ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার সুনই নদী জলমহাল নিয়ে সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুবল চন্দ্র বর্মণ ও কো-অপ্ট (বিশেষ বিবেচনায়) সভাপতি চন্দন চন্দ্র বর্মণের লোকজনের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে অবৈধ দাবি করে ক্রমশ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে জলমহাল দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। উপজেলা সমবায় কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনই নদী জলমহাল ১৪২২ থেকে ১৪২৭ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা পায় সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ। সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুবল চন্দ্র বর্মণ ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। এ সময় হাইকোর্ট সুবল চন্দ্র বর্মণকে কার্যকরী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইজারাপ্রাপ্ত জলমহালের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। এ নিয়ে সুবল চন্দ্র বর্মণ ও চন্দন চন্দ্র বর্মণের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। চলতি বছরের শুরুতে চন্দন চন্দ্র বর্মণের বিরুদ্ধে সমবায় বিধি লংঘন করে ইজারা হস্তান্তরের অভিযোগ ওঠে। ফলে গত ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা চন্দন চন্দ্র বর্মণকে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিস্কারের জন্য জেলা সমবায় কর্মকর্তাকে সুপারিশ করেন। সম্প্রতি চন্দন বর্মণ ও তার লোকজন জলমহালে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হলে তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। মৎস্য কর্মকর্তা গত ১৫ নভেম্বর জলমহাল সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেন জলমহালটি সুবল চন্দ্র বর্মণের দখলে থাকায় চন্দন চন্দ্র বর্মণ জলমহালে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না। জলমহালে প্রবেশাধিকার নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারমুখী অবস্থান বিরাজ করছে। এ দিকে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনের বিরুদ্ধে ওই জলমহালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ করেন চন্দন বর্মণ ও তার লোকজন। তবে এমপি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং জলমহালের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন।
চন্দন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘কাগজপত্র অনুযায়ী আমরা বৈধ ইজরাদার। প্রত্যেক বছরই আমরা খাজনা পরিশোধ করছি। এ বছরও ৩২ লাখ টাকা খাজনা দিয়েছি। জলমহালে প্রবেশাধিকার না পেয়ে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলাম। বিষয়টি মৎস্য কর্মকর্তা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছেন। বৈধ কাগজ থাকা সত্ব্যেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।’
সুবল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশে আমি জলমহালে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছি। জলমহালের সাথে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘জলমহাল নিয়ে যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সে ব্যাপারে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তালেব বলেন, ‘আইনিভাবে এক পক্ষ জলমহালে থাকবে। অফিসিয়ালি সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর যারা বৈধ তারাই বৈধভাবে জলমহালে থাকবে।’


