মুক্তিযোদ্ধা খেতাব চান অশীতিপর চিকিৎসক সতীশ চন্দ্র দাশ

আকরাম উদ্দিন
মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে ভারতের বালাট ক্যাম্পের অস্থায়ী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দেবার দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ। কিন্তু যুদ্ধের ৪৯ বছর পরেও ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভূক্ত হতে পারেন নি। জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পাবার আকাঙ্খা তাঁর।
সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা-৩৫, ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা ক্ষেত্র মোহন দাশ এবং সুখদা সুন্দরী দাশের পুত্র ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ। জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ। বয়স ৯০ বছর এই চিকিৎসকের। বয়সের ভারে শরীরে বার্ধক্য বাসা বেঁধেছে এখন। ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্ত চাপে আক্রান্ত হয়ে শয্যাসায়ী ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ। বিছানায় বসেই কথা বলছিলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে।
ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের বালাট ক্যাম্পের অস্থায়ী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর মইলাম অস্থায়ী হাসপাতালে ডাক্তার হিসাবে নিয়োগ পান। স্বাধীনতা
যুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস চিকিৎসা সেবার দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়ে আসছিলেন ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ। সেই সাথে শত শত শরণার্থীদেরও চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তিনি। ভারতের বালাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মইলাম হাসপাতালে গিয়েও মহামারীতে আক্রান্ত মানুষদের চিকিৎসা সেবা দেন।
ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ জানান, ৫ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মীর শওকত আলী বা সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর মোতালিবের কাছ থেকে কোনো সনদ আনেন নি তিনি। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৬ ফেরুয়ারি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির ৭ জনের স্বাক্ষরিত তালিকায় ৩৩ নম্বরে তাঁর নাম অন্তর্ভূক্ত হয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভূক্ত হয়নি।
পাকিস্তান শাসনামল থেকেই সুনামগঞ্জ শহরে স্বনামধন্য চিকিৎসক ছিলেন ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে এল.এম.এফ ডিগ্রী নিয়ে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হন তিনি। তৎকালীন সময়ে শহরের কয়েকজন চিকিৎসকের মধ্যে ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ ছিলেন অন্যতম। চিকিৎসা সেবায় রোগীদের সাথে ভিজিটের সম্পর্ক ছিল না তাঁর। ছিল আন্তরিকতা ও মানবতা। রোগীদের সাধ্যমত ভিজিট দিতো। ডা. সতীশ চন্দ্র দাশের চেম্বার ছিল শহরের কালীবাড়ি পয়েন্টে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বালাটে ভারতীয় ডা. কাউলি, ডা. জয়রাম, উমেশ চক্রবর্তী, রাজু, সুনামগঞ্জের ডা. মকব্বির আলী, ডা. সতীশ চন্দ্র দাশ চিকিৎসা সেবায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় বালাটে সুনামগঞ্জের কমরেড বরুণ রায়, আব্দুজ জহুর, হোসেন বখত, আলফাত উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, মনোয়ার বখত নেক, সালেহ আহমদ, মতিউর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল মজিদ বলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তালিকায় ডা. সতীশ চন্দ্র দাশের নামও আছে। পর্যায়ক্রমে এই তালিকার সকল নাম চূড়ান্ত তালিকা হয়ে আসবে। এই জন্য কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাজী নুরুল মোমেন বলেন, সুনামগঞ্জের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বালাটে যারা চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের যাচাই-বাছাই করার জন্য আলাদা কমিটি আছে। ওই কমিটি যাছাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করবে।