দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে। কৃষি পুনর্বাসন, কৃষি প্রণোদনা সহ সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ করেছেন কৃষক রিয়াদ আহমদ।
সম্প্রতি অভিযোগের অনুলিপি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তররের মহাপরিচালক, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত বালাই ব্যাবস্থাপনা প্রকল্প খামার বাড়ি ডাল তেল (৩য় পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক, দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
জানা যায়, চলমান কৃষি প্রণোদনার ভালো মানের বীজ ক্রয় করার কথা থাকলেও সোহরাব হোসেন নিম্নমানের বীজ কিনে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করছেন। আন্ত পরিচর্যা ও বেড়ার নির্মাণের জন্য কৃষকদের নামে যে চেক দেওয়া হয় সেই চেক সোহরাব হোসেন নিজেই ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নিয়ে আসেন অথবা কৃষক ছাড়াই অন্য লোক দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) প্রকল্পের টাকা বিভিন্ন স্কুলের নামকরণ ও নামমাত্র ফটোসেশন করে টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি। নিরাপদ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে জৈব কৃষি বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকরণ ক্রয় করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করার কথা থাকলেও উপজেলার কৃষকগণ বঞ্চিত হয়েছেন। খামার যান্ত্রিকী প্রকল্পের আওতাধীন কৃষকদের মাঝে সরকারি ভর্তুকি মূল্যে যে সকল মেশিনারী দেওয়ার কথা, সেই সকল মেশিনারি সোহরাব হোসেন তার নিকট আত্মীয়দের নামে দিয়েছেন। রাজস্ব প্রদর্শনী, ডাল, তেল, বাদাম, সরিষা প্রদর্শনীর অধিকাংশ বরাদ্দ দেয়া হয় তার নিজ আত্মীয় স্বজনের মাঝে। ইউনিয়ন ওয়ারী খুচরা সার বিক্রেতার নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও রাজস্ব প্রকল্পের সমস্ত সমন্বয় বিল ভাউচার ও ব্যাংকের চেক বহি অফিস সহকারীর কাছে থাকার কথা থাকলেও নিয়ন্ত্রণ করছেন সোহরাব হোসেন।
এ বিষয়ে উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার সোহরাব হোসেন বলেন, আমার কাছে অফিসের কাগজপত্র থাকে না। এসব প্রকল্পের বিষয়ে আমরা কোন দায়িত্ব নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অফিসের কাজ করার জন্য আামাকে বলেছেন। এর জন্য আমি অফিসে কাজ করি। তাই এসব দুর্নীতির সাথে আমার সম্পৃক্ত থাকার কোন সুযোগ নেই। আমার পরিবারের সবাই চাকরিজীবী, আমার দুর্নীতি করার মন মানসিকতা নেই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সবটাই মিথ্যা।
উপজেলা কৃষি অফিসার শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমি ছুটিতে আছি, জানতে পেরেছি একটা অভিযোগ করা হয়েছে।
সার বীজ ক্রয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা ডিলারের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা বীজ ক্রয় করে দিতে পারেনি এজন্য আমরা নিজেই ক্রয় করেছি। বীজ ক্রয়ের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাইনি এটা ঠিক আছে, পরে জানিয়ে দেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা বলেন, বীজ ক্রয় কমিটিরতে আমি আছি, কিন্তু বীজ ক্রয় করার সময় আমাকে কেউ জানায়নি। একটা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।


