তাহিরপুরে আদিবাসীদের মাঠ দখল নিয়ে ২ পক্ষে উত্তেজনা

তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুর সীমান্তের কড়ইগড়ার খেলার মাঠ দখল নিয়ে স্থানীয় আদিবাসী এবং অন্য জেলা থেকে আসা বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। আদিবাসীরা মাঠটিকে নিজেদের দখলীয় দাবি করে, এটি এখন নতুন বসতি স্থাপনকারীরা দখলের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। একাধিকবার চেষ্টা করেও এই বিষয়টি শালিসে নিস্পত্তি করা যায় নি। গত ৭ সেপ্টেম্বর আদিবাসীরা তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।
আদিবাসীদের লিখিত আবেদনে দাবি করা হয়েছে, উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কড়ইগড়া বড়গোপটিলায় একসময় কেবল আদিবাসীদেরই বসবাস ছিল। কয়েক বছর হয় পাহাড় দখল করে এখানে অন্য জেলা থেকে আসা কিছু মানুষ বসতি স্থাপন করেছেন।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের জ্যেষ্ঠরা দাবি করেছেন, ১৯৪৮ সনে পাহাড়রূপি বড়গোপটিলাটির গাছ-গাছালি পরিষ্কার করে আদিবাসীরা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। প্রতি বছরই ফুটবল-ক্রিকেটসহ টুর্নামেন্ট আয়োজন জাতীয় দিবস, আদিবাসী দিবস উদযাপন করে আসছেন তারা এই মাঠে। কয়েক মাস আগে সরকারি খাস জমি দখল করে বসবাসকারি কিছু যুবক জোরপূর্বক মাঠ দখল করতে এসে আদিবাসীদের সঙ্গে বিরোধে জড়ায়। তারা মাঠে টাঙানো আদিবাসীদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিচারণমূলক সাইনবোর্ডটি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আদিবাসীদের মাঠে না আসতে নিষেধ করেছে। আদিবাসীরা স্থানীয় ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ গণ্যমান্যদের কাছে এই বিষয়টি অবগত করেছেন। কিন্তু স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এখনো বিষয়টি নিস্পত্তি করতে পারে নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দাখিলকারী মাঠ পরিচালনাকারী সুনীল দাজেল ও সেক্রটোরি সঞ্জীব দলবৎ বলেন, আমাদের পূর্ব-পুরুষরা কয়েক বছর ধরে টিলায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। ১৯৪৮ সনে আমাদের পূর্বপুরুষরা পাহাড় পরিষ্কার করে যে মাঠ তৈরি করেছিলেন আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই মাঠে খেলাধুলাসহ নানা কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু কয়েক মাস হলো কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক জোরপূর্বক মাঠ দখলের চেষ্টা করছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম বলেন, আমি উভয় পক্ষকে মাঠে যাওয়া থেকে নিভৃত করেছি। আমার মেয়ের বিয়ের জন্য শালিস যথাসময়ে করতে পারি নি। তবে বিষয়টি যেহেতু ষ্পর্শকাতর তাই প্রশাসনকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে চাই।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন বলেন, আদিবাসীরা পূর্ব থেকে এখানে বসবাস করে আসছেন। এখন কিছু মানুষ মাঠটির দখল নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে সোমবার বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করা হবে।
বিশ^ম্ভরপুর ও তাহিরপুরের বন বীট কর্মকর্তা বীরেন্দ্র কিশোর রায় অবশ্য বলেছেন, এই মাঠের জমি নিয়ে বহুদিন ধরেই দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আছে। প্রকৃতপক্ষে এই জমি জেলা প্রশাসনের এক নম্বর খাস খতিয়ান ভুক্ত। বনভূমির জন্য এই জমি বন সম্প্রসারণকে দেবার জন্য বহু আগেই জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, আমার অফিসে এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। খোজ নিয়ে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, এই টিলাটিতে একসময় আদিবাসীরাই থাকতেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিভিন্ন সময়ে বাস্তচ্যুত হয়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনও এখন বসবাস করছেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে এই বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য বলেছি।