জনক অবস্থায় আছেন’
- দিরাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন


