দোয়ারায় দুই সাব ইন্সপেক্টর ক্লোজড্

স্টাফ রিপোর্টার
ভারতীয় মদ উদ্ধার করে জব্দ তালিকায় না ওঠিয়ে বিক্রি করে দেওয়ায় দোয়ারাবাজার থানার দুই সাবইন্সপেক্টরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড্ করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। ক্লোজড হওয়া সাবইন্সপেক্টর দুজন হচ্ছেন এস আই নোবেল সরকার ও এসআই অপূর্ব কুমার সাহা। এমন অপরাধের জন্য এই দুই সাবইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দোয়ারাবাজার থানার বাংলাবাজার এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন দোয়ারাবাজার থানার এসআই নোবেল সরকার ও অপূর্ব কুমার সাহা।
অভিযানকালে বাংলাবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কলাউড়া গ্রামের আবুল হাসেম’এর ছেলে মনির হোসেন এবং উত্তর কলাউড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মো. আলামিন মিয়াকে ৪ কার্টন অফিসার চয়েসসহ আটক করেন তারা। পরে ১ কার্টন অফিসার চয়েস জব্দ দেখিয়ে এই দুইজনের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন এস আই নোবেল সরকার। অন্য তিন কার্টন অফিসার চয়েস তানিয়েল নামে তাদের পরিচিত বাংলাবাজারের এক তরুণের কাছে বিক্রি করে দেন এই দুই সাব ইন্সপেক্টর।
গত মঙ্গলবার ডিবি পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর শামীম আখঞ্জি তানিয়েলের ভাই তানভিরের বাংলাবাজারের দোকান থেকে তিন কার্টন অফিসার চয়েস উদ্ধার করেন। এসময় তানভির এই অফিসার চয়েস দোয়ারাবাজার থানার এস আই নোবেল ও অপূর্ব রেখে গেছেন বলে জানায়।
বিষয়টি জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানলে সরেজমিনে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান। প্রাথমিকভাবে তিনি বিষয়টির সত্যতা পান।
পরে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে ওই দুই সাবইন্সপেক্টরকে পুলিশ লাইন্স সুনামগঞ্জে সংযুক্ত করার জন্য দোয়ারা বাজার থানা ও পুলিশ লাইন্স সুনামগঞ্জের আর আইকে নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের এই নির্দেশে শুক্রবার এই দুই সাব ইন্সপেক্টরকে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।
দোয়ারা বাজার থানার ওসি মো. নাজির আলম জানান, মাদক বিরোধী অভিযানে গিয়ে সঠিকভাবে জব্দ তালিকা না করায় দুই সাবইন্সপেক্টরকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড্ করার পুলিশ সুপারের নির্দেশের চিঠি বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি পেয়েছেন। এই দুই সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।