ঝুমন দাশের মায়ের মামলা দায়েরের আবেদন

স্টাফ রিপের্টার
শাল্লা উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে শাল্লা থানায় একটি মামলা গ্রহণের আবেদন করেছেন নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ঝুমন দাশের মা নিভা রানী দাশ। মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে গ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন নিভা রানী দাশ।
এ প্রসঙ্গে শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হক বলেছেন, তারা ঝুমন দাশের মা নিভা রানী দাশের মামলার আবেদনের কপি পেয়েছেন। আবেদনটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিভা রানী দাশ বেলা ১১টার দিকে থানায় গিয়ে এই লিখিত আবেদন দিয়েছেন বলে ওসি জানিয়েছেন।
ডনভা রানী দাশের মামলার আবেদনে আসামি হিসেবে ৭২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি রাখা হয়েছে আরও দুই হাজার। এর মধ্যে নাচনি গ্রামের ইউপি সদস্য যুবলীগের স্থানীয় নেতা স্বাধীন মিয়া, কেরামত আলী, ইমামত আলী, ইনাম আলী, মির্জা হোসেন, নেহার আলী, ফখর উদ্দিন ওরফে ফুক্কন আলীর নামও আছে আসামির তালিকায়।
নয়াগাঁও গ্রামে হামলার ঘটনায় এর আগে থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় ঝুমন দাশও কারাগারে আছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
লিখিত অভিযোগে নিভারানী দাশ উল্লেখ করেছেন, তাঁর ছেলে ঝুমন দাশ আপনের ফেসবুকে একটি অনাকাঙ্খিত পোস্টের জের ধরে ১৭ মার্চ সকালে আসামিরা দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নয়াগাঁও গ্রামে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এই হামলার নেতৃত্ব দেন নাচনি গ্রামের স্বাধীন মিয়া ও ফখর উদ্দিন ওরফে ফুক্কনসহ অন্য আসামিরা। এ সময় ঝুমন দাসের স্ত্রী সুইটি রানী দাশের শ্লীলতাহানী ও তাকে মারধর করা হয়। তিনি বাম হাতের কুনইয়ে আঘাত পেয়েছেন। এ সময় তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও ঘরের ট্রাংকে থাকা ৫৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় আসামিরা। একই সময় গ্রামে ৮৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের সঙ্গে মন্দিরও ভাংচুর করা হয়। কষ্টি পাথরের কয়েক লাখ টাকার মূর্তিসহ ৮০-৯০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় আসামীরা।