পাগলা কুকুড়ের কামড়ে আহত ১০, আতঙ্কে এলাকাবাসি

স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বম্ভরপুরে এক পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ১০জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কৃষ্ণনগর, রাধানগর, শ্রীধরপুর, বিশ^ম্ভরপুর গ্রাম ও বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বিশ্বম্ভরপুর বাজারে, বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের শ্রীধরপুর, উপজেলা সদরের নতুনপাড়া রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মী ও শিশুসহ ১০জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী (৫০), ফতেপুর ইউনিয়নের কৌয়া গ্রামের বিধান বিশ্বাসের ছেলে নীরব (১০), বিশ্বম্ভরপুর গ্রামের শ্যামল বিশ্বাসের ছেলে মাধব বিশ্বাস (৪), শ্রীধরপুর গ্রামের আব্দুল গফ্ফারের ছেলে কামাল উদ্দিন (২৭), চিনাকান্দির সিলদোয়ার গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে মারুফ (৯), শ্রীধরপুর গ্রামের রবীন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে বিষ্ণু বিশ্বাস (৩০), মুক্তিখলা গ্রামের তফাজ্জল হোসেন (৩৮), শ্রীধরপুর গ্রামের গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের ছেলে নির্মল বিশ্বাস (১০), চান্দারগাঁও গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে রবিউল আউয়াল (২৭) , হবিবনগরের গ্রামের মৃত্য আবুল হোসেনের ছেলে মো. আবুল করিম (৬০)।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, এই পাগলা কুকুরটা দেখতে স্বাভাবিক কুকুরের চেয়ে কিছুটা বড়। যাকেই সামনে পেয়েছে কামড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে কামড়ায় এই পাগলা কুকুর। সন্ধ্যার দিকে এই পাগলা কুকুর বাজারে প্রবেশ করলে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়।
কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা ধরণী বর্মণ বলেন, আমরা আতঙ্কে রয়েছি। কখন এই পাগলা কুকুড় আবার আসে।
একই গ্রামের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জর গৌস্বামী বলেন, বাড়ির শিশুরা ভয়ে আছে। কেউ বাসা থেকে বের হচ্ছে না। বাজারেও যাচ্ছি না। এখনও প্রশাসন কুকুরটিকে ধরতে পারছে না।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের ভেটেরিনারী সার্জন ডা. আশিকুজ্জামান বলেন, আমি এখন ফাউন্ডেশনে প্রশিক্ষণে রয়েছি। ভ্যাকসিন দেয়ার দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক আবুল বাশার মো. ওসমান হায়দার মজুমদার জানান, এই পর্যন্ত ১০ জন কুকুড়ে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে এসেছেন। একজন এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এক শিশুকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়েছি।
হাসপাতালে ভ্যাকসিন আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন নেই। যারা আসছেন তাদের ব্যবস্থাপত্রে সব লিখে দিয়েছি। বাইরে থেকে হয়ত কিনবেন তারা। সবাই ভ্যাকসিন নেয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেন নি এই কর্মকর্তা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় আমরা খবর পেয়েছি। বাজার কমিটির সভাপতিকে বলা হয়েছে কুকুরটিকে ডিসপোজাল করার জন্য। এখনও কুকুরটিকে ধরতে পারেনি। তবে খুব শীঘ্রই কুকুরটিকে ডিসপোজাল করা হবে।
কুকুড়ে কামড়ানো ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন দেয়া নিশ্চিত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে যারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেছেন তাদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে। ভ্যাকসিন না নিয়ে থাকলে আমরা ব্যবস্থা করে দেবো।