ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের কাহালা গ্রামে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী গ্রামীণ মেলা। প্রতি বছর এ দিনে কাহালা গ্রামে শ্রী শ্রী জয় মা কালীপূজা উপলক্ষে এ মেলা বসে। মনোবাসনা পূরণ হবে এমন বিশ্বাস হৃদয়ে ধারণ করে পূণ্যার্থীরা আসেন কালীপূজায়। মেলায় দূর দূরান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সমানতালে এতে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয়রাও। একদিকে পূজা অন্যদিকে গ্রামীণ মেলা বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ও হাজার বছরের সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অন্যরকম আবহ তৈরি এখানে। মেলায় দর্শনার্থীরা যেমন আনন্দ উপভোগ করেন তেমনি বিভিন্ন দোকানীদের ব্যবসাও হয় ভালো।
তবে দুর্গম ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ থেকে এ মেলা এবং পূজায় আসা ব্যক্তিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এখানে কোনো বিশ্রামাগার বা কোনো গৃহ না থাকায় প্রচন্ড রোদে কষ্ট করতে হয় দর্শনার্থীদের। এছাড়াও পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তৃষ্ণা মেটাতে ছুটতে হয় দূরের গ্রামগুলোতে। ভালো জলাশয় বা পুকুর না থাকায় ময়লা ডোবাতে পূণ্য¯œান সাড়তে হয় আগতদের। স্যানিটেশনের ব্যবস্থা না থাকায় আগত নারীদের পড়তে হয় চরম বিপাকে। তাই এখানে একটি নলকূপ স্থাপন বা পুকুর খনন, বৃক্ষরোপন ও যাতায়াতের সড়ক মেরামত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শ্রী শ্রী জয় মা কালীপূজা কমিটির সভাপতি অজয় তালুকদার বাপ্পী বলেন, ‘কবে থেকে এ পূজা শুরু হয়েছে তা স্থানীয় মুরুব্বীদেরও অজানা। পূজা উপলক্ষে মেলা বসে প্রতি বছর। পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে এখানে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা জরুরি। বিশ্রামের জন্য একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ হলে দীর্ঘ বছরের দুর্ভোগ লাঘব হবে।’
মধ্যনগর থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কান্তি সরকার বলেন, ‘মধ্যনগর থেকে কাহালা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে বা সাবমারজেবল রাস্ত নির্মাণ করা হলে এই এলাকার মানুষ যেমন উপকৃত হবে তেমনি মেলায় ও পূজায় দর্শনার্থীরা সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

চামরদানি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়াসিল আহমেদ বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এ মেলা ও পূজা এক অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে জাগ্রত করে। সেখানে সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।’


