শাল্লা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী শিশুদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিন্দু তালুকদার
শাল্লা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রতিবদ্ধী শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানা-জানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রতিবন্ধী শিশুদের অভিভাবক। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দীন গত দুই অর্থ বছরের ৬০ হাজার টাকা করে ১লাখ ২০ হাজার আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য মালামাল ক্রয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা এবং আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ (শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান ও অতিথিদের আপ্যায়নসহ সকল খরচ) ১০ হাজারসহ মোট ৬০ হাজার টাকা এবং বর্তমান ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এই টাকা ভুয়া বিলভাউচার দিয়ে তিনি তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিশু সৌরভ রায়, সন্দিপ রায় ও সবুজ শুক্লবৈদ্য। সবুজ শুক্লবৈদ্যের মাতা খেলন রানী শুক্লবৈদ্য বলেন, আমার দুটি বাচ্চা প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। এরমধ্যে আমার বড় ছেলে সবুজ শুক্লবৈদ্য দুই বছর যাবত প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি আছে। কারণ আমার ছেলেটা প্রতিবন্ধী, হাঁটতে পারে না, ঠিকমত হামাগুড়িও দিতে পারে না। তার স্কুলে যাওয়ার প্রচন্ড আগ্রহ। আমাকে কোলে করে স্কুলে নিতে আনতে হয়। আমরা গরীব মানুষ, বাজারের হোটেলে কাজ করি। তাই সময়মত স্কুলে নিতে পারি না। টাকার অভাবে হুইল চেয়ার কিনতে পারি না।  আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম সরকার আমাদের দেয়, কিন্তু আমাদের হক জিনিস অফিসাররা মাইরা খায়। এর বিচার হওন দরকার।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জিত চৌধুরী বলেন,‘ আমার বিদ্যালয়ে তিন প্রতিবন্ধি ছাত্র রয়েছে। তাদের আজ পর্যন্ত কোন ধরনের উপকরণ দেয়া হয়নি। এই খাতে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে তা আমি জানি না। ’
ডুমরা রসিকলাল স. প্রা. বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লোকেশ চন্দ্র দাস জানান,আমার স্কুলে দুইজন প্রতিবন্ধি ছাত্র রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে এবছর তারা কোন ধরনের উপকরণ বা সহায়তা পায়নি।
মুক্তারপুর স. প্রা. বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বদেশ রঞ্জন তালুকদার বলেন,‘ আমার স্কুলের প্রাক প্রাথমিক শাখায় একজন প্রতিবন্ধি ছাত্র রয়েছে। সে কোন ধরনের উপকরণ পায় নি। ’
তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দিন সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন,‘ আমি সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করিনি। টাকা উঠিয়ে রেখেছি, এখন আবেদন গ্রহণ করছি। সব বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী ছাত্রকেই এসব উপকরণ দেয়া হয় না। যারা আবেদন করবেন তাদেরকেই এসব উপকরণ দেয়া হবে। কত টাকার মালামাল ক্রয় করা হবে, সভা করতে কত টাকা খরচ করা হবে। তার সকল হিসাব আমি পাই পাই করে শিক্ষা কমিটির কাছে জমা দেব। কম খরচে ও সহজে মালামাল আনার জন্য ময়মনসিংহ থেকে উপকরণ আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হযরত আলী বলেন,‘ বিষয়টির খোঁজ খবর নেয়া হবে। এবিষয়ে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।