ছাতক-ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ অস্থিত্ব সংকটে আরো দু’টি ট্র্যাসেল ভেঙে পড়ার আশংকা

বিজয় রায়, ছাতক
অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের একমাত্র ছাতক-ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ অস্থিত্ব হারাতে বসেছে। প্রায় দ’ুবছর পূর্বে বর্ষা মৌসুমে হাওর অঞ্চলে একটি ট্র্যাসেল ফাউন্ডেশন সহ উপড়ে পড়লে ছাতক-ভোলগঞ্জ রজ্জুপথ ব্যবস্থা তছনছ হয়ে পড়ে। বর্তমানে আরো অন্তত দু’টি ট্র্যাসেল উপড়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। গত দু’ বছরের মধ্যে ভেঙে পড়া রজ্জুপথের কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। রজ্জুপথ রক্ষায় জোড়ালো কোন পদক্ষেপও নেয়নি কর্তৃপক্ষ। নৌ-পথে দুর্ঘটনা এড়াতে পড়ে যাওয়া ট্র্যাসেল এলাকায় লাল পতাকা উড়িয়ে দায় সেরেছে রোপওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকে যত্রতত্র পড়ে আছে মুল্যমান রজ্জু ও বাকেট। অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা রজ্জুপথ গত দু’ বছরে টিলা ও হাওড়াঞ্চলের ট্র্যাসেলগুলোর সাপোর্ট এ্যাঙ্গেল চুরি    হয়ে যাওয়ায় একাধিক ট্র্যাসেল অত্যন্ত দুর্বল হয়ে গেছে। যে কোন মুহূর্তে ট্র্যাসেলগুলো ভেঙে পড়ার আশংকা রয়েছে। রেলওয়ে বিভাগের অবহেলার কারণে কয়েক কোটি টাকার সরকারি সম্পদ পড়ে আছে অরক্ষিতভাবে। বিষয়টি অবগত থাকা সত্বেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে রজ্জুপথ রক্ষায় কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
শিল্পনগরী হিসেবে খ্যাত ছাতকের শোভাবর্ধন করাসহ এই রোপওয়ে দীর্ঘ প্রায় ৪০বছর ধরে নজর কাড়ছিল মানুষের। রজ্জু ছিঁেড় ও ট্র্যাসেল পড়ে যাওয়ার কারণে রজ্জুপথ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।  পাথর পরিবহনে ৪শ’২৫টি বাকেট নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ৩শ’৫টি সচল রয়েছে। অকেজো অবস্থায় ১শ’২০টি বাকেট গুদামে রক্ষিত রয়েছে। রজ্জুপথে পাথর পরিবহনের উপর ভিত্তি করে এখানের সহ¯্রাধিক শ্রমিক-ব্যবসায়ী জীবিকা নির্বাহ করতো। রোপওয়ে ব্যবস্থা স্থায়ী বন্ধের আশংকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক শ্রেণির লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা ।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ছাতক রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অফিসের কর্মচারীরা জানান, তিনি এখানের দায়িত্বে থাকলেও অবস্থান করেন ঢাকায়। তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানান।
২০১৪ সালে রজ্জুপথ তছনছ হওয়ার পর তৎকালীন রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল জলিল এ ব্যাপারে জানিয়েছিলেন,পুরোনো যন্ত্রপাতি ও রজ্জু দুর্বল হওয়ায় ছিঁড়ে গিয়ে লাইন বন্ধ হয়ে আছে। লাইন মেরামতের পরিকল্পনা নিলে অবশেষে ট্র্যাসেল পড়ে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। লাইন স্থায়ী বন্ধের কোন সম্ভাবনা নেই-তবে চালু হতে বেশ সময় লাগবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।’