হামলাকারী স্বাধীন মিয়ার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লায় হিন্দ ধর্মাবলম্বি অধ্যুষিত গ্রামে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী শহিদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়ার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। এছাড়া অন্য ২৯ জন আসামীকে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রোববার বিকালে পুলিশ আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শাল্লা জোনের বিচারক শ্যামকান্ত সিনহার আদালতের হাজির করে এই রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত আজ রিমান্ড শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করেননি। শহিদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, সুনামগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. সেলিম নেওয়াজ।

এর আগে শুক্রবার ভোর রাতে ইউপি সদস্য যুবলীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে শনিবার বেলা ১১ টায় স্বাধীন মিয়াকে শাল্লা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ আজ রোববার দুপুরে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে।

এদিকে শনিবার ভোররাতে এই ঘটনায় আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামী শহিদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াসহ রোববার সকাল পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৩ জনকে।

প্রসঙ্গত জাতিরজনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা বুধবার হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করেছে নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ বাড়িতে। এসময় গ্রামের ৫ টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে এই তা-ব চালানো হয়।

গত সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই স্টেডিয়ামে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। এসময় ধর্মীয় উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন মামুনুল হকসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা।