দোয়ারাবাজারে “মুক্তিযোদ্ধা ব্রিজ”

অধ্যক্ষ মো: ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক
সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বৃহদংশ অতীতে ছাতক থানার অন্তর্গত ছিল এবং ছাতকের ৬টি ইউনিয়ন ও সুনামগঞ্জ সদর থানার ১টি ইউনিয়ন নিয়ে মোট ৭টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত দোয়ারাবাজার উপজেলা যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ খ্রীষ্টাব্দ সনে। এর আগে ১৯৭৬ খ্রীষ্টাব্দ সনে থানা স্থাপিত হয়েছিল। সুরমা নদী বিধৌত এ উপজেলার বর্তমান ৯টি ইউনিয়নের ৬টি উত্তর পারে এবং ৩টি দক্ষিণ পারে অবস্থিত। উত্তরে ভারত সীমান্ত, দক্ষিণে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও ছাতক, পূর্বে ছাতক এবং পশ্চিমে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ।
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা-হকনগরে মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সেক্টর এবং সেলা সাব সেক্টরের সদর দপ্তর অবস্থিত ছিল। এখান থেকে প্রয়াত এম.এন.এ জনাব আব্দুল হক ৫নং সেক্টরের উপদেষ্টা হিসাবে, লে: জেনারেল (অব:) মীর শওকত আলী বীরউত্তম সেক্টর কমান্ডার হিসাবে এবং লে: কর্নেল আবু সৈয়দ হেলাল উদ্দিন  সাব সেক্টর কমান্ডার হিসাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। বর্তমান মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মুহিবুর রহমান মানিকের প্রচেষ্টায় ক্রমান্বয়ে কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ সহ বাঁশতলা-হকনগর বর্তমানে বিশেষ পর্যটন স্থানে পরিণত হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের যুদ্ধ, মহব্বতপুরের যুদ্ধ, বালিউরার যুদ্ধ, বেটিরগাঁও এর যুদ্ধ, নৈনগাঁও যুদ্ধ, টেবলাইর যুদ্ধ, দোয়ারাবাজারের যুদ্ধ সহ অসংখ্য গৌরবময় স্মৃতি এবং নৈনগাঁও গণহত্যা সহ অনেক দু:খজনক স্মৃতি রয়েছে। প্রায় ১৪জন যুদ্ধাহত ও প্রায় ২১ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সহ মোট ৮৫২ জন তালিকাভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গ এ উপজেলায় বসবাসরত আছেন। এছাড়া তালিকা বর্হিভূত মুক্তিযোদ্ধা এবং সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন আরও অনেকে। এর মধ্যে ১৯৭৩ এর গেজেটভূক্ত “বীরপ্রতীক” খেতাপ্রাপ্ত তিনজন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “বীরপ্রতীক” সনদপ্রাপ্ত রয়েছেন একজন।
লাখো মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর স্বাধীন বাংলাদেশ আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে চলছে। মহান ¯্রষ্টার অশেষ কৃপায় বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আজ দেশের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ সহ প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-সিলেট রাস্তার সকল ব্রিজ ইতোমধ্যেই প্রশস্ত করে নতুনভাবে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। সুনামগঞ্জে সুরমা নদীতে আবদুজ জহুর সেতু নির্মাণের ফলে জেলার বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত হয়েছে। ছাতকে সুরমা নদীর অর্ধসমাপ্ত ব্রিজের কাজও সমাপ্তকরণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। জগন্নাথপুরের রাণীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যা দ্বারা সুনামগঞ্জ-ঢাকা সড়কপথের দূরত্ব অনেক খানি কমে যাবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সকল এবং সুনামগঞ্জ সদর ও ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলের জনগণও যাতে উপযুক্ত উন্নয়নের সুফল পেতে পারেন সে জন্য এখানকার বিপুল সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সহযোগী আপামর জনসাধারণ দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে “মুক্তিযোদ্ধা ব্রিজ” নাম দিয়ে সুরমা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তাঁদের এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দানের জন্য ২৪ মার্চ ২০১৪ দোয়ারাবাজারে মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনাব এমএ মান্নান এমপি এবং মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মুহিবুর রহমান মানিক মহোদয়গণ আশ্বস্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে গত ১ জুলাই ২০১৬ মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনাব এমএ মান্নান এমপি, মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মুহিবুর রহমান মানিক এবং মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব শেখ রফিকুল ইসলাম মহোদয়গণ সম্মিলিতভাবে আলোচনাক্রমে এল.জি.ই.ডি এর মাধ্যমে দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর উপর “মুক্তিযোদ্ধা ব্রিজ” নির্মাণের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় সুস্পষ্ট ঘোষণা দান করেন। দোয়ারাবাজার উপজেলাবাসী এবং সুনামগঞ্জ সদর ও ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলের আপামর জনসাধারণের একান্ত প্রত্যাশা যে, তাদের স্বপ্নের “মুক্তিযোদ্ধা ব্রিজ’ এর পরিমাপ যথাশীঘ্র সম্পন্ন করে পরিকল্পনা গ্রহণের এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
লেখক:চেয়ারম্যান, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ