স্টাফ রিপোর্টার
বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে কন্ঠ রোধ এবং একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে ‘কবিতা মিছিল’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সবাই এসেছে তুমি আসোনিকো, ডাকে মিছিল’ শিরোনামে রবিবার বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় মিছিল। এসময় তাদের কণ্ঠে ছিল শলিল চৌধুরী, সুকান্ত ভট্টাচার্য্য, ইসতেকবাল হোসেন, আল মাহমুদের বিভিন্ন কবিতা আর গানের পঙ্ক্তিমালা।
‘ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ দুপুর বেলার অক্ত বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ? বরকতের রক্ত’, ‘বাংলা আমার বচন, আমি/জন্মেছি এই বঙ্গে’, ‘আমি বাংলার গান গাই’ বিভিন্ন কবিতা ও গান গেয়ে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি। হাতে ছিল কবিতা ও গানের পঙ্ক্তিমালা সম্বলিত প্ল্যকার্ডও। এরপর পুনরায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিল শেষে আবারো শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কবিতা আবৃত্তি করেন তারা।
একুশে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে প্রেরণা যুগিয়েছে। তাইতো ‘কবিতা মিছিল’ এ বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা করার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ চালু করার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে মানুষের কন্ঠ রোধ করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ প্রসেনিয়াম থিয়েটার অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রদর্শণ করে নাটক ‘মিউট’। দেবাশীষ তালুকদার শুভ্রর নির্দেশনা ও রচনায় নাটকটি ২য় বারের মতো প্রদর্শিত হয়।
আবৃত্তি সংগঠন ‘সত্যশব্দ আবৃত্তি ও অভিনয় চর্চা কেন্দ্র’ এর আয়োজনে এবং সুনামগঞ্জ প্রসেনিয়াম থিয়েটার এর বাস্তবায়নে ‘কবিতা মিছিল’ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, ভাষা আন্দোলন নিজের অধিকার নিজে বুঝে নেওয়ার সাহস যোগায়। আমরা ধারণ করি যে, কবিতা কেবল কবিতা নয়। কবিতা হচ্ছে স্লোগান, কবিতা হচ্ছে বিদ্রোহ, কবিতা হচ্ছে দাবি আদায়ের ভাষা। ইতিহাস সাক্ষী, অধিকারে যতোবার টান পড়েছে ততোবার স্লোগানে স্লোগানে ডাক এসেছে মিছিলের।
এই ধারণা থেকেই ‘কবিতা মিছিল’ আয়োজনের ভাবনাটি আসে সুনামগঞ্জের আবৃত্তি সংগঠন ‘সত্যশব্দ আবৃত্তি ও অভিনয় চর্চা কেন্দ্র’র। এই আয়োজন বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসে সত্যশব্দের অভিভাবক সংগঠন ‘সুনামগঞ্জ প্রসেনিয়াম থিয়েটার’। মিছিলের আহবানে শহরের নানা সংগঠন ও সংস্কৃতি কর্মী মিছিলের মহড়ায় যোগ দেন। প্রায় শতকণ্ঠে ৪ দিনের মহড়ায় শলিল চৌধুরী, সুকান্ত ভট্টাচার্য্য, ইসতেকবাল হোসেন, আল মাহমুদের কবিতা উচ্চারিত হয়।


