হাসপাতালের পাশে ময়লার ভাগাড়

স্টাফ রিপোর্টার
জনসচেতনতার অভাব ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের পূর্ব পাশে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীর ব্যবহার্য জিনিসপত্র ফেলে হাসপাতালের জায়গা সহ কলেজের মাঠেও এই ময়লার স্তূপে ভরাট হয়েছে। এসব বর্জ্য বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ছড়ায়। নিয়মিত পরিষ্কার ও রোগীদের সচেতন না করতে পারলে হাসাপাতাল এলাকায় বসবাসরত মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ৮ তলা ভবনটির পূর্ব পাশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এই ৮ তলা ভবনের পূর্ব দিকেই রয়েছে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের মাঠ। হাসপাতালের দেয়াল টপকিয়ে মাঠের এক পাশে ধীরে ধীরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সৃষ্টি হচ্ছে। সেখান থেকে উড়ছে মাছি, মশা। বাতাসে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
এদিকে জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের মেয়েদের পুরাতন হোস্টেল হাসপাতাল ভবনের পাশেই অবস্থিত। হাসপাতালের এসব আবর্জনা থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধ হোস্টেল এলাকায় ছড়াচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ থাকায় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী নেই। একারণে তাদের প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের তরং গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল। খালাকে নিয়ে ভর্তি আছেন হাসপাতালে,
আছেন ৬ তলায়। প্রায় ১৫ দিন ধরে সকালে আসেন হাসপাতালে, যান রাতে।
তিনি বলছিলেন, রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজন এসব ময়লা ফেলেছেন। পলিথিন, কলার খোসা, ওষুধের খোসা, খাবার সহ সবকিছু ফেলা হয় জানালা দিয়ে। অথচ নির্দিষ্ট জায়গা আছে এসব ফেলার। নার্সরা সাবধান করে যান, কিন্তু কে শুনে কার কথা।
হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মো. আবু তাহের মিয়া বলেন, সদর হাসপাতাল ভবনের পিছনে নিচেই যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে ময়লা আবর্জনা। এসব ময়লা আবর্জনা আলাদা করে ধ্বংস করা দূরের কথা, স্তূপাকারে জমে আছে বহুদিন ধরে। আর দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশেপাশের বাসা বাড়িতে। রাস্তায় চলতে গেলে রুমাল দিয়ে নাক ঢাকতে হয়। করোনাকালে অধিক সচেতন থাকার কথা, সেখানে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। উপর থেকে নিচে ময়লা ফেলায় ভবনটিও সৌন্দর্য হারিয়েছে। তাই এসব ময়লা আবর্জনা নিচে না ফেলে, নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কর্তৃপক্ষকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার তার ফেইসবুক ওয়ালে এই বিষয়ে লিখেছেন, স্পষ্টভাবে দেখা যায় দেওয়ালের উপরের কাঁটাতারের ঝুলছে অসংখ্য ময়লাযুক্ত পলিথিন। এসব পলিথিনগুলো হাসপাতালের উপর থেকে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। অথচ রোগীর ব্যবহার্য সবকিছু একস্থানে জমা করার জন্য রয়েছে ঝুড়ি বা গামলা। কিন্তু ঝুড়ি বা গামলা খোঁজার সময় কই! ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় জানালা দিয়ে। যা চলছে নিয়মিত।
তিনি আরো বলেন, যদিও সচেতন অনেক রোগী এসব কাজ করেন না। ময়লা নিচে ফেলে দেওয়ার সময় কিছু কিছু হাসপাতালের দেওয়ালে আটকে যাওয়া। উপর থেকে ছুড়ে ফেলার সময় কিছু ময়লা সরকারি কলেজের জায়গায়ও পড়ে। রোগী হিসেবে সরকারি সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও প্রকৃতি এবং পরিবেশকে করা হচ্ছে অসুস্থ্য।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মাজহারুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল বর্জ সবচেয়ে ক্ষতিকারক। রোগীদের ফেলা বর্জ সরকারি কলেজের মাঠেও পড়ছে। এতে মাঠ দূর্ষিত হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি রোগীরা যেনো এভাবে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা জানালা দিয়ে না ফেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানাই।
সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন বলেন, গ্রামের মানুষ সচেতন নয়। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে বলি ময়লা আবর্জনা জানালা দিয়ে না ফেলতে। আমরা ওয়ার্ড থেকে সরে যেতেই আবার ফেলে দেয়। তবে আমরা আমরা চেষ্টা করছি মানুষকে সচেতন করার।